এস আই হাসান আলীর দাফন সম্পন্ন ॥ ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি পরিবারের

এস আই হাসান আলীর দাফন সম্পন্ন ॥ ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি পরিবারের

দেশের খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এস আই হাসান আলীর দাফন সম্পন্ন ॥ ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি পরিবারের

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ।। কেশবপুরের সন্তান পুলিশের উপপরিদর্শক হাসান আলীর মরদেহ তার কর্মস্থল পাবনার আতাইকুলা থেকে রোববার রাত ৩টার দিকে গ্রামের বাড়ি কেশবপুরে পৌঁছায়। এ সময় মরদেহকে ঘিরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতরণ ঘটে। ওই রাতেই শত শত মানুষ তাকে এক নজর দেখতে তার বাড়ি সদর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গায় ভিড় করেন। এ সময় আত্মীয়-স্বজন পাড়া প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্খীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তার পিতা দাবি করেন, তার সন্তান আত্মহত্যা করেনি , তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৮টায় বসত বাড়ির পাশেই হাসান আলীর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজা নামাজে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জসীম উদ্দীন, কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলা, ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান কামাল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফছার উদ্দিন গাজীসহ পাবনার পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শরিক হন।

রোববার রাতে এশার নামাজ বাদ পাবনা পুলিশ লাইন্স মাঠে তার প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ওই রাতেই পরিবারের লোকজনের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে এ্যাম্বুলেন্সে করে কেশবপুরে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, হাসান আলী ৩৭তম আউটসাইট ক্যাডেট হিসেবে গত বছরের ৬ ফেরুয়ারি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পাবনার আতাইকুলায় থানায় উপ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। থানার ছাদে শনিবার রাতে কোনো এক সময় তিনি পিস্তল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পুলিশের। তার বাবা জব্বার আলী একজন ভ্যান চালক। তারা ২ ভাই বোন। বড় বোন মুক্তা খাতুনের বিয়ে হয়েছে পাইকগাছার কয়রা উপজেলায়।

হাসানের বাবা জব্বার আলী অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে কেউ মেরে ফেলেছে।
তিনি জানান, বুধবার হাসান তার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলে, হাসান তাকে জানায় ৪১তম বিসিএস পরীক্ষা দিতে শুক্রবার খুলনায় আসবে। কিন্তু থানার ওসি তাকে ছুটি দিবে না। এ নিয়ে ওসির সঙ্গে হাসানের বাকবিতন্ডা হয়।

হাসান আলীর দাদি জবেদা বেগম বলেন, শনিবার সন্ধ্যার পরও আমার সাথে হাসানের ফোনে কথা হয়েছে। তাকে খুলনায় পরীক্ষা দিতে যেতে দেয়নি বলে মন খারাপ। আমি তাকে বাড়ি আসতে বললে জানিয়েছিল মঙ্গলবারে বাড়ি আসবে। কিন্তু তার আগেই তারে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে।

হাসান আলীর এক আত্মীয় আফছার উদ্দিন গাজী জানান, দরিদ্র ভ্যান চালক বাবা জব্বার আলীর দরিদ্র পরিবারে অনেক কষ্টে হাসান আলীর বেড়ে ওঠা। অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় চাচা হাবিবুর রহমানের চেষ্টায় তিনিসহ সকলের সহযোগিতায় তার লেখাপড়া শেষ করে সে। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করে নিজের যোগ্যতায় পুলিশের এসআই পদে চাকরি পায়। ট্রেনিং শেষে গত বছর পাবনার আতাইকুলা থানায় যোগ দেয়। তিনি জানান, হাসানের বাবা প্রতি দিনের মতো রোববারও সকালে ভ্যান চালাতে যায়। সকাল ১০টার পর ভ্যানে অন্যের কাঠ নিয়ে বর্ষখোড়ার মোড়ে আসলে কেউ একজন তাকে হাসানের মৃত্যুর খবর জানায়।

কাঁদতে কাঁদতে জব্বার আলী সাংবাদিকদের জানায়, আমার হাসান আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি এ মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।