কলকাতার রাস্তায় প্রশ্রাব বিষয়ে সম্পাদকীয়

কলকাতার রাস্তায় প্রশ্রাব বিষয়ে সম্পাদকীয়

আইন-আদালত আন্তর্জাতিক
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।। ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে(বাংলা ১২ চৈত্র ১২৫৮) কলকাতার রাস্তায় প্রশ্রাব বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। এ নিয়ে পত্রিকার পাতায় সম্পাদকীয় হয়েছিল-‘ রাস্তায় প্রশ্রাব করা নিষিদ্ধ করিয়া আইন প্রণয়ন করা হইয়াছে। কিন্তু এই আইন কার্যকর হওয়াতে বহু লোক বিপদে পড়িতিছেন। সম্পাদকীয়তে প্রস্তাব করা হইয়াছে যে আগে এই আইন জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করা হউক।’’

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে-‘‘নগরের মধ্যে কি উৎপাত হইল, এক মুত্র সূত্র লইয়া পুলিশের কর্ত্তারা কি ফাঁসাৎ করিয়া তুলিলেন, যেখানে যেখানে শুনা যাইতেছে অমুক ব্যক্তি নরদমার ধারে প্রশ্রাব করিতে বসিয়াছিল তাহাকে চৌকিদার ও সারজন আসিয়া ধৃত করিল, অনেকেই বলেন এই প্রশ্রাব অমুকের অপমান, অমুকের জরিমানা, অমুকের ঘোড়দৌড়, অমুক ব্যক্তির কাণমলা প্রভৃতি প্রহার প্রাপ্ত হইয়াছে, গতদিবস আমারদিগের পল্লীতে বিদ্যালয়ের দুইটি বালক হেদুয়ার পূর্ব্ব দক্ষিণ ধারের নর্দ্দমায় মুত্রত্যাগ করিতেছিল, তদ্দৃষ্টে রাজদুতেরা অনায়াসেই তাহারদিগ্যে তেরি মেরি বাক্যে অপমানকরত হস্তধারণপূর্ব্বক রাস্তা দিয়া লইয়া গেল, তারা কি করে।

একে শিশু তাহাতে কাল হস্তে পতিত, বাপের সুপুত্র হইয়া বন্দিরুপে গমন করিল, কি আশ্বর্য রাজপুরুষেরা চুপিচুপি আইন করিলেন, অবোধ বালক বালিকা ও পথের মুটে মজুর বিদেশি পথিক, ও তদনুরুপ অন্যান্য লোকেরা কিরুপে তাহা অজ্ঞাত হইবেক, তাহারা বহুকালাবধি মুত পাইলে যেমন মুতিয়া থাকে, এইক্ষণে সেইরুপ করিতেছে, অগ্রে মুতের আইন সকলের ঞ্জাতসার হউক, তাবে তো নিবারণ হইবেক, যাহারা অধুনা ইহার কিছুই জানে না তাহাদের উপর দন্ড করা অতিশয় অবিচার হইতেছে…যদি কোম্পানি বাহাদুর কোন প্রকার একটা আইনের চক্র মারিয়া প্রকৃতির চক্র বক্র করিয়া দিতে পারেন তবে সর্ব্বতোভাবেই মঙ্গলের ব্যাপার হয়, তাহা হইলে আর এত পদাতিক রাখিয়া অনর্থক এত অধিক ব্যয় স্বীকার করিতে হয় না, এমন চমৎকার দেখা যায় নাই, ভৌতিক ব্যাপারের উপরেও রাজনিয়ম প্রচলিত হইল, ভাল তাহাও হউক।