আজ কিংবদন্তি বেগম আখতারের ১০৬তম জন্মদিবস

আজ কিংবদন্তি বেগম আখতারের ১০৬তম জন্মদিবস

বিনোদন কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
আজ কিংবদন্তি বেগম আখতারের ১০৬তম জন্মদিবস
আজ কিংবদন্তি বেগম আখতারের ১০৬তম জন্মদিবস। জন্মনাম আখতারি বাঈ ফৈজাবাদি। মাত্র তেরো বছর বয়সে মা মুশতারি বাঈয়ের হাত ধরে কলকাতায় এসেছিলেন সেই গান পাগল কিশোরী। সঙ্গে ছিলেন গুরু উস্তাদ আতা মোহাম্মদ খাঁ।
কথিত ছিল ভারতবর্ষের একমাত্র সংগীতের শহর এই কলকাতা। উস্তাদজির মতো আখতারির মা-ও ভেবেছিলেন এই অনুকূল পরিবেশ মেয়ের সংগীতশিক্ষা ও প্রতিভাবিকাশের জন্য সহায়ক হবে। সেই স্বপ্ন শেষমেশ সার্থক হল। কিশোরীটি পরবর্তীতে হয়ে উঠবেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সম্রাজ্ঞী বেগম আখতার। গায়কির জন্য যিনি পেয়েছিলেন বিশেষ উপাধি – ‘গজলের রানি’।
আজও বাঙালি হৃদয়ে যে গানের সুর আর গায়কি আঁকা আছে, তা হল ‘জোছনা করেছে আড়ি’। বেগম আখতার যখন গেয়ে ওঠেন, “গলি দিয়ে চলে যায়/ লুটিয়ে রুপোলি শাড়ি/ চেয়ে চেয়ে পথ তারই,/ হিয়া মোর হয় ভারি/ রূপের মধুর মোহ,/ বলোনা কী করে ছাড়ি”। বাংলা গানের ইতিহাসে তেমনই একটি সৃষ্টি “জোছনা করেছে আড়ি”। গাইছেন বেগম আখতার, কথা ও সুর দিচ্ছেন রবি গুহ মজুমদার।
কলকাতা তথা বাঙালি পরিবেশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানিয়ে নিয়েছিলেন বেগম আখতার। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যকে আশ্রয় করে সত্যজিৎ রায়ের ‘জলসাঘর’ চলচ্চিত্রের সেই গানের মায়াবি মাদকতায় আজও আচ্ছন্ন সংগীত রসিকেরা। সেই সঙ্গে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে দুর্গাবাঈ-এর চরিত্রে অভিনয় করা বেগম আখতার। সত্যজিতের অনুরোধ ফেলতে পারেননি তিনি।
বাঙালির হৃদয়ে দাগ কেটে নিয়েছে ‘জোছনা করেছে আড়ি’, ‘পিয়া ভোলো অভিমান’, ‘কোয়েলিয়া গান থামা’। আবার একই সঙ্গে ‘আই মোহাব্বত’, ‘উয়ো যো হাম মে তুম মে’ অথবা মির্জা গালিব রচিত ‘ইয়ে না থি হামারি কিসমৎ’ বাঙালির কাছে কোনোদিনই পুরোনো হবে না। সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.