অমুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেট থেকে বাদ দেয়ার দাবিতে কেশবপুরে সংবাদ সম্মেলন

জাতীয় খবর মুক্তিযুদ্ধ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ১ মার্চ।। রবিবার বিকেলে কেশবপুরে ৪৩জন তালিকাভুক্ত বিতর্কীত মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেট থেকে বাদ দেয়ার দাবিতে কেশবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। প্রেসক্লাবের হল রুমে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্য পাঠকালে মুক্তিদোদ্ধা মোহাম্মদ আলী জানান, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০১ সালের পর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল কার্যালয় জোর পূর্বক দখল করা হয়। ২০০৪ সালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলে মনগড়া একটি কমিটি গঠন করে। ২০০৫ সালে ভূয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাবেক কমান্ডার প্রয়াত কামালউদ্দীনের নেতৃত্বে প্রয়াত কমান্ডার আনিছুর রহমান খান গংরা রাজাকার, আলবদর ও অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম গেজেটে অন্তর্ভূক্তির জন্যে সুপারিশ করেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেশবপুরে বিতর্কীত বা অমুক্তিযোদ্ধার সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে চলতে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরোধ। ২০০৯ সালে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ৪৩ জন বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘদিন পর ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু করলে আব্দুস সামাদ খানসহ ২২ জন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। যার নং- ৫১২২/১২।

তিনি জানান, ২০১৪ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এর ৬২তম সভার সিন্ধান্তের আলোকে কেশবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্যকুল গ্রামের মৃত আব্বাজ আলী গাজীর ছেলে মোঃ লুৎফর রহমানের গেজেট নং-২৬৫৯ বাতিল করা হয়। এমতাবস্থায় তাঁর অনুকূলে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা প্রদান বন্ধ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য যশোর জেলা প্রশাসককে পত্র প্রদান করা হয়েছে।

২০০৯ সালে কেশবপুরের অভিযোগকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসিফ মাহমুদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৪৯ জন গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্ত করেন।

ওই তদন্তে মাত্র ৬ জন প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণাদি ও ৩ জন ভারতীয় তালিকা/লাল মুক্তিবার্তার মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে স্বাক্ষ্য প্রমাণ করলেও বাকি ৪৩ জন কোন প্রকার স্বাক্ষী আনতে সক্ষম হননি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, কেশবপুরের বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধারা মনগড়া ও মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, ফজলুর রহমান, শাহাবুদ্দীন, রশিদুল হক, আমির আলী, লিয়াকত হোসেন, আদিত্য কুমার দত্ত, আবুল হাসান খান, আবদুল লতিফ, সামসুর রহমান, আবদুস সাত্তার, আবুল হোসেন প্রমুখ। -কবির হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.