অযোধ্যা পাহাড় আর জলধারা প্রাকৃতিক সৌদার্য

আন্তর্জাতিক
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

সাজেদ রহমান।।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার অযোধ্য পাহাড়ের নাম করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ছোটো-বড়ো টিলা আর পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা লাল মাটির রূপকথা।

আদিবাসীরা মনের আনন্দে গান গেয়ে বেড়ান এখানে। শহুরে মানুষও সেখানে পৌঁছলে কৃত্রিমতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা খেপা বাউলকে জাগিয়ে তোলেন।

কিংবা বলা যায়, পুরুলিয়ার স্বর্গীয় মায়ায় সেই বাউল জেগে ওঠে নিজেরই খেয়ালে। শিমুল-পলাশের জঙ্গল ভেদ করে ঢিমে তালে নদী বয়ে চলেছে। তার জল স্পর্শ করলে শহুরে ক্লেদ দূর হয়ে যায় এক লহমায়। ছৌ-এর আঙ্গিকে ধরা পড়ে জীবনের গূঢ় সত্যটা।

স্থানীয় লোকেরা বলে থাকেন, ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র ও সীতাদেবী বনবাসের সময়ে অযোধ্যা পাহাড়ে এসেছিলেন। সীতাদেবী তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লে রামচন্দ্র তির মেরে মাটির থেকে জল বের করেন।

সেই থেকে এখনও সেখানে অবিরত জলের ধারা বেরিয়ে আসছে। জায়গাটি সীতাকুণ্ড নামে খ্যাত। এটি আসলে আর্টেজীয় কূপ। তপ্ত গ্রীষ্মকালে আশেপাশের নলকূপ এবং জলের অন্যান্য উৎসগুলি থেকে কখনও কখনও জল মেলে না। কিন্তু হিলটপের কাছে সীতাকুণ্ড থেকে সর্বদাই ঠান্ডা জল পাওয়া যায়।

বসন্তকালে যদি অযোধ্যা পাহাড়ে যান, পলাশ এবং শিমুল ফুলের সৌন্দর্য প্রাণ খুলে উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া বর্ষাকাল এবং শীতকালেও আলাদা আলাদা মায়াবী রূপে সেজে ওঠে অযোধ্যা পাহাড়। জংলি পশুপাখিরও দেখা মিলতে পারে এখানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.