কেশবপুরের বিদ্যানন্দকাঠিতে খান জাহান আলীর দীঘি

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজেদ রহমান।।

যশোরের কেশবপুরে বিদ্যানন্দকাঠি গ্রামে খান জাহান আলীর একটি প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসবশেষ ও একটি বড় দীঘি আছে। গ্রামটি কেশবপুর থেকে ৬ কিলোমিটার দুরে। এক সময় সেখানে অবস্থাসম্পন্ন মানুষের বসতি ছিল। ৫০ বছর আগেও সেখানে দুর্গের ভাঙ্গা প্রাচীর ছিল।

এখনও সেখানে খান জাহান আলীর এক বিশাল দীঘি আছে। কিংবদন্তী আছে, ধর্মপ্রচারক খান জাহান আলী সুন্দরবনে যাওয়ার পথে যাত্রাবিরতি হিসেবে এখানে এসেছিলেন। স্থানীয় দীঘিকে লোকে বলে ‘‘খাঞ্জলীর দীঘি’’।
আগে তাঁর মৃত্যু দিবসে দীঘিপাড়ে মেলা বসত। দীঘির পাড়েই রয়েছে নানা আকারের ইটের স্তুপ। এসব ইটে স্থানীয় মানুষ হাত দেয় না। কারণ কথিত আছে-এসব ইটে যে হাত দেবে সে মারা যাবে।
বিদ্যানন্দকাঠি গ্রামে ১৯০১ সালে এই গ্রামে রাসবিহারী ইনস্টিটিউট নামে একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল। যেটি এখনো চলমান।
বিদ্যানন্দকাঠির দীঘিটি উত্তর-দক্ষিণে দীর্ঘ। ইতিহাসবিদ শতীশচন্দ্র মিত্র ধারনা করেছেন সম্ভবত: এটা কোন পুরাতন বৌদ্ধযুগের দীঘি। তিনি পুনরায় খনন করেন। আগে প্রতি বছর দোল পুজার দিন এখানে মেলা বসত। স্থানীয় লোকের গাভী দুগ্ধবতী হলে প্রথম দুধ তারা খান জাহান আলীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।
স্থানীয় মানুষ প্রবীনদের কাছে শুনেছেন-দীঘি খননের সময় খান জাহান আলী কিছু দিন এখানে অবস্থান করেন। তারা আরও বলেন, হয়তো তাঁর কোন অনুচরের স্মৃতিরক্ষার জন্য তার নাম অনুসারে নিকটবর্তী সারবাবাদ বা সারবাবাজের নামে হয়েছে। বিদ্যানন্দকাটি থেকে খান জাহান আলী অনুচরবর্গ নিয়ে সুন্দরবনের দিকে চলে যান।
জনশ্রুতি আছে তিনি বিদ্যানন্দকাঠি থেকে মাগুরঘোনা, আটারই, জেয়ালা, বারুইহাটির পুর্বধারা, তালা-চাপানঘাট, খলিননগর, গঙ্গারামপুর, ঘোষনগর, কপিলমুনি, রামনাথপুর, গদাইপুর ও মঠবাড়ি দিয়ে পাইকগাছা গিয়েছিলেন। সেখানে শিবসা নদী পার হয়ে লক্ষীখোলা, গজালিয়া ও আলমতলা দিয়ে মসজিদ কুড়ে মিশেছে। তারপর আমাদি ও পরে গভীর অরণ্যের মধ্যবর্তী বেদকাশী নামক স্থানে গিয়েছে। ছবি: জনকন্ঠের সাংবাদিক কবির হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.