কলকাতার বিদ্যাসগার ষ্ট্রিট

কলকাতার বিদ্যাসগার ষ্ট্রিট

আন্তর্জাতিক কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট ধরে একটু এগিয়ে ‘আজকাল’ পত্রিকার বিপরীতের রাস্তায় ঢুকলেই চোখে পড়বে বিদ্যাসগার ষ্ট্রিট। হাঁটু পর্যন্ত ধুতি, গায়ে চাদর, পায়ে চটি, মাথায় বিস্তৃত টাক, মানুষটির ছবির সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠবে স্মৃতিপটে। ১৮২০-তে মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে জন্মেছিলেন যে শিশুটি, মাইলস্টোন গুনে সংখ্যা শিখতে শিখতে একদিন যে কলকাতায় গিয়েছিলেন পড়াশুনো করতে, তিনি আমাদের বাংলাভাষার আদি শিক্ষক। ৩৬ নং বিদ্যাসাগর ষ্ট্রিটের বাড়িটির বিপরীতে গলির মুখে দাঁড়িয়েছিলেন লতিকাদেবী। খাঁটি উত্তর কলকাতার গৃহিণী।
কপালে বিশাল সিঁদুরের টিপ। বললেন, স্নান সেরে এসে দাঁড়িয়েছি। একটু পরেই সংসারের কাজে ঢুকবো। তার আগে রোজ তীর্থক্ষেত্রটি দর্শন করি আমি। কত মহাপুরুষরা এখানে এসেছিলেন, স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব পর্যন্ত।’ হাত জোড় করে কপালে ঠেকান তিনি। বাড়ির বাইরে দেওয়ালে পাথরের ফলকে ইংরেজিতে লেখা। এই বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাস করতেন। ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে ২৫ নং বৃন্দাবন মল্লিক লেনে বিদ্যাসগর এবটি বাড়ি তৈরি করেন।
১৯২৬ খ্রিস্টাবে বাড়ির নম্বর ও রাস্তার নাম বদলে হয় ৩৬ নম্বর বিদ্যাসাগর ষ্ট্রিট। কলকাতা কর্পোরেশনের রেকর্ডেও এই বাড়ির আদি মালিকানা বিদ্যাসাগরের। বিদ্যাসাগর তাঁর উইলে অনেকের জন্য বৃত্তি বরাদ্দ করে গিয়েছিলেন, বিষয়সম্পত্তি পুত্র নারায়ণচন্দ্রকে দেননি। বিদ্যাসাগর মৃত্যুর পর নারায়ণচন্দ্র কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন ও মামলার রায়ে বাবার বিষয়সম্পত্তি পেয়ে যান।
উইলে উল্লেখিত বৃত্তিভোগীদের বৃত্তি নারায়ণচন্দ্র ঠিকমত দিতে পারতেন না। ফলে বৃত্তিভোগীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। তখন বিদ্যাসাগরের বাড়ি ও সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আদালত থেকে রিসিভার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু তার আগেই বাড়িটি বন্ধক দিয়ে দেন নারায়ণচন্দ্র। এঘটনা ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের। আমি গিয়েছিলাম ১৯৯০ সালের জানুয়ারি। তখন এমএম কলেজে পড়ি। তখন ওই বাড়িতে বাস করতেন সমরেশ মুর্খাজি।
কলকাতা কর্পোরেশনের ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের রেকর্ড থেকে দেখা যায়, সমরেশ মুর্খাজির বাবা সুরেশ মুর্খাজি বাড়িটি কিনেছিলেন। বিদ্যাসাগরের কোন স্মৃতিচিহ্নই তখন আর এ বাড়িতে ছিল না। অসুস্থতার জন্য সমরেশ মুখার্জির সাথে সেই সময় কথা বলতে পারেনি। এটাই আশ্চর্য এটাই যে, ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিদ্যাসাগরের বাড়ি বলে যে ভগ্নাবশেষটি অধিগ্রহন করেন, সেটি বিদ্যাসাগরের বাড়িই নয়। ৩৬ নম্বর এর পাশেই এর ঠিকানা ৩৬/১ বিদ্যাসাগর ষ্ট্রিট। বর্তমানে বাড়িটি সংস্কার করা হয়েছে। বোঝাই যায় না, এটা কোন পুরনো বাড়ি। সর্বশেষ আমি এই বাড়িতে গিয়েছি ২০১৯ সালে।