লাইব্রেরির নিজস্ব ভবন তৈরি শেষে ১৯৯৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মহান শিল্পী এসএম সুলতান বর্তমান ভবনের উদ্ভোধন করেন।

ডিহি ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন করেন শিল্পী এসএম সুলতান

সাহিত্য জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডিহি ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন করেন শিল্পী এসএম সুলতান

সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।। আগামী ৩০ নভেম্বর ‘ডিহি ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরি’র বয়স হবে ৪৩ বছর। ১৯৭৭ সালের ৩০ নভেম্বর এলাকার কিছু তরুন ও যুবক যশোরের শার্শার পাকশিয়া বাজারে লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান লাইব্রেরির নিজস্ব ভবন ১৯৯৩ সালে মহান শিল্পী এসএম সুলতান উদ্বোধন করেছিলেন।

একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪৩ বছর মহাকালের কাছে সামান্য সময় মাত্র। তারপরও বলব প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের একটি লাইব্রেরির ৪৩ বছর টিকে থাকা অনেক বড় ব্যাপার।

লাইব্রেরি প্রথমে স্থাপিত হয়েছিল পাকশিয়া বাজারে সিববাস গ্রামের মহসিন আলী মনির ঘরে। মনির ইচ্ছা ছিল ঘরে একটি দোকান করবেন। তিনি লাইব্রেরির জন্য ঘরটি দিয়ে ছিলেন। ওই ঘরে লাইব্রেরিটি পরিদর্শন করেন তৎকালীন যশোরের জেলা প্রশাসক মহিউদ্দিন খান আলমগীর (১৯৭৮ সালের ২১ জানুয়ারি লাইব্রেরি পরিদর্শনে যান এবং ৫শ’ টাকার সরকারি অনুদান দেন-সেটাই লাইব্রেরির সরকারি প্রথম অনুদান।) অধ্যাপক শরীফ হোসেন, অর্থনীতিবিদ ড: মোহাম্মদ ইউনুস, বৃটিশ লাইব্রেরির কনসালটেন্ট জেমস স্টিফেন পার্কার। লাইব্রেরির জন্য টাকা সংগ্রহ করতে এলাকার তরুনরা, কারও গরু মরে গেলে, তার চামড়া ছিলে তা বিক্রি করেছে। এটা নিজের চোখে দেখা।

১৯৮০ সালে ঘুর্ণিঝড়ে মহসীন আলী মনির ঘরটি ভেঙ্গে যায়। তখন লাইব্রেরির ঠাঁই হয় ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় পরে তা স্থানান্তর হয় ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনে। ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওখানেই লাইব্রেরির কাজ চলে।

লাইব্রেরির নিজস্ব ভবন তৈরি শেষে ১৯৯৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মহান শিল্পী এসএম সুলতান বর্তমান ভবনের উদ্ভোধন করেন।
ডিহি ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন করেন মহান শিল্পী এসএম সুলতান

লাইব্রেরির নিজস্ব ভবন তৈরি শেষে ১৯৯৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মহান শিল্পী এসএম সুলতান বর্তমান ভবনের উদ্ভোধন করেন। এর আগে ১৯৯২ সালের ১১ এপ্রিল লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম।

লাইব্ররির জন্য বিনামুল্যে ১০ কাঠা জমি দিয়েছিলেন পাকশিয়া গ্রামের আকবর আলী সরদার। আর অবকাঠামো নির্মাণে ১১ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিল সুইডিশ প্রতিষ্ঠান ‘সোয়ালজ’। এর পিছনে কারণও ছিল। ওই এলাকায় ১৯৮৭ সালে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। একমাত্র লাইব্রেরির কর্মীরাই ত্রাণ সাহায্য করেছিল। সে কাহিনী সুইডিশ পত্রিকায় প্রকাশিত হবার পর সোয়ালজ লাইব্রেরিকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়।

আমি ১৯৭৭ সালেই লাইব্রেরির শিশু-কিশোর সদস্য ছিলাম। আমার সদস্য নম্বর ছিল-১০। পরে হয়েছিলাম সাধারন সদস্য। সদস্য নম্বর ২৪৭। ১৯৯২ সালের জুন মাসে হয়েছিলাম জীবন সদস্য। তখন এক হাজার টাকা দিলে লাইব্রেরির জীবন সদস্য হওয়া যেত। আমি জীবন সদস্য হতে আমার বাইসাইকেলটি বিক্রি করে দিয়েছিলাম। ভিজিট করুন

অক্ষরজ্ঞানও ছিল না অথচ সেইই ডিহি ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরিকে জমি দান করেছিলেন