একান্নবর্তী পরিবার এখন আর নেই

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
সাজেদ রহমান।।  ছোট বেলায় গ্রামে একান্নবর্তী পরিবার গুলোতে দেখেছি, ৬/৭ ভাই-বোন কি না আনন্দ করত। কোন খাবার ভাই-বোনকে এবং বোন ভাইকে না দিয়ে খেত না। সবার বিয়ে সাদী হয়ে যাবার পর সেই ভাইবোনদের মধ্যে এখন কোন সম্পর্ক নেই। শহরে থাকা আর্থিক অবস্থা সম্পন্ন ভাইয়েরা কেউ কেউ বছরের পর বছর গ্রামে থাকা ভাইয়ের খোঁজ নেন না, বোনেদেরও একই অবস্থা।
সময়ের বিবর্তনে আজ একান্নবর্তী পরিবারের কনসেপ্ট থেকে আমরা অনেক দূরে সরে এসেছি। অথচ এক সময় যৌথ পরিবারকেন্দ্রিক পরিবেশ পারিপার্শ্বিকতা আপনজনদের পরস্পরের সান্নিধ্যে থেকে ফিল করার আবেগ-অনুভূতি বাঙালী সংস্কৃতিরই অংশ ছিল।
চারপাশে তাকালে দেখতে পাই বাঙালী পরিবারগুলো পরিবেশগত কারণে আজ একজন থেকে আরেকজন কতটা দূরে। যে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মিলিয়ে গেল তা যেন কেউ টেরই পায়নি। পরিবারের আকাশে কদাচিৎ দু-একটা নক্ষত্রের দেখা মিললেও নেই সেখানে প্রাণবন্ত আবেগ আর আবেশ। নগরজীবনে পরিবার বলতে সবকিছু ছকে বাঁধা। নগরজীবনের শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন তথা জীবনের প্রতিটি ছত্রে জেগে আছে নড়বড়ে প্রহরের ছত্রখান গল্প। যে গল্পের শুরু আর শেষার্ধেও নেই উজ্জীবনের প্রাণোচ্ছলতা। খন্ডিত জীবনবোধের ভেতরেই যেন থমকে গেছে প্রজাপতি মন।
অথচ একটা সময় ছিল যখন পরিবারের সবাই মিলে এক বাড়িতে থাকা, এক হাঁড়িতে রান্না আর এক বৈঠকে খাওয়া পর্ব হতো অপরিসীম আনন্দ ভাগ করে। সেটা কবে? তিন দশক, চার দশক কিংবা পাঁচ দশক আগের কথা। তখন বাড়ির কর্তার আদেশ-নির্দেশে ভরপুর থাকত ভালবাসার টান, অনুশাসনের রাঙ্গা চোখ, মায়ের বকুনি, মুরুব্বিদের খবরদারি। এখন সেখানে পড়ে আছে ফড়িংয়ের ছিন্ন পালকের করুণ বিবর্ণ ছন্দ। যে ছন্দে নেই গীতলতা, নেই ধারা বহমান, তার কুল কুল শব্দপুঞ্জ।যেভাবে এই প্রজন্ম একে একে ইন্টারনেট, মোবাইল ও সোস্যাল মিডিয়ার কারণে আজ টেলিগ্রাফ, ট্রাঙ্কল, পোস্ট অফিস প্রভৃতি জীবনঘনিষ্ঠ প্রতিপাদ্য বিষয় থেকে একেবারেই দূরে সরে এসেছে; একই ভাবে তারা জয়েন্ট ফ্যামিলির নিগূঢ় আত্মাঘনবোধ থেকেও ক্রমশ যোজন যোজন দূরত্বে এসে দাঁড়াবে। সময়ের তাগিদে নাগরিক জীবন থেকে মুছে যাবে একান্নবর্তী পরিবারের হৃদয়জ আবেদনটুকু। শুধু পড়ে থাকবে টুটাফাটা অন্তরের টান। হাইরে ছোট বেলার স্মৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.