ইলামপুর বনের রাস্তায় ঢুকলেই মনটা ভালো হয়ে যায়

ইলামপুর বনের রাস্তায় ঢুকলেই মনটা ভালো হয়ে যায়

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইলামপুর বনের রাস্তায় ঢুকলেই মনটা ভালো হয়ে যায়

ইলামপুর বনের রাস্তায় ঢুকলেই মনটা ভালো হয়ে যায়

শান্তিনিকেতনে গেছি বহুবার। আমার প্রিয় জায়গা। বেশি গেছি বনগাঁ থেকে। একাবার গেছি কলকাতা থেকে। ইলামবাজার ফরেষ্ট হলো । অন্য রকম। কলকাতা থেকে বর্ধমানের পানাগড় থেকে যে রাস্তাটা সোজা গেছে ইলামবাজার হয়ে বোলপুর তার ওপরেই জায়গাটা, অজয় নদের ব্রীজে ওঠার কিছুটা আগে। নদী পেরোলেই বীরভুম।

এখান থেকে বোলপুর ঠিক এগারো মাইল দূরে, তাই নাকি জায়গাটার নাম হয়ে গেছে এগারো মাইল। এই রাস্তাটা আসলে আমার বেশ পছন্দের, দুপাশে সবুজে সবুজ, পানাগড় ডিভিশানের জঙ্গলের রাজত্ব রাস্তার দুপাশ জুড়ে। কাঠখোট্টা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ছেড়ে এই রাস্তায় ঢুকলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। এই রাস্তা দিয়ে অনেকবার গেছি শান্তিনিকেতন।

যাচ্ছি ইলামপুর বনের মধ্যে দিয়ে। কিছুদুর যাবার পর মোড়েই একটা কংক্রিটের ফলকে লেখা আদুরিয়া ফরেস্ট ডিভিশান। এই রাস্তায় বাঁক নিতেই জঙ্গল আরও ঘন হয়ে ঘিরে এল। ঢেউ খেলানো জমিতে শাল, পিয়াশাল,জারুল, মহুয়া, বহেড়া গাছের ঋজু সারি। কিছুক্ষণ আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে, স্নান করে জঙ্গল যেন সেজেগুজে বসে আছে, সুর্যের আলো চুঁইয়ে নামছে পাতার ফাঁক দিয়ে, আলোছায়ায় মাখামাখি সে এক অদ্ভুত মায়াবী দুনিয়া, সদ্য জল পাওয়া গাছের পাতা অসহ্য রকম সবুজ। কাঁকুরে রাস্তায় টায়ারে সর সর আওয়াজ তুলে গাড়ী এগিয়ে চলছে, কখনো বা ছপাৎ আওয়াজে চাকায় ছিটকে উঠছে জমে থাকা গেরুয়া রঙের জল। কাঁচ নামিয়ে দিয়েছি, হুহু করে ঢুকছে জঙ্গুলে গন্ধ মাখা জোলো হাওয়া।

একটা ছোট নালা পেরিয়ে গেলাম। মাঝে মাঝে জঙ্গল একটু হালকা হলে টাঁড় জমিতে খোয়াই এর আভাস দেখা যাচ্ছে। লাল মাটির বুক চিরে বহুকাল ধরে জলপ্রবাহ চলে চলে প্রকৃতির আপন খেয়ালে তৈরী হয়েছে বিমূর্ত সব ভাস্কর্য। এটা একেবারেই বীরভুম জেলার নিজস্ব ভুপ্রকৃতি।

এই জায়গা বর্ধমান হলেও বীরভূমের কোল ঘেঁষা। এটাই আদুরিয়া ফরেস্ট বিট অফিসের চৌহদ্দি। কম্পাউন্ডের মধ্যে অফিসঘর, কর্মীদের থাকার কোয়ার্টার। আর একটু এগিয়ে গেলেই দুধসাদা দু কামরার ফরেস্ট বাংলো। গেটের দিকে হাঁটা পথের দুধারে ফুলের কেয়ারী করা বাগান, আর সামনে বিশাল খোলা চত্বরে বন বিভাগের নার্সারী।

পরিবেশটা এত সুন্দর এখানে দাঁড়ালেই এছাড়া আর কোন আওয়াজ নেই। বড় শান্তির পরিবেশ। রাত্রিবেলা সামনের হাতায় চেয়ার নিয়ে বসে থাকলে অসাধারণ অনুভূতি হবে হলফ করে বলতে পারি, বিশেষ করে যদি চাঁদনী রাত হয়।
তবে যদি একান্তই অলস সময় কাটাতে মন না চায় তবে কাছাকাছি অনেকগুলো ঘুরে দেখার জায়গা আছে। কিছুটা দুরেই আছে সাঁওতালদের গ্রাম আমজারুলিয়া। সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।  ভিজিট করুন

বৃদ্ধা মা ভরণ পোষণের জন্য আদালতে