কেশবপুরে তালাক দেয়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে দোকান লুটপাটের অভিযোগ

তালাক দেয়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে দোকান লুটপাটের অভিযোগ

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কেশবপুরে তালাক দেয়া স্ত্রীর গার্মেন্টস দোকানের মালামাল লুটপাটের অভিযোগ এনে রবিবার কেশবপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আকতারুজ্জামান কাবুল। এতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আখতার গার্মেন্টর্সের তালা ভেঙ্গে তালাক দেয়া স্ত্রী নাদিরা আখতার প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয় অভিযোগ করা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত ছবেদ আলী মোড়ল এর ছেলে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে উল্লেখ করেন যে, ১৯৯০ সালে মুসলিম শরীয়ত মোতাবেক তার বিয়ে হয় খালিশপুর হাউজিং বাজার বাসা নং: ডব্লিউ/৭১, খুলনা মৃত শেখ মোর্শারাফ হোসেনের মেয়ে মোছা: নাদিরা আখতারের সাথে। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমানিল্যের কারণে ঠিকমত বনিবনা হয়না। এরপরও আমাদের ২টি কন্যা সন্তান হয়। তাদেরকে আমি সাধ্যমত ভালো যায়গায় ও উপযুক্ত পাত্রের সঙ্গে বিবাহ দিয়েছি। আমার স্ত্রী ঠিকমত ঘর সংসার করেনা।

মনিরামপুর উপজেলার রতনদিয়া গ্রামের মৃত হারকুছ মাওলানার ছেলে শরিফুল ইসলাম (যার বর্তমান বাড়ি শহরের বালিয়াডাঙ্গা, উপজেলা: কেশবপুর, জেলা: যশোর) সে সম্পর্কে আমার বোনের জামাই। সেই সুবাদে আমার বাবা বেঁচে থাকতেই আমাদের বসত ভিটার পাশে ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছে। আমি দোকানের কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আত্মীয়তার সুবাদে ভগ্নিপতি শরিফুল ইসলাম আমার স্ত্রীর সাথে গোপন সম্পর্ক গোড়ে তোলে।

তার কু-পরামর্শে আমার স্ত্রী আমার নিকট তালাক চায়। মেয়ে-জামায় ও সংসারের শান্তির কথা ভেবে আমি তাকে তালাক দিতে সম্মতি প্রকাশ করলে আমার স্ত্রী নাদিরা তালাকের নিয়ম অনুযায়ী কাবিন বাবদ ২০ হাজার এবং খোরপোষ বাবদ ১২ হাজার টাকার দাবিদার। সেখানে সে নিয়ম ভঙ্গ করে আমার পৈত্রিক ভিটার বাড়িসহ ৫ (পাঁচ) শতক জমি দাবি করে।

তখন সে অঙ্গীকার করে যে আমি উক্ত জমি পেলে ভবিষ্যতে স্বামী আকতারুজ্জামান কাবুলের বিরুদ্ধে দেন মোহর ও খোর পোষের মোকদ্দমা করবো না এবং নারী নির্যাতন, যৌতুকের মামলাও করব না। এমনকি থানা পুলিশ দিয়ে কোন হয়রাণী করব না। মেয়ে-জামায়সহ আমার সম্মানের কথা ভেবে আমি লোক লজ্জার ভয়ে গত ২৭/১২/২০১৮ তারিখ মাগুরাডাঙ্গা মৌজার ৮০ নং জে.এল, ২৩৫ নং খতিয়ানের ৬৮৮ নং দাগের .৮০ শতকের মধ্যে আমার পৈত্রিক ভিটার বাড়িসহ .৫ (পাঁচ) শতক জমি তার নামে রেজিষ্ট্রি করে দিই। যার দলিল নং: ৬৩৭০।

তারপর থেকে স্ত্রী নাদিরা ও ভগ্নিপতি শরিফুল ইসলাম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং বিভিন্ন সময় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। বর্তমানে জীবন ভয়ে আমি আমার পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছি। এরই মধ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার বিকেল ৩ টার সময় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আখতার গার্মেন্টর্সের তালা ভেঙ্গে তারা তাদের তালা লাগিয়ে দেয় এবং ওই রাতেই তালা খুলে দোকান থেকে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বিষয়টি আমি কেশবপুর থানাকে অবহিত করেছি। তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাদ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.