কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের জন্মদিন

কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের জন্মদিন

সাহিত্য
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।।  আজ ৬ এপ্রিল কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের জন্মদিন। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের আজকের দিনে তিনি যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুবরণ করেন ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩ সেপ্টেম্বর। ১০ম শ্রেণিতে পাঠ্য বইতে তাঁর লেখা ‘শহিদ স্মরণে’ পড়ে বড় হয়েছি। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কবির কনিষ্ঠ ভ্রাতা মোহাম্মদ আসাদউজ্জামান ২৩ অক্টোবরে অন্য আরও ৫ জনের সাথে মণিরামপুরে রাজাকারদের হাতে শহীদ হন।

সে সময় আসাদ ছিলেন যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি, ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা। ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র সংগঠনের আহবায়কও ছিলেন আসাদ। ভাইয়ের শহীদ হওয়ার পর ওই বছরের ডিসেম্বরে তিনি এই কবিতা লেখেন। কবিতার কয়েকটি লাইন-‘কবিতায় আর কী লিখব?/ যখন বুকের রক্তে লিখেছি/ একটি নাম/ বাংলাদেশ। গানে আর ভিন্ন কী সুরের ব্যঞ্জনা?/যখন হানাদারবধ সংগীতে/ ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত/স্বদেশের তরুন হাতে/ নিত্য বেজেছে অবিরাম/ মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।/

কবিতায় কী লিখব?/ যখন আসাদ/ মণিরামপুরের প্রবল শ্যামল/ হৃদয়ের তপ্ত রুধিরে করেছে রঞ্জিত/ সারা বাংলায় আজ উড্ডীন/সেই রক্তাক্ত পতাকা।/আসাদের মৃত্যুতে আমি/ অশ্রুহীন;অশোক;কেননা/ নয়ন কেবল বজ্রবর্ষী; কেননা/আমার বৃদ্ধ পিতার শরীরে/ এখনও পশুদের প্রহারের/ চিহৃ; কেননা আমার বৃদ্ধা মাতার/ কন্ঠে নেই আর্ত হাহাকার, নেই/ অভিসম্পাত-কেবল/ দুর্মর ঘৃণার আগুন; কোনো/ সান্ত্বনাবাক্য নয়, নয় কোনো/ বিমর্ষ বিলাপ; তাঁকে বলিনি/ ‘তোমার ছেলে আসল ফিরে/ হাজার ছেলে হয়ে,/ আর কেঁদো না মা; কেননা/ মা তো কাঁদে না;/ মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল/অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর/ শত্রুহননের আহবান।