তালবাড়িয়া গ্রামের দাইতলা খালেরপাড়ের মাটি লুট করা হচ্ছে

তালবাড়িয়া গ্রামের দাইতলা খালেরপাড়ের মাটি লুট করা হচ্ছে

দেশের খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তালবাড়িয়া গ্রামের দাইতলা খালেরপাড়ের মাটি লুট করা হচ্ছে

যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের দাইতলা খালেরপাড়ের মাটি লুট করা হচ্ছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এস্কেভেটর দিয়ে ৫/৭টি ট্রাক ভরে এ মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। যা নিয়ে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

গ্রামবাসী জানিয়েছেন, গত বছর ডিসেম্বর নাগাদ সদর উপজেলার দাইতলা খালটি ধানঘাটা ব্রিজ থেকে পুনর্খনন করা হয়। খননকৃত খালের মাটি দিয়ে পাড় বাঁধা হয়। সুন্দর পরিবেশের কারণে শহরসহ বিভিন্ন স্থানের মানুষ ধানঘাটা ব্রিজ এলাকায় বেড়াতে যাওয়া শুরু করেন। খালেরপাড় বাঁধাই করায় গ্রামবাসীও উপকৃত হন। এ পাড় দিয়ে গ্রামবাসী তাদের খেতে রোপণকৃত ফসল গরুরগাড়ি বা ট্রলি ভরে বাড়ি নিয়ে আসতেন। কিন্তু সুন্দর এ পরিবেশ সহ্য হয়নি কতিপয় প্রভাবশালীর।

তারা পাড়ের মাটি কেটে বিক্রির পরিকল্পনা শুরু করে। গ্রামবাসী অভিযোগে জানিয়েছেন, গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে ধানঘাটা গ্রামের আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে ৭/৮ জন এ খালপাড়ের মাটি লুট করে নিয়ে যায়। তারা এদিন সকাল ৭টার দিকে রীতিমতো এস্কেভেটর ও ৫-৭টি ট্রাক নিয়ে ধানঘাটা ব্রিজের পাশে হাজির হয়। তারা এস্কেভেটর দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে মাটি কেটে ট্রাক ভরে নিয়ে যেতে থাকে। তাদের এ কর্মকাণ্ড চলে বিকেল পর্যন্ত।

গ্রামবাসী বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে তারা কমপক্ষে দুশ’ ট্রাক মাটি কেটে নিয়ে গেছে। প্রতি ট্রাক মাটি দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। এ হিসেবে ২ শ’ ট্রাক মাটির মূল্য চার লাখ টাকা, যা গ্রামবাসী বুঝে ওঠার আগেই দিনে-দুপুরে লুট হয়ে গেছে। গ্রামের কয়েকজন জানান, খালপাড়ের মাটি কাটার বিষয়টি প্রথমে তারা বুঝতে পারেননি।

তারা ধারণা করেছিলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ যেহেতু খালটি পুনর্খনন করেছে, সেহেতু তারাই মাটি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, ধানঘাটা গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন এ মাটি লুট করেছেন।

এ নিয়ে গ্রামবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলেছেন, খালটি পুনর্খনন করায় পাড়ের ওপর দিয়ে তারা গরুর গাড়ি বা ট্রলি চালিয়ে খেতের ফসল আনা-নেয়া করেন। কিন্তু পাড়ের মাটি খালের পানি পর্যন্ত কেটে নেয়ায় কৃষকরা ভীষণ সমস্যার মুখে পড়েছেন। যেহেতু এখনও সবার খেতের ধান বাড়িতে আনা শেষ হয়নি।

সেহেতু গত দু’দিন তারা খালপাড়ের রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়ছেন। এ নিয়ে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তারা খালে মাটি লুটকারীর আটক ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ নিয়ে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খালপাড়ের মাটি তিনি কেটে নেননি। পাশেই তার জমি রয়েছে, এ জমি ইরি ধান চাষের জন্য প্রস্তুত করছেন, যাতে খেতে পানি না জমে। তিনি বলেন, খালের পাড় বাঁধাইয়ের জন্য তার জমিসহ অন্য অনেকের জমিতে পানি জমছে। এটি তিনি অপসারণ করেছেন। এখানে তার আরও ৩/৪ বিঘা জমি রয়েছে, সেখান থেকেও মাটি কাটা হবে বলে তিনি জানান। তবে দুশ’ ট্রাক মাটি কাটার কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি তার নিজের জমির আরও মাটি কাটবেন।

এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম জানান, দাইতলা খালপাড়ের মাটি তারা কাটেননি বা বিক্রি করেননি। তৃতীয় পক্ষ কেউ কেটে নিতে পারেন। তবে এ মাটি যেই কেটে নিয়ে থাকেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, শুধু দাইতলা খাল নয়, যে সব নদী বা খাল তারা পুনর্খনন করেছেন, সেইসব খালপাড়ের মাটি তারা দ্রুত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করবেন। এসব মাটি নিয়ে মানুষের সমস্যা হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। jk- ভিজিট করুন

খালের পলি অপসারণে গরালিয়া বিলের ৬ হাজার বিঘা জমিতে বোরো আবাদে আশার সঞ্চার