রাজা সীতারাম রায়ের

নড়াইলে রাজা সীতারাম রায়ের বাড়ি

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।। গিয়েছিলাম গত বছরের ২ মার্চ-পুলিশ ইন্সপেক্টরের বাড়ি নড়াইলের লাহুড়িয়া। দুপুরে খাবারের পর বললাম, সীতারামের বাড়ি কত দুর-বললেন-নিকটে। তার গাড়ি নিয়ে গেলাম মহম্মদপুর। বলেছিলেন নিকটে, আসলে তা নয়, সেখান থেকে অনেক দুরে।

বহুদিনের ইচ্ছা ওখানে যাব। গেলাম, ইচ্ছা, আশা পুরন হলো। রাজা সীতারাম রায়ের রাজধানী ছিল মাগুরার মহম্মদপুর। তার খ্যাতি ছিল অনেক। তবে ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ভয়াবহ বর্ধমান জ্বর গোটা যশোর জেলাকে গ্রাস করে। সেই সময় থেকে মহম্মদপুরের খ্যাতি ম্লান হতে থাকে।

সীতারাম নবাব সরকার থেকে জমিদারি লাভ করেছিলেন। অনেক পরে রাজা উপাধি পান। তিনি আশেপাশের কয়েকটি জমিদারির সম্পত্তি দখল করে নেন। তারপর নবাব সরকারের রাজস্ব বন্ধ করে দেন। তখন বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খান। তিনি সীতরামকে দমন করতে ফৌজদার আবু তোরাবকে পাঠান।

কিন্তু যুদ্ধে আবু তোরাব পরাজিত এবং নিহত হন। তারপর সীতারামকে দমনে পাঠানো হয় বকশ আলী খাঁকে। এবার সীতারাম রায় পরাজিত ও বন্দি হন। বন্দি অবস্থায় মারা যান ১৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে। কেউ বলেন তার মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল, কেউ বলেন তিনি আত্নহত্যা করেছেন।

এ সম্পর্কে সতীশচন্দ্র বলেন, সে সময় মহম্মদপুর ছিল দুর্ভেদ্য জঙ্গল। এই পথে একদিন ঘোড়ায় চড়ে যাওয়ার সময় সীতারাম রায়ের ঘোড়ার পর মাটিতে আটকে যায়। তখন মাটি খুড়ে দেখা যায় আটকে আছে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা একটি মন্দিরের চক্রে। তখন মাটি খুঁড়ে সীতারাম একটি লক্ষ্নীনারায়ণ বিগ্রহ পান। ঘটনাটিকে সীতারাম শুভলক্ষণ বিবেচনা করে, এখানে প্রাসাদ ও দুর্গ নির্মাণ এবং রাজধানী স্থাপন করেন। স্থানটির নাম রাখেন মহম্মদপুর। দুর্গের অভ্যন্তরে ছিল রাজপ্রাসাদ, নহবত খানা, দশভুজা মন্দির, জোড়বাংলা মন্দির, শিবমন্দির, দোলমঞ্চ প্রভৃতি।

পাশ্ববর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামেও তাঁর বিবিধ কীর্তি ছিল। সবই বিনষ্ট হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ গৃহটির সংস্কার করেছে। সীতারামের মৃত্যুর পর তার সমগ্র জমিদারির মালিক হন নাটোরের জমিদার। তিনিও বেশকিছু কীর্তি স্থাপন করেছিলেন। নড়াইলে রাজা সীতারাম রায়ের বাড়ির লক্ষ্নীনারায়ণ মন্দির ১৭০৪ খ্রিষ্টাব্দে, দশভূজার মন্দির ১৬৯৯-১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি হয়েছিল। দোলমঞ্চ প্রতিবছর দোল উৎসবে রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ স্থাপন করা হতো। রাধাকৃষ্ণের পঞ্চরত্নমন্দিরও নির্মাণ করেছিলেন তিনি। এসব মন্দির বর্তমানে ধ্বংস স্তুপে পরিণত। রামসাগর, সুখসাগর, চুনদীঘি এরকম বিভিন্ন নামের বিশাল বিশাল দীঘি খনন করেছিলেন।

নাটোরের জমিদার রাজা সীতারামের জমিদারি লাভের পর নিজের ব্যবহারের জন্য যে প্রাসাদ তৈরি করেছিলেন, সেটিও আজ ধ্বংসস্তুপ। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সীতারামের কীর্তি অবশিষ্ট স্মৃতিগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার পর কিছু সংস্কার হয়েছে।