এগিয়ে চলেছে মেধাবী শিক্ষার্থী সৈয়দা লিসামনি

শিক্ষা
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সোহেল পারভেজ, কেশবপুর
কেশবপুর উপজেলার সরকারি পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অনন্য প্রতিভাবান শিক্ষার্থী সৈয়দা লিসামনি এস এস সি তেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

শিক্ষার্থী সৈয়দা লিসামনির পিতার নাম মীর আজিজ হাসান এবং মাতার নাম জেসমিন সুলতানা। জন্মস্থান সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার খলিসা বুনিয়া গ্রামে। ২০০৯ সালে ভয়াবহ আইলা ঝড়ে তাদের বাড়ি ঘর লন্ড ভন্ড হয়ে যায়। তখন তার পিতা পরিবারের কথা চিন্তা করে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কেশবপুরে ভাড়া বাসায় উঠেন। সৈয়দা লিসামনির বয়স তখন ১০ বছর। কিছুদিন পর ২০১২ সালে তার পিতা মেয়ের কথামত কেশবপুর শহরের কেশবপুর মডেল সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণীতে ভর্তি করে। অত্র বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ২০১৪ সালে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে। শুরু হল সৈয়দা লিসামনির গতিময় শিক্ষাজীবন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হল কেশবপুর সরকারি পায়লট স্কুল এন্ড কলেজে প্রথম বছর অধ্যায়ন শুরুতেই ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসের ৭ তারিখে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ক গ্রুপে চিত্রাংকন প্রতিযেগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (সেকায়েফ) সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির ২০১৫ সালে মূল্যায়ন পর্বে বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণী থেকে সেরাপাঠক হিসেবে পুরস্কার লাভ করে।

তারপর ২০১৬ সালে  ৮ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (সেকায়েফ) সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির মূল্যায়ন পর্বে সেরাপাঠক হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। ২০১৬ সালে গুণগত শিক্ষা উন্নত জীবন এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (সেকায়েফ) সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট জেএসসি / জেডিসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে। ২০১৭ সালে উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের মৌসুমি প্রতিযোগিতায় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান ও জেলা পর্যায়ে উপস্থিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান এবং বিশ্ব শিশু দিবস , শিশু অধিকার সপ্তাহ  ও কন্যা শিশু দিবসে শিশু অধিকার বিষয়ক আলোচনায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। ২০১৮ সালে উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় উপস্থিত বক্তৃতায় গ বিভাগে দ্বিতীয় স্থান  ও ধারাবাহিক গল্প বলা গ বিভাগে প্রথম স্থান এবং জেলা পর্যায়ে ধারাবাহিক গল্প বলা গ বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। বছোরের তৃতীয় ভাগে  আবার শুরু হল উপজেলা পর্যায়ে মৌসুমি প্রতিযোগিতা ধারাবাহিক ভাবে অংশ নিতে লাগল প্রত্যেকটি প্রতিযেগিতায়। এরপর জেলা পর্যায়ে উপস্থিত বিতর্ক প্রতিযেগিতায় প্রথম স্থান ও দেয়ালিকায় তৃতীয় স্থান লাভ করে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষামূলক বিভিন্ন প্রতিযোগীতা ও সামাজিক কাজে অবদান রেখে চলেছে লিসামনি। বন্যার সময় বন্যার্থ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনের সাথে ত্রাণ বিতারণ করে থাকে সে।

এছড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে উপস্থাপক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছে। বন্যার সময় বন্যার্থ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া গর্ভবতি মায়েদের মেডিকেল টিমের কাছে নিয়ে তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এবং সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে নিজেকে দেশের অসহায় অবহেলিত মানুষের মাঝ আত্ননিয়োগ করে চলেছে সৈয়দা লিসামনি। দেশ প্রেমিক দেশের মানুষকে বাঁচাবার জন্য নিজের জীবনকে উৎস্বর্গ করে দেওয়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রমানের জীবনী পড়ে এবং তার কন্যা দেশরত্ন মহিয়শী নারী সারা বিশ্বের দরবারে খ্যাতি অর্জন করা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে সৈয়দা লিসামনি নিজের জীবনকে গড়ার চেষ্টা করছে।
সৈয়দা লিসামনি জানিয়েছে, আমি আরো লেখা পড়া করতে চাই। দেশের মধ্যে সেরা ডাক্তার হয়ে মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। আমার জন্য আপনারা দোয়া করবেন।

সৈয়দা লিসামনির পিতা মীর আজিজ হাসান বলেন, আমি একজন পল্লি চিকিৎসকমাত্র আমার মেয়ের ছোট বেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি একটু বেশী আগ্রহ ছিল। আমার গ্রামের বাড়িতে ভয়াবহ জলোচ্ছাসের কারণে থাকতে পারিনি। এখানে এসে সামান্য আয়ের পরেই তাদের পড়া-লেখা শিখিয়ে যাচ্ছি। এবার এস এস সি’তে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এখন তার ইচ্ছা শহরে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়বে আর বড় ডাক্তার হয়ে আমাদের ও দেশের মানুষের সেবা করবে। কিন্তুু আমার সামান্য আয়ে তার ইচ্ছা পূরণ করতে হয়তো পারবো না। যদি সরকার কিংবা বিবেকবান কোন লোক আমার মেয়ের ইচ্ছাটুকু পূরণ করে তাহলে আমি কৃতজ্ঞ থাকবো।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সৈয়দা লিসামনির উত্তর উত্তর দির্ঘায়ু কামনা করি, সে খুব ভাল শিক্ষার্থী, এবং সর্ব বিষয়ে সে খুব ভাল করে, প্রত্যেকটি প্রতিযোগিতায় সে ভাল করে। একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমাদের কেশবপুরের সংসদ সদস্য সাবেক মাননীয় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক মহোদয় কয়েকবার তাকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ভাল ফল করার জন্য পুরস্কৃত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.