কেশবপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে শ্যামা পূজার প্রস্তুতি

কেশবপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে শ্যামা পূজার প্রস্তুতি

দেশের খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কেশবপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে শ্যামা পূজার প্রস্তুতি

আজিজুর রহমান : কেশবপুর উপজেলায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা মন্ডপ, মহল্লাসহ বাড়িতে বাড়িতে শ্যামা পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের মূলগ্রামেই ২২টি শ্যামা পুজা অনুষ্ঠিত হয়। করোনা মহামারীর দুর্যোগ মাথায় নিয়েই স্বাস্থবিধি মেনে এবার এ পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানা গেছে, হিন্দু পূরাণ মতে কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালি নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে শক্তির পূজা।

জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়। কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুন্ডি, ভদ্রকালী, দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।কালীপূজার দিন হিন্দু সম্প্রদায় সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন।

এটিকে বলা হয় দীপাবলী। দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও গৃহে বা মন্ডপে মৃন্মময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করা হয়। মন্দিরে বা গৃহে প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরময়ী বা ধাতুপ্রতিমাতেও কালীপূজা করা হয়। মধ্যরাত্রে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

তবে গৃহস্থ বাড়িতে সাধারণত অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যমতে আদ্যাশক্তি কালীর রূপে কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কালী শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। এই কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে শ্মশানে মহাধুমধামসহ শ্মশানকালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলার বায়সা সার্বজনীন কালিপূজা মন্দিরের সভাপতি অভিজিৎ তরফদার বাবলা ও সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত দাশ বলেন, করোনাকালে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শ্যামা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণে দীপাবলির সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। দর্শনার্থীদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কেশবপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সাহা বলেন, প্রতিবছর মূলগ্রামেই সর্বাধিক শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন পূজা মন্ডপ, মহল্লা ও বাড়িতে বাড়িতে অসংখ্য শ্যামা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও কেশবপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক শ্যামল সরকার বলেন, যথাসম্ভব সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজার কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সকল প্রকার আড়ম্বর পরিহার করে ও বিসর্জনকালে লোকসমাগম না করতে বিভিন্ন স্থানে এবং পূজার আয়োজক কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।  ভিজিট করুন