কানাডায় যেতে ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট বা লইয়ার কি বাধ্যতামূলক ?

আন্তর্জাতিক
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই অক্টোবরেই কানাডা ইমিগ্রেশনে আসতে পারে বড় দু’টি পরিবর্তন। অভিবাসী-বান্ধব কানাডা যে অভিবাসন আইন আরো সহজ করবে-এতে সন্দেহ নেই।

কানাডায় ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ এবং প্রশ্নের শেষ নেই। ভাবছি ইমিগ্রেশন বিষয়ে কয়েকদিন লিখব। শুরু করি খুব সাধারণ একটা প্রসঙ্গ নিয়ে। অনেকে প্রশ্ন করেন যে, কানাডায় ইমিগ্রেশনের জন্য আবেদন করতে কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা কি জরুরি কিংবা বাধ্যতামূলক? এক কথায় উত্তর –না। ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট লাগে না যদি ইমিগ্রেশন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং সময় থাকে

ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট বা আইনজীবী ছাড়াই আপনি কানাডায় অভিবাসনের জন্য আবেদন করতে পারেন, যদি আপনার পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সময় হাতে থাকে।

তবে একটা বিষয় মাথায় রাখবেন যে কানাডা ইমিগ্রেশনে নীতিমালা, ফরম, ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট, রেগুলেশন, মিনিস্টারিয়াল ইন্সট্রাকশন সহ অনেক বিষয় খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়। অনেক সময় আপনি হয়তো খেয়ালই করতে পারবেন না পরিবর্তনগুলো, মিস হতে পারেন তথ্য, কিন্তু যদি আপনার কনসালট্যান্ট থাকে, তিনি যে কোন পরিবর্তন জানতে পারবেন এবং আপনার ফাইল আপডেট করার জন্য যথাযথভাবে কাজ করতে পারবেন।

ইমিগ্রেশন প্রফেশনালকে আপনাকে ফি দিন অথবা না দিন, তার সঙ্গে লিখিত চুক্তি করতে হয়। চুক্তি ইলেকট্রনিক্যালিও হতে পারে। এ ধরনের চুক্তিতে কনসালট্যান্টকেই সই করতে হয়; তাঁর কোনো এজেন্ট নয়। কোম্পানির অন্য কোন কর্মকর্তা, যিনি নিজে কনসালট্যান্ট নন, তিনি আপনার সাথে চুক্তিতে সই করলে আইনের চোখে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।

আরেকটা কথা, একজন ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট বা আইনজীবী কোনোভাবেই আপনার ফাইল সাকসেসফুল করতে বা ত্বরাম্বিত করতে পারবেন না ইমিগ্রেশনের নীতিমালা অগ্রাহ্য করে। আর এখানে Under the table বলে কোন ব্যাপারই নেই। নেই উচ্চমহলে ধরাধরি বা চাচা-খালুর প্রভাব। আরেকটা কথা বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার যে, কানাডার ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট আর আদম ব্যাপারি এক নয়।

রেজিস্টার্ড ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টদের আচরণ বিধি প্রণয়ন ও তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে The Immigration Consultants of Canada Regulatory Council (ICCRC) । এটি একটি রেগুলেটরি বডি। এই রেগুলেটরি বডিই কনসালট্যান্টদের লাইসেন্স দেয়া বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। ক্ষমতা রাখে অভিযোগ এলে তদন্তসাপেক্ষে কনসালট্যান্টের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবার। তাই আপনি যাকে কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করছেন তিনি আসলেই ICCRC অনুমোদিত কনসালট্যান্ট কিনা তা অবশ্যই যাচাই করে নেবেন।

আইন অনুযায়ী আপনাকে কানাডা ইমিগ্রেশন নিয়ে পরামর্শ দিতে পারেন একমাত্র কানাডার অনুমোদিত ইমিগ্রেশন প্রফেশনাল, অন্য কেউ নয়। যদি বাংলাদেশের কথাই ধরি, অলিতে-গলিতে অনেক কনসালটাল্টিং এজেন্সি দেখবেন। তারা কি সবাই কানাডার সার্টিফায়েড কনসালট্যান্ট? সার্টিফায়েড কনসালট্যান্টের নামের পাশে মেম্বারশিপ নম্বর থাকাটা বাধ্যতামূলক। মেম্বারশিপ নম্বর শুরু হয় ইংরেজি বর্ণ R দিয়ে, যেমন, R432657 । এই মেম্বারশিপ নম্বরটি গুগলে দিয়ে সার্চ করে আপনি সহজেই জেনে নিতে পারেন কনসালট্যান্ট আসল কি না। https://iccrc-crcic.ca/find-a-professional/
ICCRC-র লিস্টে নাম নেই এমন কোন ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আইসিসিআরসি’র নেই।
ভুয়া কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে আপনার ইমিগ্রেশন আবেদন বাতিল হতে পারে। মিসরেপ্রেজেন্টেশনের কারণে আপনাকে কানাডা ইমিগ্রেশনের আবেদন দাখিলে কয়েক বছরের অযোগ্যও ঘোষণা করা হতে পারে। এটি একটি অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আপনার আবেদন বাতিল তো হবেই, আপনাকে কয়েক বছরের জন্য কানাডা প্রবেশে নিষিদ্ধও করা হতে পারে।

তাই গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্তটি নেবার আগে ভালভাবে যাচাই বাছাই করুন। মৌখিক রেফারেন্সে আপনি নির্ভর করতে পারেন কিন্তু সুদৃশ্য ওয়েবসাইট দেখে বা ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করা বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হবেন না। প্রতারিত হয়ে কানাডায় আসার পথটাকে দুর্গম করে তুলবেন না। – শাহানা আকতার মহুয়া। CEO at URS Canada Inc. Immigration Consultancy Services.

Leave a Reply

Your email address will not be published.