উন্নয়নে বদলে গেছে কেশবপুর শহরের চিত্র, বেড়েছে নাগরিক সুবিধা

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উন্নয়নে বদলে গেছে কেশবপুর শহরের চিত্র, বেড়েছে নাগরিক সুবিধা
শহরের সড়কগুলো আর সি সি ঢালায় করা হয়েছে

কবির হোসেন। ।
বর্তমান সরকারের আমলে কেশবপুর পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। বেড়েছে নাগরিক সুবিধা। শতভাগ বিদ্যুত ও পানি মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে গেছে। অন্ধকার ভুতড়ে গ্রাম্য গলিপথ এখন আলোয় ঝলমল করে রাতের বেলায়। শহরের প্রতিটি সড়কের দু’ধারে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ ও ফুল। পানির ট্যাব মোড়ে মোড়ে। বিএনপি’র আমলে মামলা দিয়ে বন্ধ করে রাখা কেশবপুর পৌরসভা এখন বদলে দিয়েছে শহর দৃশ্যপট।

কেশরপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের রাস্তা, ফুটপাথ, ড্রেনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রায় ৫০ কোটি টাকার দৃশ্যমান উন্নয়নে বেড়েছে নাগরিক সুবিধা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কেশবপুরের সাংসদদের চেষ্টায় পৌর এলাকার দীর্ঘ ২ যুগের জলাবদ্ধতার সমাধান করে পৌরবাসির ভাল রাখার পিছনে বর্তমান মেয়র রফিকুল ইসলামের অবদানই বেশী। এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে কেশবপুর পৌরসভা হবে একটি নান্দনিক মডেল পৌরসভা।

কেশবপুর যশোর জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা। এখানে বিশ্ববরেণ্য মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, প্রখ্যাত নাট্যকার, চিত্রাভিনেতা ও লেখক ধীরাজ ভট্টাচার্য্য, কথা সাহিত্যিক মনোজ বসু, মানকুমারী বসু, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেকের মত অনেকের জন্ম। কেশবপুর শহর পৃথিবীর বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের আবাসস্থল। এখানে ভরতরাজার ‘ভরতের দেউল’, মির্জা সফসেকেন্দারের আবাসস্থল ‘মির্জানগর হাম্মামখানা’, বড়পীর খান জাহান আলীর আবাসস্থলসহ বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে কেশবপুরে। এসমস্ত ঐতিহ্যবাহী স্থানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে থাকেন।

উন্নয়নে বদলে গেছে কেশবপুর শহরের চিত্র, বেড়েছে নাগরিক সুবিধা
মোড়ে মোড়ে বসানো পৌরসভার বিশুদ্ধ পানির ট্যাব

কেশবপুর উপজেলা শহরকে আকর্ষণীয় করতে ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রয়াত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক কেশবপুর পৌরসভা গঠন করেন। তবে দীর্ঘকাল বিএনপি’র নেতা সাবেক পৌরসভার মেময় আব্দুস সামাদ বিশ্বাস ওই সময় কেশবপুর ইউনিয়ের চেয়ারম্যান থাকাকালে পৌরসভার বিরুদ্ধে মামলা করে কার্যক্রম বন্ধ করে রাখেন।
কেশবপুর পৌরসভা ১ম শ্রেণীর হলেও গেল ১৫ বছরে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি। ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে প্রথম আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হন। সরকারের সহযোগিতা স্থানীয় সাংসদদের চেষ্টায় তিনি গত ৫ বছরে ৯টি ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ফলে কেশবপুর শহরের চিত্রই বদলে গেছে।

বর্তমান মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, ইউজিআইআইপি-৩, বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তা, এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭৭টি রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে কার্পেটিং, আরসিসি, সিসি, সোলিং রাস্তা রয়েছে। পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনে ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি ড্রেন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। যার মধ্যে আরসিসি ড্রেন ২টি ও আইইউআইডিপি প্রকল্পের ৭টি ক্রসড্রেন রয়েছে। ১ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকার মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়ন করা হয়েছে। পৌর শহরে জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি স্ট্রিট লাইট স্থাপণসহ বিভিন্ন সড়কে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার ও স্ট্রিট লাইট স্থাপণ করা হয়েছে। কেশবপুর উপজেলা আর্সেনিক প্রবন এলাকা হওয়ায় মেয়র রফিকুল ইসলাম পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ৩টি উৎপাদন গভীর নলকুপ, ১টি বুস্টার পাম্প ও ২০ কিলোমিটার পানির লাইনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন। পৌর এলাকার যুব মহিলাদের আত্নসামাজিক উন্নয়নে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, দর্জি ও নক্সিকাঁথা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল বোর্ড স্থাপণ, মাইকেল গেটের সৌন্দর্য্য, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ডিকশনারী প্রদান ও হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ ৪টি স্যানিটারী ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হয়েছে।

উন্নয়নে বদলে গেছে কেশবপুর শহরের চিত্র, বেড়েছে নাগরিক সুবিধা
মেয়র রফিকুল ইসলাম সড়কের কাজ উদ্বোধন করছেন

করোনা মোকাবিলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভার রাজস্ব তহবিল, মেয়রের ব্যক্তিগত ও স্বউদ্যোগে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৮১৩ পরিবারের মাঝে বিভিন্ন সময়ে পুষ্টিকর খাদ্য, নগদ আর্থিক সহায়তা ও শিশু খাদ্য বিতরণ করেছেন। এছাড়া গত ৫ বছরে পৌর এলাকার অসহায় ও দুস্থ ৩ হাজার ১১৬ জনের মধ্যে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালিন ভাতা প্রদান করে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করেছেন। পাঁচ বছরে শহরের হাট-বাজারের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মেয়রের সদিচ্ছায় পুরনো গরুহাটে সকাল-সন্ধ্যা বাজার স্থাপণ, পাইকারি মাছ বাজার চান্নি, চাউল চান্নি ও ধানহাটের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলোআপ

পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, ৫ বছরে খুব কম সময়। পরিকল্পনা নিয়ে এতো অল্প সময়ে তা বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং স্থানীয় সাংসদের সহযোগিতায় যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছি পৌরসভাকে উন্নয়ন করতে। রাজনৈতিক কারনে আবার অনেকটা করতে পারিনি। কেশবপুর শহরের চারপাশের নদীর ধার গুলো রিটেওয়াল করে হাটার পথ করা, পৌরসভার বিদ্যুতের লাইন আলাদা করা, হনুমানের জন্য অভয়ারণ্য করা, যাবতীয় সেবা ডিজিটাল করা, বিনোদনের জন্য একটি শিশুপার্ক ও একটি পৌরপার্ক করা, যানজটমুক্ত পরিকল্পিত শহর স্থাপণে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা, পরিবেশ বান্ধব বাসযোগ্য নগরায়ন করাসহ চলাচলের সড়ক নির্মাণ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আতœসামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়ে নাগরিকদের মধ্যে আয়ের সমতা বিধানের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করার পরিকল্পনা আমার আছে। যদি আগামীতে দল আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগন যদি আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেন তাহলে এসম বাস্তবায়ন করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্লার মাধ্যমে একটি মডেল পৌরসভায় পরিনত করব। ভিজিট করুন

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী এ্যাডভোকেট মিলন মিত্রের গনসংযোগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: এমপি শাহীন চাকলাদার