সংখালঘু সম্প্রদায়ের চলাচলের রাস্তায় ঘর নির্মান করেছে বিএনপি নেতা

চলাচলের রাস্তায় ঘর নির্মান করেছে বিএনপি নেতা

জাতীয় খবর দেশের খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সংখালঘু সম্প্রদায়ের চলাচলের রাস্তায় ঘর নির্মান করেছে বিএনপি নেতা

কেশবপুর প্রতিনিধি ॥ কেশবপুর পৌর শহরের মাইকেল গেট এলাকায় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংখালঘু সম্প্রদায়ের চলাচলের রাস্তা দখল করে জোরপূর্বক বসত ঘর নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে পৌরসভার মেয়রের নিকট লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, কেশবপুর পৌরসভার মাইকেল গেট সংলগ্ন টিএনটি অফিসের পাশে ৭২ নং আলতাপোল মৌজার হাসেম আলী, কামরুজ্জামান ও মনিরুজ্জামানের নিকট থেকে প্রভাত কুমার মল্লিক, মুনসুর আলী ও জাহাঙ্গীর হোসেন ১২ শতক জমি ক্রয় করে বসতবাড়ি নির্মান করে বসবাস করছেন।

ওই জমির পিছনের বসবাসকারী ও পাশ্ববর্তী জমি থেকে যশোর সাতক্ষীরা সড়কে বের হবার রাস্তা না থাকায় উভয় জমির মালিক সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরসহ গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি রাস্তা মৌখিক ভাবে বের করা হয়। পরবর্তীতে লিখিতভাবে হাসেম আলী, কামরুজ্জামান, মনিরুজ্জামান ও আলমগীর হোসেন আলম সেচ্ছায় ৯ ফুট রাস্তা যশোর সাতক্ষীরা সড়ক থেকে জমির পূর্ব মাথা পর্যন্ত সকলের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

উক্ত রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সকলেই যাতায়াত করে আসছেন। গত ১৫ মার্চ আলমগীর হোসেন আলম ওই রাস্তায় চলাচল করার জন্য প্রভাত কুমার মল্লিক, মুনসুর আলী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের নিকট অর্থ দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় আলমগীর হোসেন আলম চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিতে থাকেন।

এ বিষয়ে ক্রয়কৃত ও প্রকৃত জমির মালিকরা সোমবার পৌরসভার মেয়রের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। পৌরসভার পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের নির্দেশনা ও যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ না করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু কোন নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন আলম রোববার চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে বসত ঘর নির্মান করেছেন।

এলাকার সন্ত্রাসীদের সহায়তায় আলমগীর হোসেন আলম সংখালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যদের মারপিট ও খুন জখমের হুমকিও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রভাত কুমার মল্লিক, মুনসুর আলী ও জাহাঙ্গীর হোসেন পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় জমির মালিক উভয়পক্ষের মধ্যে তিব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন আলম বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি শরীকানা হওয়ায় তারা ৬ ফুট ও আমরা ৩ ফুট জমি দিয়ে রাস্তা নির্মান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতের তারা রাস্তার জমি না ছেড়ে বিক্রি করে দেয়। যারা ক্রয় করে তারাও রাস্তার জায়গা না রেখে ফ্লাট বাড়ি নির্মান করে বসবাস করছে। এখন যাতায়াতের সমস্যা হওয়ায় আমার ফাকা জমিতে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মান করার চেষ্টা করছে। ওখানে কোন রাস্তা ছিলনা। আমার জমিতে আমি বসত ঘর করেছি। বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের মাধ্যমে একাধিকবার মিমাংশা করা হয়েছে। তারপরও তারা জোরপূর্বক আমার জমির উপর রাস্তা নির্মানের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আগামী ৩ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে শুনানির দিন ধার্য করে উভয়পক্ষকে নোটিশ প্রদান করে চলাচলের রাস্তায় স্থাপনা নির্মান বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পৌর পরিষদের নির্দেশ অমান্য করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মান করা হলে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।