এককালের রাজধানী কেশবপুরের মীর্জানগর আজ গন্ডগ্রাম!

এককালের রাজধানী কেশবপুরের মীর্জানগর আজ গন্ডগ্রাম!

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজেদ রহমান।।

কোটিপতি থেকে পথের ভিখারিতে পরিণত হলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, আজকের মীর্জানগরের দশা তাই-ই।
মীর্জানগর ছিল ‘যশোর রাজ্যে’র রাজধানী। আর আজ নিতান্তই গন্ডগ্রাম, আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে কেশবপুর উপজেলার শুধুমাত্র একটি মৌজা।
অথচ যখন মীর্জানগর মোগল শাসক বা ফৌজদারদের শাসনকেন্দ্র হিসাবে ঠাঁই পায়, তখন কলকাতার জন্মও হয়নি।
মীর্জানগরের জন্ম ১৬৪৯ খ্রিষ্টাব্দে, আর কলকাতার জন্ম ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্ট। ‘সুউচ্চ অবস্থান থেকে একেবারে ভূমিতলে পতিত’।
মীর্জানগরের সমৃদ্ধির কাল ছিল একশ’ বছর। একটি প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র এবং নগর হিসাবে তার অবস্থান ছিল অনেক শীর্ষে।
১৭৬৪ থেকে ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মেজর রেনেল যে মানচিত্র তৈরি করেন, তাতে মীর্জানগর, ত্রিমোহিনী ও বর্তমান যশোরকেই যশোর অঞ্চলের প্রধান দুইটি গুরুত্বপুর্ণ নগর বা কেন্দ্র হিসাবে দেখানো হয়েছে। এমনকি যশোর জেলা হিসাবে ঘোষনা ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দেও মীর্জানগর জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম কেন্দ্র বলে বিবেচিত।
যশোর অঞ্চলের ইতিহাস নিয়ে যিনি বিস্তারিত গবেষণা করেছেন, সেই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও কালেক্টর মি: জে ওয়েষ্টল্যান্ড ১৮৬৮ থেকে ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বহুবার মীর্জানগর ভ্রমণ করেছেন। তাঁর বিবরণে নবাববাড়ি, মসজিদ, হামামখানা, কিল্লাবাড়ি এবং অন্যান্য দুর্গের কথা উল্লেখ করেছেন বিস্তারিত ভাবে।

 

 

আজকের মীর্জানগর সমৃদ্ধ অতীতের কাছে বড়ই বেমানান। সাদামাটা হাজারও গ্রামের মতো নির্জনতার গভীরে ঢাকা পড়ে গেছে মীর্জানগরের ইতিহাস। তবুও তার মাটিকে কান পাতলে যেন শোনা যায় অব্যক্ত বেদনা, যে তার সব কিছু হারিয়ে আজ নিঃশ্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.