পশ্চিমবঙ্গের ব্যান্ডেল চিজ

পশ্চিমবঙ্গের ব্যান্ডেল চিজ

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পশ্চিমবঙ্গের ব্যান্ডেল চিজ
পশ্চিমবঙ্গের ব্যান্ডেল চিজ

সাজেদ রহমান। সিনিয়র সাংবাদিক।। ‘ব্যান্ডেল চিজ’। এক অন্য রকম খাবার। পাওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গের ব্যান্ডেল শহরে। গিয়েছিলাম ২০১৭ সালের ২৬ আগস্ট। যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল অন্য-ব্যান্ডেল চার্চ দেখা। জীপের চালক বললেন, এই শহরে পাওয়া যায় ‘ব্যান্ডেল চিজ’। খুব ভালো। ব্যান্ডেল শহরে পর্তুগীজরা ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যান্ডেল গির্জা প্রতিষ্ঠা করেছিল। বলা হয় এই গির্জাটিই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম গির্জা। ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে হুগলি লুণ্ঠনের সময় এই গির্জাটি ভষ্মীভূত হয়। ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে গির্জাটি আবার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গের ব্যান্ডেল চার্চ
পশ্চিমবঙ্গের ব্যান্ডেল চার্চ

যাইহোক, পর্তুগিজদের হাত ধরেই বাংলায় ছানার ব্যবহার শুরু হয়েছিল। আর ছানা দিয়েই তৈরি হয়েছে রসগোল্লা, সন্দেশের মতো জিভে জল আনা মিষ্টি। প্রাচীন ভারতে দুধ কেটে ছানা বের করাকে অপবিত্র মনে করা হত। তাই ছানা তখন খেতেন না কেউ। পর্তুগিজ বণিকরা রান্নার কাজে নিয়োগ করেন স্থানীয় লোকেদের। তাঁরা দেশীয় আর পশ্চিমি পদ্ধতি মিশিয়ে নানা রকম খাবার রাঁধতেন। ছানা বানানোর উপায় আবিষ্কার করেন এভাবেই। আরও অনেক পরীক্ষানিরীক্ষার পর ব্যান্ডেল চিজ তৈরি হয়। পর্তুগিজদের অধীনে কাজ করা মগ অথবা বর্মি পাচকরাই সম্ভবত ব্যান্ডেল চিজের জনক।

ইউরোপের দেশ পর্তুগাল আর পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার তীরে ব্যান্ডেল শহর। দুই মহাদেশের ব্যবধান হলেও খাদ্যাভাসে রয়েছে মিল। ভাস্কো দা গামা ভারতের পশ্চিম উপকূলে পা রাখার প্রায় একশো বছর পর বাংলায় পর্তুগিজদের আনাগোনা শুরু হয়। গঙ্গার তীরে কুঠি নির্মাণ করেন তাঁরা। শক্ত ঘাঁটি গড়ে ওঠে হুগলিতে। ১৫৯৯ সাল নাগাদ ব্যান্ডেলে পর্তুগিজরা তৈরি করেন বাংলার প্রাচীনতম গির্জাগুলির একটি, যা ব্যান্ডেল চার্চ নামে পরিচিত। এই শহরেই এই চিজ পাওয়া যায়। ইউরোপিয়ানদের মধ্যে পর্তুগিজরা আগের দিকেই বাংলায় এসেছিলেন। কিন্তু এখানে শক্তপোক্ত আধিপত্য ধরে রাখতে পারেননি। তবে বাংলার খাবারে পর্তুগিজদের প্রভাব অপরিসীম। ব্যান্ডেল চিজই তার প্রমাণ।

ব্যান্ডেল চিজ দু’রকমের হয় – সাধারণ (সাদা) আর স্মোকড (বাদামি)। ছোটো ছোটো গোলাকার আর নুন দেওয়া থাকে অনেকটা। লেবুর রস দিয়ে দুধ থেকে ছানা আলাদা করে এগুলো বানানো হয়। ছাঁচে ফেলে তারপর ভরা হয় ছোটো ঝুড়িতে। ধোঁয়া খাওয়ানো হয়। ব্যান্ডেল চিজ সুগন্ধে ভরপুর। শুকনো ঝুরঝুরে আর ধোঁয়াটে স্বাদের জন্য বিখ্যাত। বানানোর পর সরাসরি বিক্রি করা হয় বলে তাজা থাকে। এখন হুগলি জেলার তারকেশ্বর এবং বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে ভালো মানের ব্যান্ডেল চিজ পাওয়া যায়।

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন মল এবং দোকানে নানা ধরনের চিজ মিলবে। তবে ব্যান্ডেল চিজ খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। তবে আমি ব্যান্ডেলে গিয়ে এই চিজ খেয়েছি। কলকাতার নিউ মার্কেটের দুটি দোকান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যান্ডেজ চিজ বিক্রি করে আসছে – জে জনসন এবং মল্লিক অ্যান্ড সন্স। দু’রকমের ব্যান্ডেল চিজই পাওয়া যায় সেখানে। ভিজিট করুন

বীরভূমের সিউড়ির মোরাব্বা