কলারোয়ায় একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা

কলারোয়ায় একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কলারোয়ায় একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা

কলারোয়ায় একই পরিবারের চার জনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই সন্তান। হত্যার কারণ জানা যায়নি। হত্যাকারীরা পরিবারের চারজনকে খুন করলেও মাত্র ৫ মাসের শিশু মারিয়াকে হত্যা না করে ফেলে রেখে গেছে।

নৃশংস এই হত্যাকান্ড ঘটেছে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলশী গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোররাতে। পুলিশ লাশ গুলো উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করেছে। হত্যা সাথে জড়িত কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

লোমহর্ষক এই খুনের শিকার খলসি গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী শাহাজান আলীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ী মো: শাহীনুর রহমান (৩৯), তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩৩), ছেলে ৫ম শ্রেনীর ছাত্র সিয়াম হোসেন মাহী (১১) এবং মেয়ে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী তাসলিম সুলতানা (১০)।

কলারোয়ায় একই পরিবারের ৪ জন খুন

নিহত শাহীনুর রহমানের ছোটভাই রায়হানুল ইসলাম জানান, বুধবার তাদের মা শহিদা বেগম বোনের বাড়ি কেশবপুর উপজেলার বরনডালী গ্রামে বেড়াতে যায়। রাতের খাবার শেষে বড়ভাই পরিবারের সাবইকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর রাতে খুনিদের ফেলা যাওয়া বড়ভাইয়ের ৫ মাসের কণ্যা মারিয়া চিৎকার করে কান্না কাটি শুরু করলে সে বাড়ির ভেতরে যায়। এসময় সাড়া শব্দ না পেয়ে ছাদের উপর সিঁড়ি ঘর দিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে মারিয়া ছাড়া সবাইকে জবাইকে হত্যা করার দৃশ্য দেখে চিৎকার দিয়ে প্রতিবেশীদের জড়ো করে। পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়।

আরও পড়ুন -পিটিয়ে মাকে হত্যা করেছে পাষণ্ড ছেলে

তিনি আরও জানান, তারা তিন ভাই ও এক বোন। মেঝ ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসি। তার স্ত্রী বাবার বাড়ি সাতক্ষীরার রসুলপুরে থাকে। বড়ভাই তিন সন্তান নিয়ে একটি একতলা পাকা বাড়িতে বসবাস করতেন। সে (রায়হান) বড়ভাইয়ের বাড়ি থেকে ২০ হাত দুরের একটি বাড়িতে এক বসবাস করে।

রায়হানুল ইসলাম জানায়, গত ২২ বছর ধরে কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ১৬ শতক জমি নিয়ে নিকট প্রতিবেশী ওয়াজেদ কারিগরের ছেলে আকবরের সাথে মামলা চলে আসাছে। এই জমির বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তার ধারনা।

নিহত শাহিনুরের এক মাত্র বোন আছিয়া খাতুন জানায়, তার বড়ভাই শাহীনুর ইসলাম নিজস্ব ৭-৮ বিঘা জমিতে পাঙাস মাছ চাষ করে সংসার জীবন চালিয়ে আসছেন। তাদের বাবা মৃত শাজাহান আলী কলারোয়ার দামোদরকাটী গ্রামের নূর আলীর ছেলে আকবর হোসেনের কাছ থেকে ৩৪ শতক জমি ক্রয় করেন। এই জমির ওই জমি নিয়েই ঝামেলা চলে আসছিলো। এ নিয়ে কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দপ্তরে এই মাসের শালিস হওয়ার কথা ছিল।

শিশু

স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুন জানান, শাহীনুর রহমান ও ছোটভাই রায়হানুল ইসলামের সাথে ভাইয়ে ভাইয়ে মিল ছিলো। জমি ছাড়া আর কারো সাথে বিরোধ ছিলো না। গতকাল তাদের পরিবারের চার জন খুন হওয়ার খবর শুনে তিনি ছুটে আসেন। বেঁচে থাকা ৫ মাস বয়সের একমাত্র শিশুসন্তানকে নিজ হেফাজতে রাখেন।

কলারোয়া থানার ওসি (তদন্ত) হারান চন্দ্র জানান, হত্যার কারন জানা যায়নি। নিহত সাবিনা খাতুনের মা ময়না বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বেঁচে থাকা একমাত্র শিশুটি তাদের আত্নীয়দের কাছে রয়েছে। -জাহিদুল ইসলাম, কলারোয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published.