কেশবপুরে জমে উঠেছে কোরবানীর পশু হাট

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ৭ আগস্ট।
পবিত্র ঈদ উল আযহাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে কেশবপুরে পশুর হাট। কোরবানীর পশু কেনাকাটায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় চোখে পড়ার মত। কেশবপুর পৌর শহর, সরসকাটি পশুহাট, সাতবাড়িয়া, চিংড়া, বগা, ভান্ডারখোলা বাজার এই মোট ৬টি পশুর হাট বসেছে কেশবপুরে। এসব হাটে প্রচুর দেশী গরু উঠেছে। অন্যান্য ভ্রাম্যম্যান পশু হাটে অল্প পরিমান ভারতীয় গরু দেখা গেলেও কেশবপুর শহরের পশু হাটে চোখে পড়েনি। এখানে শুধু দেশীয় খামারে পালিত গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ায় পরিপুর্ণ। 
আর মাত্র কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদ-উল আযহা। ক্রেতারা শেষ বেলায় গরু বা কোরবানির পশু কেনার জন্য ছুটছেন পশুহাটে। কেশবপুরের পশু হাট সোমবার ও বুধবার। বুধবার ছিল কেশবপুর শহরের শেষ হাট। সকাল থেকে ক্রেতা বিক্রেতাদের জমজমাট বেচাবিক্রি লক্ষ্য করা যায়। ভারতীয় গরু না থাকায় এসব হাটে এ বছর দাম গত বছরের তুলনায় একটু বেশি। এতে সন্তষ্ট খামারী ও দেশীয় গরু ব্যবসায়িরা। লক্ষ্য অনুযায়ী মূল্য পাওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে না খামারীদের। একইভাবে সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে পশু কিনছেন ক্রেতারা। তাই বিক্রিতেও রয়েছে প্রতিযোগিতা। এ বছর পশু হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশী। উপজেলা সদরের পশুহাট মালিক আফজাল হোসেন বাবু বলেন, অন্য বারের তুলনায় এবার প্রচুর পরিমানে দেশী গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া আমদানি হয়েছে। বেচা বিক্রিও অনেক বেশী। কেশবপুরের পশুহাটটি অনেক পুরাতন একটি হাট। এটি যশোর সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পশুহাট হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া জাল টাকা সনাক্ত করণ মেশিন থাকাসহ বাজারের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ভালো থাকায় দুর দুরান্ত থেকে ক্রেতা বিক্রেতাগণ আসছেন এবং নির্ভয়ে বেচাকেনা করছেন। প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে ২ হাজার গরু বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ৩০ হাজার টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা দামের গরু বাজারে এসেছে। গ্রামগঞ্জের মানুষ শেষ মুহুর্তে কেনাকাটা করে থাকে। তাই শেষ মুহুর্তে  আরো বেশী পশু বিক্রি হওয়া এবং বাজার আরো জমজমাট।
উপজেলার সাগরদত্তকাটি গ্রাম থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, বাজারে ভারতীয় গরু না থাকায় দেশী গরু বিক্রি বেড়েছে। বেশী বেশী গরু বিক্রি হওয়ায় আমরা খুশি। কোরবানীর পশু কিনতে আসা অনেকেরই অভিযোগ, অন্য বছরের তুলনায় এবছর পশুর দাম অনেক বেশী। ভারতীয় গরু না আসার অজুহাতে দেশী গরুর আকাশ ছেঁায়া দাম হাকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। গরুর দাম বেশী থাকার কারণে অনেকে ছাগল কোরবানী কিনছেন। মনিরামপুর উপজেলার আমিনপুর গ্রাম থেকে আসা ক্রেতা রাফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকায় পশুর দাম বেশী  হওয়ায় এখানে এসেছি কিন্তু এখানেও অনেক দাম চাচ্ছেন বিক্রেতারা। দাম বেশী হলেও অসংখ্য পশুর মধ্য থেকে তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দসই পশুটি কিনতে পেরে খুশি তারা। 
তবে ব্যবসায়ী মজিদপুর গ্রামের আজিজুর রহমান জানান, চলতি বছর গরু হাটে বেচাবিক্রি কম। অনেকে পশুর হাট থেকে পশু না কিনে গ্রামের খামারিদের কাছ থেকে পশু ক্রয় করছেন। পাশ্ববর্তি মণিরামপুর উপজেলা থেকে আসা ব্যাবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, কেশবপুর পশু হাটে হাট এজারাদারদের কর্তৃক বিক্রেতারা প্রচুর নাজেহাল হওয়ার কারণে ও তাদের উৎপাদিত পশু হাটে না এনে বাড়িতে বিক্রি করছেন। উপজেলার বেলোকাটি গ্রামের আব্দুল মান্নানের একটি পশু আছে যার মূল্য ৩ লাখ টাকা ও সাগরদত্তকাটি গ্রামের রজব আলীর একটি গরু আছে যার মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তারা হাট এজারাদারদের হয়রানীর আতঙ্কে তাদের গরু বিক্রির জন্য কেশবপুরে পশু হাটে নিয়ে যাননি। ক্রেতা যদি বাড়িতে আসেন তাহলে বিক্রি করবেন বলে জানান। 
কেশবপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরের সাধারণ চাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করে ও সার্বক্ষনিক তদারকির কারণে কেশবপুরে পশু উৎপাদিত হয়েছে প্রচুর। চলতি বছর ঈদুল আযহা উপলক্ষে ষাড় উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৪ শত ২২ টি ও ছাগল উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৫ শত ৩৮ টি। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি। পশু অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ও সার্বক্ষনিক তদারকিতে কেশবপুর খামারি ও কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক পশু উৎপাদন হয়েছে । কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন জানান, কোরবানীর পশুর হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণের যাবতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা  হয়েছে। এছাড়াও জাল টাকা ব্যবসায়ী চক্রদেরকে সনাক্ত করতে জাল টাকা পরীক্ষার জন্য মেশিন বসানো হয়েছে।
কবির হোসেন
কেশবপুর
০১৭১১-২৫০৩৫৬

Leave a Reply

Your email address will not be published.