কলকাতার আটচালার ধ্বংসাবশেষ

কলকাতার আটচালার ধ্বংসাবশেষ

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
কলকাতার আটচালার ধ্বংসাবশেষ
এই সেই বিখ্যাত কলকাতার আটচালার ধ্বংসাবশেষ। যেখানে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে স্বাক্ষরিত হয়েছিল কলিকাতা, সুতানুটি আর গোবিন্দপুর পরগণার জমিদারী হাতবদলের দলিল। মূল দলিলটি আছে ব্রিটিশ জাদুঘরে।…
১৬০৮ সালে মোট নয়টি পরগণার জায়গীর পান লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়। একই সাথে পেলেন রায় আর চৌধুরী দুটি খেতাব। এর পর থেকে তাঁরা রায়চৌধুরী পদবীই ব্যবহার করতে শুরু করেন। ১৬১০ সালে এখানে তিনি শুরু করেন দুর্গাপূজা, যেটি কলকাতার প্রাচীনতম দূর্গাপূজা। এখানেই প্রথম দূর্গার সাথে লক্ষ্মী-সরস্বতী-গণেশ-কার্তিক নিয়ে পূজা।
অনেক পরে যখন ইংরেজরা এই অঞ্চলে তাদের বাণিজ্যকুঠি তৈরী করতে চায়, তখন স্থানীয় কোনো জায়গীরদার/জমিদারই রাজী ছিলেন না তাদের জমি দিতে। কিন্তু ইংরেজরা মুঘল দরবারে রীতিমতো ঘুষ দিয়ে ফরমান আদায় করে এক রকম বাধ্য করে সাবর্ণ রায় চৌধুরীদের সুতানুটি, গোবিন্দপুর, কলিকাতার জমিদারী স্বত্ব বার্ষিক ১৩০০ টাকার বিনিময়ে তুলে দিতে। সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এই আটচালায়।
ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে চার্লস আয়ার (জোব চার্ণকের জামাই) আর জমিদার বিদ্যাধর রায় চৌধুরীর মধ্যে। অবশ্য শোনা যায়, বিদ্যাধর নিজে স্বাক্ষর না করে দুজন নাবালককে দিয়ে স্বাক্ষর করান, যাতে দলিলটি মান্যতা না পায় এবং সেটাও তিনি করেছিলেন মুঘল আঞ্চলিক প্রশাসকের পরামর্শেই। তবে কাজের কাজ কিছুই হলো না। সুতরাং বলাই যায়, কলকাতা বিক্রি হয় এখানেই ইংরেজদের হাতে। রায়চৌধুরীরাও অবশ্য মালিক ছিলেন না। ছিলেন জমিদার মাত্র। তবে জমিদারী বিক্রি মানেই প্রায় দখলদারি হস্তান্তর।
কলকতার বেহালার এই অঞ্চলে এখন অবশ্য আর তাঁদের পুরনো স্মৃতিচিহ্ন বিশেষ নেই, এই প্রায় ৪০০ বছর পুরনো আটচালা আর ১২-টি শিবমন্দির ছাড়া।… তবে পুরনো কলকাতা দেখতে আর চিনতে হলে আসতেই হবে এখানে।
সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।