দুবাইয়ের ক্ষমতাধর শাসক পিতা তার কন্যাকে দুই বছর বন্দী করে রেখেছিলেন

দুবাইয়ের ক্ষমতাধর শাসক পিতা তার কন্যাকে দুই বছর বন্দী করে রেখেছিলেন

আন্তর্জাতিক
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
মিলি সুলতানা।। ইনি হলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজকুমারী শেখ লতিফা। পুরো নাম শেখ লতিফা বিনতে মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। প্রিন্সেস লতিফার পিতা শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম হলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী। দুবাইয়ের ক্ষমতাধর শাসক এই পিতা তার কন্যাকে দুই বছর বন্দী করে রেখেছিলেন।
দুই বছর আগে ২০১৮ সালে নিখোঁজ হয়ে যান রাজকুমারী শেখ লতিফা। কিন্তু কেন? কোথায় হারিয়ে গিয়েছেন তিনি? নাকি পালিয়ে গিয়েছেন? তা নিয়ে দুইবছর ধরে চলছে তদন্ত। তবে কিছুদিন আগে লতিফা তার বন্ধুদের কাছে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন, তিনি কোথাও পালিয়ে যাননি। তাকে তার নিজের বাবা বন্দি করে রেখেছেন গত দু’বছর ধরে। এমনটাই অভিযোগ করে ভিডিওটি প্রকাশ করেন রাজকুমারী লতিফা।
লতিফার বাবা শেখ মুহম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট। এর আগে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী জর্ডানের প্রিন্সেস হায়া বিনতে হুসেন তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে প্রচন্ড নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। প্রিন্সেস লতিফা ছোটবেলা থেকেই বেশ বিদ্রোহী স্বভাবের। তিনি নিয়ম ভাঙাতেই বিশ্বাস করেন। শাসক পিতার হাত পা বাঁধা নিয়ম ও নির্যাতন মেনে নিতে পারছিলেন না বলে তিনি ২০১৮ সালে পালাতে চেষ্টা করেছিলেন। বোটে করে এক বন্ধুর সহায়তায় পালাতে চেষ্টা করেন প্রিন্সেস লতিফা। কিন্তু জলপথে তাকে ধরে ফেলে তার স্বৈরাচারী পিতার সৈনিকরা। এবং সেই সময় থেকেই তাকে বন্দি রাখা হয়।
দুবাইয়ের একটি হোটেলকে কারাগারে পরিণত করা হয় লতিফাকে বন্দি রাখার জন্য। বাইরে থেকে সব জানালা সিল করে দেওয়া হয়। ঘরের দরজা বন্ধ করার অধিকার ছিল না রাজকুমারী লতিফার। তিনি অসুস্থ হয়েছেন। কিন্তু তাকে কোনো রকম চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কঠোর বন্দীদশায় এগুলো মেনে নিতে পারেননি বলে ছটফট করছেন রাজকুমারী। এমনকি শুধুমাত্র বাথরুম ব্যবহার করতে গেলেই দরোজা বন্ধ রাখার অধিকার ছিল।
এছাড়া বেডরুমে দরোজা খোলা রাখতে হত তাকে। একটি সেলফোন ছিল তার কাছে। যাতে শুধু তার বাবা ছাড়া আর কেউই ফোন করতে পারতেন না। রাজকুমারী লতিফা কাউকে ফোন করতে পারতেন না। সেই ফোন নিয়েই লুকিয়ে বাথরুমে গিয়ে নিজের বন্দি দশার কথা ভিডিও করে জানান বন্ধুদের।
বন্ধুরা এই ভিডিওটি মানবাধিকার কমিশনকে দেখায়। এবার কমিশনের তরফ থেকে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কেন বন্দি করা হয়েছে লতিফাকে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পিতার বিরুদ্ধে জঘন্য অভিযোগ এনেছেন লতিফা। যার অনেককিছুই মিডিয়াতে গোপন রাখা হয়েছে। ভিজিট করুন

1 thought on “দুবাইয়ের ক্ষমতাধর শাসক পিতা তার কন্যাকে দুই বছর বন্দী করে রেখেছিলেন

Comments are closed.