চাঁদা না দেয়ায় যুবলীগ নেতার হাতে ব্যবসায়ী লাঞ্চিত

দেশের খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক।। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় কেশবপুরের মঙ্গলকোট বাজারের এক ব্যবসায়ীকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলকোট ইউনিয়ন যুবলীগের বিলুপ্ত কমিটির আহবায়কের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলকোট বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পাঁচারই গ্রামের আবুল কালাম আজাদ রড, সিমেন্ট ও স্যানিটারির ব্যবসা করে আসছেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স লাবিব এন্টার প্রাইজে এসে বুধবার রাতে মঙ্গলকোট ইউনিয়ন যুবলীগের সম্প্রতি বিলুপ্ত হওয়া কমিটির আহবায়ক আল আলাল দিলু ঈদ উপলক্ষে খরচের জন্য ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ওই বাজারের ধান ও চাউল ব্যবসায়ী জামাল সরদারের দোকানের মধ্যে বসে থাকা অবস্থায় ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদকে মারপিট করে যুবলীগ নেতা আল আলাল দিলু ও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী।

এ ঘটনায় সোমবার কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ওই ব্যবসায়ীকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও চিহ্নিত ওই চাঁদাবাজরা আটক না হওয়ায় ব্যবসায়ীসহ জনমনে থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৪ জুন মঙ্গলকোট ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর তারা যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। চাঁদাদাবি, মারপিট ও দলীয় নেতাকর্মীদের লাঞ্চিত করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। মারপিটের ভয়ে তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
কেশবপুর আসনের উপনির্বাচনের পূর্বে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বড়েঙ্গা পীর সাহেবের মাজার জিয়ারত করতে আসেন যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে যুবলীগ নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বজলুর রহমানকে লাঞ্চিত করে। ওই ঘটনার পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা যুবলীগ মঙ্গলকোট ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করে।
মঙ্গলকোট বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামাল সরদার বলেন, ঘটনার দিন তার দোকানে বসে ছিলেন ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ। যুবলীগ নেতা দিলু ও তরিকুল সেখানে এসে ওই ব্যবসায়ীকে লাঞ্চিত করে।
যুবলীগের আল আলাল দিলু বলেন, আবুল কালাম আজাদ যে দোকানে ব্যবসা করছেন সেই দোকান আমার এক পরিচিত ব্যক্তি নতুন করে ভাড়া নিয়েছেন। সে বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে তর্ক বিতর্ক হয়েছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে একটি পক্ষের ইন্ধনে তিনি চাঁদাদাবির মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। চাঁদাদাবি ও তাকে মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
আবুল কালাম আজাদের ঘর মালিক লতা খাতুন বলেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে পরবর্তী ৩ বছরের জন্য আবুল কালাম আজাদকে ভাড়া দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে অন্য কাইকে ওই ঘর ভাড়া দেয়ার প্রশ্নই আসে না। এছাড়া পরবর্তীতেও ভাড়া দেয়ার বিষয়ে কারো সাথে কোন কথা হয়নি।
মঙ্গলকোট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, শুধু লাবিব এন্টার প্রাইজ না মঙ্গলকোট বাজারের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তারা চাঁদাবাজি করে। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সময়ে লাঞ্চিত করেছে। তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থেকে তারা এসব অপকর্ম করে আসছে। আমাকেও তারা একাধিকবার লাঞ্চিত করেছে। লাঞ্চিত হবার ভয়ে এতদিন তাদের অপকর্ম নীরবে আমার মত অনেক নেতাকর্মীকে সহ্য করতে হয়েছে।
কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক ফজলে রাব্বি বলেন, চাঁদা দাবি ও মারপিটের ঘটনায় যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আটক অভিযান অব্যহত রয়েছে।–আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.