বঙ্গমাতা

জয়তু বঙ্গমাতা স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘জয়তু বঙ্গমাতা’র মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতির পিতার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (০৮ আগস্ট) গণভবনে জয়ীতা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘জয়তু বঙ্গমাতা’ শীর্ষক স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

জয়ীতা প্রকাশনীর ‘জয়তু বঙ্গমাতা’ গ্রন্থটিতে বঙ্গমাতার জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে।মার্জিত ও রুচিসম্মত প্রকাশনাটির ১১৬ পৃষ্ঠার কলেবরে বঙ্গমাতাকে নিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণায় সন্নিবেশিত হয়েছে শতাধিক সংবাদচিত্র, যার বেশিরভাগই দুর্লভ।মুখবন্ধসহ নতুন-পুরোনো মিলিয়ে ১২টি লেখা রয়েছে গ্রন্থটিতে। বঙ্গমাতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, নীলিমা ইব্রাহিম, বেবী মওদুদ, এবিএম মূসা, মমতাজ লতিফ ও আমিনুল হক বাদশা।

বঙ্গমাতাকে বহুকৌণিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মূল্যায়ন করার প্রয়াস রয়েছে এসব লেখায়। একইসঙ্গে রয়েছে একান্ত পারিবারিক নানা মুহূর্তের কথা। জাতির পিতার পরিবারের বহু অজানা তথ্যের পাশাপাশি তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতিরও একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যবহুল চিত্র এই রচনাগুলোতে উঠে এসেছে।

বেগম ফজিলাতুন নেছা রেনু ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট ফরিদপুর জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তিনি ছিলেন যেন এক আত্মা। বাংলাদেশের ইতিহাসের পলাবদলের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহে তাৎপর্যময় ভূমিকা রেখেছেন বেগম মুজিব। কখনো প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছেন, কখনো পরোক্ষভাবে উপদেশ, পরামর্শ, নানা ধরনের সহযোগিতা-সমর্থনে যুক্ত থেকেছেন সমকালীন ঘটনাপরম্পরার সঙ্গে। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তিনি উৎসর্গ করেছিলেন নিজের স্বামীকেও। কিন্তু ইতিহাসের পাদপ্রদীপের আলোয় সেভাবে উদ্ভাসিত হননি তিনি। চিরকাল নেপথ্যেই থেকে গেছেন। নীরবে-নিভৃতে কাজ করে গেছেন কোনো পুরস্কার, কোনো স্বীকৃতির প্রত্যাশা না করে। এই মহিয়সী নারীর যাপিত জীবনের নানা অজানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে বইটিতে।

স্নেহময়ী মাকে নিয়ে লিখেছেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সংকলিত লেখা দুটিতে বঙ্গমাতার এক অনন্য পরিচয় পাওয়া যায়, যিনি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সংসার সামলানোর পাশাপাশি দল পরিচালনা করেন সমান দক্ষতায়।

শিক্ষাবিদ ড. নীলিমা ইব্রাহিমের লেখাটিতে পাওয়া যাবে অনেক চমকপ্রদ অজানা তথ্য। সাংবাদিক ও সাহিত্যিক বেবী মওদুদ লিখেছেন বঙ্গবন্ধুর জীবনে কত গভীর ছিল তাঁর স্ত্রীর ভূমিকা সেই প্রসঙ্গে। বঙ্গমাতার অবদানের মূল্যায়ন রয়েছে প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসার লেখায়। মমতাজ লতিফ লিখেছেন বঙ্গবন্ধুর বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার নেপথ্যে বেগম মুজিবের ত্যাগ ও প্রেরণা প্রসঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গমাতার ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে আমিনুল হক বাদশার লেখায়। এ ছাড়া ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে বঙ্গবন্ধু সহধর্মিনীর যে স্মৃতিচারণা করেছেন এবং যেভাবে তাঁর মূল্যায়ন করেছেন, সেই অংশগুলো একসঙ্গে এনে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর জবানিতে তাঁর সহধর্মিণী’ শিরোনামে। সবশেষে ‘আলোকচিত্রে বঙ্গমাতা’ শিরোনামে সংযোজিত হয়েছে দুর্লভ কিছু আলোকচিত্র।

বঙ্গমাতার ৯১তম জন্মদিনের স্মারক প্রকাশনা ‘জয়তু বঙ্গমাতা’ পাওয়া যাবে জয়ীতা প্রকাশনীর ২০/২১ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কার্যালয়ে। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৬০০ টাকা।

বার্তা প্রেরক : হাসিবুর বাশার হামিদ
জয়ীতা প্রকাশনী
01842002848

Leave a Reply

Your email address will not be published.