কোন সুস্থ মানুষ কি এমন ছবি দেখে বিচলিত না হয়ে পারে?

কোন সুস্থ মানুষ কি এমন ছবি দেখে বিচলিত না হয়ে পারে?

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
কোন সুস্থ মানুষ কি এমন ছবি দেখে বিচলিত না হয়ে পারে?
ফজলুল বারী।।
বাসন্তী রেমার এই ছবিটি আমরা প্রথম পাই ফেসবুকে। কোন সুস্থ মানুষ কি এমন ছবি দেখে বিচলিত না হয়ে পারে? এরপর আমরা আমাদের একজন প্রতিনিধিকে সেখানে সরেজমিন তদন্তে পাঠাই। এরপর মূলধারার মিডিয়া সেখানে যেতে শুরু করে। তাদের রিপোর্টের একটি এংগেল হচ্ছে জমি বনবিভাগের। তা বাসন্তীর দখলে ছিল। সে যাকে লিজ দিয়েছে কলাগাছ কাটায় ক্ষতি তার হয়েছে। বাসন্তীর না। এর আরেক মানে দাঁড়ায় কলাবাগান কাটা ঠিকই আছে। বন বিভাগের কাজ গাছ লাগানো। ধংস করা নয়। বিনা নোটিশে গাছ কেটে বনবিভাগের ভূমি উদ্ধারের দ্বিতীয় কোন নজির নেই।
অথচ আমাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এসব জমি ছিল ভাওয়াল রাজাদের। সেখানে তারা তাদের প্রজাদের বসবাসের অনুমতি দিয়েছিল। বাসন্তী রেমাও বংশ পরষ্পরায় সেখানে বসবাস করছে। সেখানে একসময় চাষবাস করতো বাসন্তীর নানী, এরপর তার মা এবং এখন বাসন্তী। ১৯১৫ সালেরও আগে ওই এলাকায় বনজীবী হিসাবে গারো জনগোষ্ঠির গোড়াপত্তন হয়।
গারোদের মা প্রধান সমাজ। সম্পদও এভাবে মায়ের নামে হয়। কিন্তু এদের জমির কোন কাগজ নেই। আদিবাসী লোকজন জানতোনা জমির কাগজ যে থাকতে হয়। এটা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি কমিশন কাজ করছে। কিন্তু সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যার সমাধানে কাজ করছেনা সেই ভূমি কমিশন। সমতলের আদিবাসীরা বনবিভাগের ইচ্ছা অনিচ্ছার শিকার।
মূলধারার মিডিয়ার যারা রিপোর্ট করতে সেখানে গেছেন তাদের রিপোর্ট দেখে পড়ে মনে হয়ে দেশের আদিবাসী সম্প্রদায় বিরোধী একটি দৃষ্টিভংগী তারা পোষন করেন। নতুবা আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা তারা এড়িয়ে গেলেন কি করে? খোঁজ নিলে হয়তো জানা যেত বাসন্তীদের অনেকের বাড়িঘরের জমিরও কাগজপত্র নেই।
মূলধারার মিডিয়ার কোন কোন রিপোর্টের আরেকটি এংগেল হচ্ছে বনবিভাগ জমি উদ্ধারের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাসন্তীর ধংসকরা কলাবাগানে গিয়ে আটকে গেছে। আমাদের তদন্তে এসেছে ওই এলাকার বনবিভাগের জমির বড় অংশ আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াকুবের মতো লোকজনের দখলে রয়েছে। বনবিভাগের লোকজন তাদের দখল করা জমির পাশ দিয়ে হাঁটতেও ভয় পায়। সবার সব বড়াই শুধু এসব দূর্বল বাসন্তীদের ঘিরেই!
সবচেয়ে ভীতিকর হচ্ছে বনবিভাগ এসব নিয়ে কথিত বিচার সাজায় মূল ভূমিদস্যু ইয়াকুবদের উদ্যোগ নেতৃত্বেই! এতে বাসন্তীরা শুধুই ভূমিচ্যুত হয়। সেখানে দখল প্রতিষ্ঠিত হয় ইয়াকুবদের টাকায় যারা বশ করতে পারে তেমন কারো। বাসন্তীর জমি নিয়েও ২৪ সেপ্টেম্বর এমন একটি বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আমরা অপেক্ষায় সে বিচারের সিদ্ধান্ত দেখার। আমরা দূর্বল বাসন্তীকে বংশ পরষ্পরায় বসবাস করা জমিতে পুন:প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করতে চাই। বন বিভাগের জমি উদ্ধার করতে চাইলে ইয়াকুবদের দখলে থাকা জমি উদ্ধার করে আসুন। বন সুন্দর থাকবে আদিবাসী বাসন্তীদের হাতে। সব জাতি আদিবাসী নৃজাতি নিয়েইতো সুন্দর থাকবে বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.