করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ পেছাতে পারে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ পেছাতে পারে

জাতীয় খবর শিক্ষা
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ পেছাতে পারে

আগামী ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে তা পেছাতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শুক্রবার (১২ মার্চ) বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী জাগো নিউজকে এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি সংক্রমণ বাড়তে থাকে তবে সিদ্ধান্তে (৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার) পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১৩ মার্চ) এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে। সেখানে পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আগামী ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর থেকেই দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। সবশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সবাইকে সতর্ক থাকতে তিন দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কি-না তা পর্যালোনা করতে ফের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। শনিবার তথ্য মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক, ইউজিসির কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘২৭ ফেব্রুয়ারির বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করা হবে। সেজন্যই শনিবার বিকেলে বৈঠক ডাকা হয়েছে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে করোনার পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিস্থিতির সর্ম্পকে জানতে চাওয়া হয়েছে। অধিদফতর জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপাওর সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। শিক্ষকদের টিকা দেয়ার কার্যক্রমও চলছে দ্রুতগতিতে। তবে স্কুল খুললে পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় শষ্কার কথা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানিয়েছেন। এ উদ্বেগের বিষয়টি শনিবারের সভায় তোলা হবে।

সংক্রমণ এমন থাকলে বা আরও বাড়লে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে নন বিশেষজ্ঞরা। আর খুললেও যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে সীমিত আকারে খোলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারির আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‌‘প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা ইনশাআল্লাহ আগামী মার্চ মাসের ৩০ তারিখে খুলে দেব। আগেও যেভাবে বলেছি, পর্যায়ক্রমে প্রথমেই প্রাথমিকে হয়ত পঞ্চম শ্রেণিকে প্রতিদিন আনব। আমরা দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিকে প্রতিদিন আনব। বাকি ক্লাসগুলো হয়তো প্রথমে সপ্তাহে একদিন আসবে, কয়েকদিন পর থেকে তারা সপ্তাহে দুদিন আসবে। পর্যায়ক্রমে আমরা স্বাভাবিকের দিকে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া যায় কিনা- সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।