দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতির পিতার নির্দেশনা মেনে বিজিবিকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতির পিতার নির্দেশনা মেনে বিজিবিকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতির পিতার নির্দেশনা মেনে বিজিবিকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির সদস্যদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতির পিতার নির্দেশনা মেনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিজিবি এয়ার উইংয়ে সংযোজিত দুইটি নতুন এমআই-৭১ই হেলিকপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের ৫ ডিসেম্বর পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে বলেছিলেন, এই বাহিনী দেশের সীমান্ত রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশপাশি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেছিলেন, ‘ইমানের সাথে কাজ করো, সৎ পথে থেকো, দেশকে ভালোবেসো’।

তিনি বলেন, এটা শুধু বিজিবি না, আমি মনে করি বাংলাদেশের সকলের জন্যই এটা প্রযোজ্য।আমি মনে করি প্রত্যেকেই জাতির পিতার এই নির্দেশনা মেনে চলবে এবং বিজিবি সদস্যরাও এই নির্দেশনা মেনে দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে সততা ও ইমানের সাথে দায়িত্ব পালন করে এই বিজিবির সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে এবং এই বাহিনীকে একটা শ্রেষ্ঠ বাহিনী হিসেবে আপনারা গড়ে তুলবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি। এই মুজিববর্ষে বিজিবি দুইটি হেলিকপ্টার পেল। এটা অত্যন্ত গৌরবের ও আনন্দের বলে আমি মনে করি। বিজিবিতে হেলিকপ্টার সংযোজনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজিবি এয়ার উইংয়ের এই যাত্রা বিজিবির সার্বিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। দুইটি হেলিকপ্টার উদ্বোধনের মাধ্যমে আমি বিজিবিকে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে ঘোষণা করছি। আজকে থেকে বিজিবি ত্রিমাত্রিক বাহিনী।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ২২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী সীমান্তরক্ষী বাহিনী উল্লেখ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আসার পর বিজিবির উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসার পরের মাসেই পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এর মাঝে কিছু ঘটনা ঘটেছে যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। এই ধরনের ঘটনা আর ঘটুক সেটা আমরা চাই না। অনেক প্রাণ ঝড়েছে। যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং যারা এই ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত তারা নিজেদের যেমন ক্ষতি করেছে, বাহিনীর ক্ষতি করেছে, দেশের ক্ষতি করেছে। ভবিষ্যতে আমরা আশা করি এই জাতীয় ঘটনা যেন না ঘটে।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের স্থল সীমানা চুক্তি জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে করে যান। কিন্তু এটা আইনও তিনি পাস করে যান, ভারত তখনও পারেনি। কিন্তু ১৯৭৫ এর পরে জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা কখনও আমাদের সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন অথবা আমাদের সীমান্ত যে আমাদের, এটার ব্যাপারে তারা কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি। আমি প্রথমবার যখন আসি তখন থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করি।

অনুষ্ঠানে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর প্রান্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। জনকণ্ঠ