অভয়নগরের রাজঘাটের নামকরণের ইতিহাস

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যশোরের চাঁচড়ার শুকদেবের পর রাজা হন তাঁর পুত্র নীলকন্ঠ রায়। তিনি ছিলেন বারো আনা সম্পত্তির মালিক।

তাঁর রাজত্বকাল ১৭৪৫ থেকে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ১৯ বছর। চাঁচড়া সংক্রান্ত প্রাচীন কাগজপত্র থেকে জানা যায় যে, রাজা নীলকন্ঠ রায়ের সময়ে ভাস্কর পন্ডিত নামে দুর্দান্ত সেনানীর অধিনে মারহাট্রা বা বর্গী সৈন্য ভারতের বর্ধমান অঞ্চলে আক্রমণ করে। তাকে বর্গী হাঙ্গামা বলে।

বর্গীর উৎপাত সমগ্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। তখন ভয়ে দেশ ছেড়ে যে যেখানে পারলেন আশ্রয় নিলেন। এই সময়ে চাঁচড়ার রাজা নীলকন্ঠ রায়ও আশ্রয়ের জন্য স্থান খুঁজছিলেন।

তখন তাঁর দেওয়ান অভয়নগরের বাঘুটিয়া হরিরাম মিত্র তাঁর প্রিয়পাত্র ছিলেন। রাজা তাঁকে ভৈরবকুলে কোন দুরবর্তী স্থানে গড়বেষ্টিত রাজবাড়ি নির্মাণ করার আদেশ দিলেন।

হরিরামের নিজেরও কোন পাকা বসত বাড়ি ছিল না। এজন্য রাজা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তার নিজের জন্যেও একটি বাড়ি প্রস্তুত করতে বললেন। উভয় আদেশ দ্রুত পালন হলো।

বাঘুটিয়ার কাছে অভয়নগরের হরিরামের নিজের বাড়ি এবং আরও দুরবর্তী ধুলগ্রামে সুন্দর এক রাজবাড়ি নির্মাণ করা হলো। অভয়নগরের বাড়িটি কাচা গাঁথুনি ছিল এবং তা তেমন উচ্চ বা দৃঢ় প্রাচীরে বেষ্টিত ছিল না। উভয় বাড়ি পরিখা-বেষ্টিত, একদিকে ভৈরব নদ ও অন্য তিনদিকে গড়খাই ছিল।

বাড়ি নির্মাণের শেষ সময়ে রাজা এসে বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং বলে যান রাজাদের অস্থায়ী নিবাস তেমন ভাল হওয়ার প্রয়োজন নেই। অতএব, দেওয়ান যেন ধুলগ্রামের বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং রাজাদের জন্য অভয়নগরের বাড়িই যথেষ্ট।

অভয়নগরে আসবার সময় রাজা সদলবলে ভৈরব নদ পার হয়েছিলেন। যে স্থান পার হয়েছিলেন, তার নাম রাজঘাট। পরবর্তী সময়ে দেওয়ান স্বরুপচন্দ্র মিত্র রাজঘাটে বস করেছিলেন।-সাজেদ রহমান,সিনিয়র সাংবাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.