গুনের যার শেষ নেই মিঠুন চক্রবর্তীর

গুনের শেষ নেই মিঠুন চক্রবর্তীর

বিনোদন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
গুনের যার শেষ নেই মিঠুন চক্রবর্তীর

মিলি সুলতানা।। গুনের শেষ নেই মিঠুন চক্রবর্তীর। মিঠুন যখন কিশোর কুমারের তৃতীয় স্ত্রী যোগিতাবালিকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেন তখন কিশোর কুমার ভারতের সুপারস্টার গায়ক। সে সময় হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একচেটিয়া কিশোর কুমারের রাজত্ব চলছিলো। সুরের রাজা আর ডি বর্মন ছিলেন কিশোরের জিগরি দোস্ত। মিঠুনের ক্যারিয়ার ছিল নড়বড়ে।

যোগিতাবালিকে হারিয়ে কিশোর কুমার মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন। মিঠুনের প্রতি তাঁর আজন্ম ঘৃণা ছিল। তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মিঠুন অভিনীত কোনো ছবির গানে কণ্ঠ দেবেন না। সে সময় বন্ধু আর ডি বর্মন কিশোরের পাশে ছায়ার মত থাকতেন। তাঁকে মানসিক শক্তি যোগাতেন। কিশোর কুমার তাঁর জীবনের সর্বাধিক গান গেয়েছেন আর ডি বর্মনের সুরে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু আর ডি বর্মন অনুরোধ করেছেন কিশোর যেন তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে ফেরত আসেন। বন্ধুর অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেননি কিশোর। এরপর তিনি মিঠুনের জন্য সীমিত কটি গান গেয়েছিলেন। তাও ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

যেমন ১৯৮২ সালে ডিসকো ড্যান্সার ছবির “আই অ্যাম এ ডিসকো ড্যান্সার” এই গান গাওয়ার জন্য কিশোর কুমারকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু মনের ক্ষোভ বিতৃষ্ণার কারণে কিশোর সেই গান গাননি। সেটা গেয়েছেন বিজয় বেনেডিক্ট। এভাবে মিঠুন অভিনীত বহু ছবির গান কিশোর গাইতে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরবর্তীতে সেগুলো বিজয় বেনেডিক্ট গেয়েছেন।

যোগিতাবালিকে বিয়ে করার আগে মিঠুন হেলেন লুক নামের এক বি গ্রেডের অভিনেত্রীকে বিয়ে করেছিলেন। সেই বিয়ে মাত্র কয়েক মাস টিকেছিল। শ্রীদেবী ছিলেন মিঠুনের তৃতীয় স্ত্রী। শ্রীদেবী চেয়েছিলেন মিঠুন যেন যোগিতাবালিকে ত্যাগ করেন। কিন্তু সেটা মিঠুন করতে পারবেন না বলাতে শ্রীদেবীর সাথে তার বিচ্ছেদ ঘটে। তবে বাপ মিঠুন যেমন “গ্রেট লুচুয়া” ছিলেন তেমনি তার বড়ছেলে মহাকশয় চক্রবর্তী মিমো– সেও “লুচুয়া” হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।

কিশোর কুমার আর ডি বর্মনকে বলেছিলেন, “বিয়ের দিন আমি তার (যোগিতাবালি) মাথায় হাত রেখে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, ভগবান ওকে কোনো মানসিক চাপ দিওনা। সারাজীবন ও’ যেন আমার আঙিনায় প্রজাপতির মত উড়ে বেড়াতে পারে। এখন থেকে সেই শুভ কামনা তার জন্য অভিশাপে রুপান্তরিত হবে…………।”

এরপরের কাহিনী আমরা সবাই জানি। মিঠুনের বড়ছেলে মিমো এক ভোজপুরী অভিনেত্রীর সাথে প্রেমে জড়ায়। তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। শারীরিক সম্পর্কের এক পর্যায়ে অভিনেত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। মিমো তাকে বাচ্চা অ্যাবরশনের জন্য চাপ দেয়। অভিনেত্রী রাজি না হলে মিমো এবং তার মা যোগিতাবালি তাকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে জোর করে গর্ভপাত ঘটায়। মা ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। মিঠুনের এক পরিচালক বন্ধু বলেছেন, ছেলেদের নিয়ে মিঠুন যোগিতার জীবনে আর শান্তি এলো না। মিঠুনের আরেক ছেলে ড্রাগ অ্যাডিক্টেড। অনেকে মনে করেন কিশোর কুমারের অভিশাপ মিঠুন –যোগিতাবালির পিছু ছাড়েনি।