আজ “সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড”এর আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠবে

মুক্তিযুদ্ধ জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

ছয় মাস পর আজ শুক্রবার যশোরে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠবে মঞ্চ আয়োজনের। শুক্রবার আনুষ্ঠানিক মঞ্চায়ন উপলক্ষে শিল্পকলা মিলনায়তনে চলেছে মহড়া। শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নির্বাচিত শিল্পীদের সমন্বয় এবং অংশগ্রহণে মঞ্চস্থ হবে এ গীতি নৃত্য নাট্য। একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ আয়োজন করা হচ্ছে। অপেক্ষা এখন সেই শুভক্ষণের।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোর এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টিকারী জেলা। মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ এবং মুক্তিকামী মানুষের প্রতিরোধে এই জেলা দেশের মধ্যে প্রথম শত্রুমুক্ত হয়।

মুক্তিযুদ্ধে যশোর রোড ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের পাতায়। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ এলে যশোর রোডের কথা আসবেই। আশ্রয়ের খোঁজে অসহায়, নির্যাতিত বাঙালি এই রোড ধরেই ভারতে গিয়েছিল।

 

সে সময় মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু অ্যালেন গিন্সবার্গের ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ এর মাধ্যমে বিশ্বের বুকে বাংলাদশের মুক্তিযুদ্ধ উপস্থাপিত হয়। নিপীড়িত মানুষের হাহাকার, যুদ্ধের বাস্তবচিত্র কবিতার থরে থরে জানান দেয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার দৃশ্য।

মার্কিন কবি, গীতিকার, আলোকচিত্রী এবং মঞ্চ অভিনেতা অ্যালেন গিন্সবার্গের সেই কালজয়ী কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কে উপজীব্য করে যশোরে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে গীতি নৃত্য নাট্য।

 

শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে মুজিববর্ষের সেপ্টেম্বরেই আয়োজিত এ অনুষ্ঠান স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ সকল মুক্তিযোদ্ধা ও গিন্সবার্গের মতো বন্ধুদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ বলে মনে করছেন শিল্পকলা কর্তৃপক্ষ।

১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর কবলমুক্ত যশোরে স্বাধীন বাংলার প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই জনসভায় মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সবাইকে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলা আহ্বান জানিয়ে ছিলেন।
ওই জনসভায় ওয়াশিংটন পোস্ট, লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ ও নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার প্রতিনিধিসহ বহু বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীন বাংলার প্রথম জনসভা: ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর যশোর টাউন হল ময়দানে স্বাধীন বাংলার প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধু
হানাদার মুক্ত বাংলার প্রথম জনসভায় প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আর ধ্বংস নয়, যুদ্ধ নয়। এই মুহূর্তে কাজ হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলা।’ সেদিন তিনি সর্বস্তরের মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। জনগণ সেদিন আনন্দ মিছিলে মিছিলে মুখরিত করে তোলেন। সূত্র- যশোর খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.