কলারোয়ায় আলু,পেঁয়াজ ও রসুন বীজের তীব্র সংকটে কৃষক

কলারোয়ায় আলু,পেঁয়াজ ও রসুন বীজের তীব্র সংকটে কৃষক দিশেহারা

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কলারোয়ায় আলু,পেঁয়াজ ও রসুন বীজের তীব্র সংকটে কৃষক

জাহিদুল ইসলাম, কলারোয়া প্রতিনিধি।। কলারোয়ায় আলু, পেয়াজ ও রসুন বীজের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বীজ সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তারা বেশী দাম দিয়েও বীজ পাচ্ছেন না। কৃষি বিভাগ বলছে, আলু, পেয়াজ ও রসুনের বাজার দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা এগুলো চাষে বেশী ঝুকে পড়ায় বীজ সংকট দেখা দিয়েছে।

এ বছর এসব ফসলের ব্যাপক দাম চড়া। তাই কৃষক চাষ করতে বেশি আগ্রহী। কিন্তু আলু ও পেয়াজ চাষের মৌসুমে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েও হতাশ উপজেলার কৃষকরা। কারণ উপজেলা দেখা দিয়েছে বীজ আলু, পেয়াজ ও রসুনের চরম সংকট। চড়া দাম দিয়েও মিলছে না বীজ আলু।

ফসলের বীজের চাহিদার কারণেই বেশি দামে বীজ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই খাবার আলুর মত বীজ আলু বিক্রি হচ্ছে গতবারের তুলনায় বেশি দামে। তাছাড়া উপজেলার কিছুু অসাধু বীজ ডিলার ও বীজ ব্যবসায়ী সিন্ডেকেট করে বীজ সংকেট করে বেশি মূল্যে বীজ বিক্রয় করছে।

এ অবস্থায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে, কারণ বীজ কিনতে যদি এত বেশি খরচা হয় তাহলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে অনেক। উপজেলা অধিকাংশ আলু, পেয়াজ ও রুসন চাষীরা শঙ্কায় পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, কলারোয়ায় এবার আলু, পেয়াজ ও রসুনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২  হাজার হেক্টর জমি। ধান কাটার পর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলায় এবার ব্যাপকভাবে আগাম আলু ও পেয়াজ চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছেন কৃষকরা।

কিন্তু শুরুতে বীজ সংগ্রহে চরম সংকটে পড়েছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারের বীজ ব্যবসায়ীরা সিন্ডেকেট করে বীজ সংকটসহ বীজের দাম চড়া করেছে। ফলে কৃষকরা প্রতি কেজি কাটিলাল আলুর বীজ কিনছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, জুপি সাদা আলুর বীজ ৫৫ টাকা থেকে ৫৫ টাকা দরে, প্রতি কেজি ভাতি পেয়াজের বীজ ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা ও প্রতি কেজি বীজ রসুন ১০০ টাকা দরে বিক্রয় করছে।

বর্তমানে বাজারে সরবরাহ করা ৪০ কেজির প্রতি বস্তা কাটিলাল ও ডায়মন্ড জাতের আলু বীজ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়। এ ছাড়া পেয়াজের বীজের অগ্রীম টাকা দিয়েও বীজ পাচ্ছেন না কৃষকরা। তাই বাধ্য হয়ে কৃষকরা বিকল্প পথ বেঁছে নিয়ে কাট পেয়াজ চাষ শুরু করেছে।

তবে পেয়াজ বীজেরও চড়া দাম। প্রতি কেজি কাট পেয়াজ দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কৃষকের ধারানা চাহিদা হওয়ার কারণে বাজারে সংকটের অজুহাতে ইচ্ছেমত দাম নিচ্ছেন বীজ ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার পৌর সদরের বি,ডি,সি ডিলার মের্সাস মুকুল বীজ ভান্ডার ও মের্সাস সততা বীজ ভান্ডার, মৌসুমী বীজভান্ডার মালিকদের ও এস এম মি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলায় যে পরিমান বীজের চাহিদা আছে তার ২০% সরকারী বীজ সরবরাহ হয়েছে। বৃষ্টি কম হওয়ায় এবং আগাম আলু পেয়াজ ও রসুন চাষে ব্যাপক প্রস্তুতির কারনে গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই বীজের চাহিদা দেখা দিলে এ মাসে বাজারে প্রচুর বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।

উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ অভিযোগ করে জানান, কোম্পানির নির্ধারিত মূল্যে ভাতি পেয়াজের বীজ ব্যবসায়ীর কাছে অগ্রীম টাকা দিয়েও তিনি ভাতি পেয়াজের বীজ সংগ্রহ করতে পারেননি। পরে বেশি দামে তাকে বীজ কিনতে হয়েছে।

কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আঃ মামুন জানান, ডিলাররা প্রতি বছর কৃষকদের কাছে বিপুল পরিমাণ বীজ বিক্রি করেন। চাহিদার তুলনায় এ বছর সরবরাহ কম। কিন্তু আমাদের জেলায় চাহিদা মেটাতে বাইরের জেলাগুলো থেকে বেশি দাম বীজ সংগ্রহ করে কৃষকদের চাহিদা মেটাচ্ছেন। গত কয়েক দিন আগে বাজারে কিছু বিএডিসি আলু বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। ভালো মানের কারণে বিএডিসির আলু বীজের যে পরিমাণ চাহিদা তা মজুদ না থাকায় তা সরবরাহ করা যায় না। তবে আগামীতে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, বরাবরই কলোরোয়া উপজেলায় আলু, পেয়াজ ও রসুনের আবাদ কম হয়। সে হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর বীজের সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু হঠাৎ এ সব ফসলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া বীজের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বাজারে সেই পরিমান বীজের সরবরাহ নেই। এজন্য বীজের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে বীজের বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভিজিট করুন

 

এমপি শাহীন চাকলাদার বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করলেন