অবরুদ্ধ করে রেখেছে অসহায় হালিমাকে উঠানে টয়লেট ও বাগানের পথে বেড়া দিয়ে

অবরুদ্ধ করে রেখেছে অসহায় হালিমাকে উঠানে টয়লেট ও বাগানের পথে বেড়া দিয়ে

দেশের খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অবরুদ্ধ করে রেখেছে অসহায় হালিমাকে উঠানে টয়লেট ও বাগানের পথে বেড়া দিয়ে

প্রতিনিধি: স্থানীয় ভুমিদস্যু তুজাম্মেল খাঁর বিরুদ্ধে অসহায় একটি পরিবারের বাড়ীর আঙ্গিনা জবর দখল করে কাঁচা টয়লেট নির্মান ও যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে ঐ পরিবারকে ভিটেবাড়ী থেকে বিতাড়িত করার গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান,এ্যাসিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঐ ভুমিদস্যুর বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করলেও কোন সুফল পাননি ভুক্তভোগী হালিমা। উপজেলার মোমিনপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মোমিনপুর গ্রামের মৃত আনার আলীর মেয়ে হালিমা বেগম তার স্বামী ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পৈর্তৃক সূত্রে পাওয়া মোমিনপুর মৌজার সরকারী খাঁস খতিয়ানের ১৩১৩ দাগের ৬৯ শতক জমির মধ্যে ১২ শতক জমির উপর ঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে হালিমার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করতে প্রতিবেশী মৃত বাখের খাঁর ছেলে স্থানীয় ভুমিদস্যু তুজাম্মেল খাঁ বিভিন্ন ভাবে হুমকী-দামকি, যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ, বাড়ীর আঙ্গিনা দখল করে পায়খানা ঘর নির্মানসহ গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

অসহায় হালিমা অভিযোগ করে বলেন, তার বয়স এখন প্রায় ৪০ বছর। জন্মের পর থেকে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সরকারী খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন। তার স্বামী মিজানুর রহমান পেশায় একজন দিন মজুর। তার একমাত্র উপর্জনের টাকায় ৩ সন্তানের লেখাপড়া ও সংসার চলে। বড় ছেলে ইউসুফ এবার কেশবপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচ,এসসি পরিক্ষার্থী, মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া কেশবপুর পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী ও ছোট ছেলে প্রান্ত মোমিনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেনীর ছাত্র। ছেলে মেয়েদের মানুষ করতে স্বামীর পাশাপাশি তাকেও হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয় অভাবের সংসারে। তার কোন ভাই নেই,আছে এক বোন। সে বিয়ে করে স্বামীর ঘরে থাকে। কিন্তু তিনি স্বামীর বাড়ীতে না যেয়ে বাপ-দাদার ভীটেবাড়ীতে স্বামীকে নিয়ে মাটি কামড়িয়ে বসবাস করে আসছেন। বাপের ভিটাতে থাকাটা তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারন তার সম্পত্তির উপর অনেক আগে থেকেই নজর পড়ে প্রতিবেশী পরসম্পদ লোভী ভুমিদস্যু তুজাম্মেল খাঁর। সে চেয়েছিল হালিমা শ্বশুর বাড়ীতে গেলে তার সকল সহয় সম্পত্তি ভোগ-দখল করবে। তিনি বাপের ভীটায় রয়ে যাওয়ায় তার সকল স্বপ্ন ভেস্তে যায়। তাই সে তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

সে তার বাড়ীর আঙ্গিনার আংশিক জবর দখল করে সেখানে কাঁচা পায়খানা ঘর করেছে। যার দূরগন্ধে ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়াসহ বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তুজাম্মেল তাকে ভীড়েবাড়ী থেকে বিতাড়িত করতে ব্যর্থ হয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে তার যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয়।

কোন উপয়ন্তর না পেয়ে সে(হালিমা) বাড়ীর পিছন দিয়ে বাঁশ বাগান দিয়ে সরকারী রাস্তায় উঠার বিকল্প পথ বের করে। সেখানেও বাঁধা, বর্তমানে সেটি বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকিয়ে দিয়েছে। যার ফলে বর্তমানে তিনি তার পরিবার নিয়ে অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছেন।

প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারপিটের শিকার হতে হয়েছে কয়েক দফা। এঘটনায় তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান, এ্যসিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন সুবিচার পায়নি বলে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে তুফাজ্জেল খাঁর সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান, হালিমা তার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তিনি কারো সম্পত্তি জবর দখল করেনি এবং তিনি তার নিজের জমিতে পায়খানা ঘর নির্মান করেছেন। তার পায়খানা থেকে কোন দূর্গন্ধ ছড়ায় না। কারো পথ আটকানোর জন্য নয়, সম্পদের নিরাপত্তার জন্য তিনি তার জমিতে বেড়া দিয়েছেন।  ভিজিট করুন

ফ্রান্সে মহানবী (সাঃ) এর ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে কলারোয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ