কেশবপুরের ভান্ডারখোলা সম্মিলনী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভবন ও গাছ বিক্রির অভিযোগ

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ১৭ আগস্ট।
কেশবপুরের ভান্ডারখোলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের পুরনো ভবন ও অর্ধ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের গঠন করা ম্যানেজিং কমিটি গত ৩ মাসেও অনুমোদন না দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। কমিটি ছাড়াই চলছে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার কারনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কেশবপুরের রাজবিহারী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবু সাইদ ২০১৮ সালের ১৪ জুন নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে ভান্ডারখোলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ১৩/০৬/২০১৮ তারিখের সর্বশেষ নিয়োগ বিধিতে উল্লেখ রয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিতে চাই তাহলে তার অবশ্যই সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কমপক্ষে ৩ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু আবু সাইদ এ বিধি ভঙ্গ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। সে কারণে তিনি এখনো এমপিও ভূক্ত হতে পারেননি। যোগদান পর তিনি নিজের ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসছেন। প্রধান শিক্ষক টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের পুরাতন ভবন বিক্রি করেছেন। একইভাবে বিদ্যালয়ের বড় বড় ৮টি মেহগনী গাছও বিক্রি করেছেন। ভবন ও গাছ বিক্রির অর্থ তিনি প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো ব্যয়ের নামে আতœসাতের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। 
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিক্রি করা পুরনো ভবন ভাঙ্গার কাজ প্রায় শেষের পথে। কাঠ ব্যবসায়ী বিক্রি করা গাছ কাটছেন। অভিভাবক সদস্য দীপঙ্কর দাস অভিযোগ করেন, বিগত ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হলে গত ৪ জুন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকলের সম্মতিতে কেশবপুর থানার ওসি মোঃ শাহিন বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও সময় ক্ষেপণের কারণে দীর্ঘ প্রায় ৩ মাসেও তিনি সভাপতির দায়িত্ব বুঝে পাননি। ওসি মোঃ শাহীন জানান, তিনি এখনো দায়িত্ব পাননি।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, গাছ বিক্রি জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করা হলে তিনি বনকর্মকর্তা, শিক্ষা প্রকৌশলী ও আমাকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। টেন্ডার দিতে গেলে সময় লাগবে সে কারণে উক্ত কমিটির সিদ্ধান্তে গাছ ও ভবন বিক্রি করা হয়েছে। অবৈধ নিয়োগের প্রশ্নে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বোর্ডের আমাকে নিয়োগ দেয়া হছেয়ে। তবে নিয়োগে আগে নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় আমি এখনো এমপিও ভুক্ত হতে পারিনি। নিয়ম মোতাবেক নতুন কমিটি অনুমোদনের জন্যে বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে কিন্তু এখনও বোর্ড থেকে অনুমোদন দেয়া হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, এ সংক্রান্ত ব্যাপারে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কবির হোসেন
কেশবপুর
০১৭১১-২৫৬৩৫৬।

Leave a Reply

Your email address will not be published.