পাটের নানামুখী ব্যবহারে মুল্যবান কার্বন উদ্ভাবন করে বিশ্বজুড়ে আলোচিত দুই বাংলাদেশী

পাটের নানামুখী ব্যবহারে মুল্যবান কার্বন উদ্ভাবন করে বিশ্বজুড়ে আলোচিত দুই বাংলাদেশী

জাতীয় খবর আন্তর্জাতিক
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পাটের নানামুখী ব্যবহারে মুল্যবান কার্বন উদ্ভাবন করে বিশ্বজুড়ে আলোচিত দুই বাংলাদেশী

এম. আব্দুল করিম।।
পাটের নানামুখী ব্যবহারের লক্ষ্যে পাট থেকে মুল্যবান কার্বন উদ্ভাবন করে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়েছেন দুই বাংলাদেশী। আর তাঁরা দুইজনই কেশবপুরের সন্তান।

যে কোন জিনিসের নানামুখি ব্যবহার উপযোগী করতে পারলে কদর বাড়ে সেই জিনিসের। পাট নিয়ে এমনি সম্ভাবনাময় কাজটি করেছেন বাংলাদেশের দুই সনামধন্য গবেষক ড. আব্দুল আজিজ ও ড. আবুল কাশেম। এ কাজে সহায়তা করেছেন ড. আজিজের পি এইচ ডির ছাত্র সাঈদ শাহিন শাহ।

গবেষকগন পাট থেকে তৈরী কার্বন পৌছে দিতে চান পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে। এই কাজটি করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতে যোগ হবে এক নুতন মাত্রা। পাট ফিরে পাবে তার অতীত ঐতিহ্য। গবেষকগন হলেন বাংলাদেশের যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার মমিনপুর গ্রামের কৃতী সন্তান বিশিষ্ট রসায়ন বিজ্ঞানী ড. আব্দুল আজিজ ও একই উপজেলার আওয়ালগাঁতী গ্রামের কৃতী সন্তান বিশিষ্ট বায়োসেন্সর ও পরিবেশ গবেষক ড. আবুল কাশেম ।

তাঁরা পাট ও পাটখড়ি দিয়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সহায়তায়, অত্যাধিক মূল্যবান উপাদান কার্বন তৈরি এবং তার ব্যবহার নিয়ে একটি রিভিউ পেপার লিখেছেন যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে খ্যাতনামা জার্নাল The Chemical Record এ (ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৬.১৬৩, ২০১৯)। বিশ্ববিখ্যাত উইলি কর্তৃক প্রকাশিত একটি জার্নাল। উল্লেখ্য উইলি এই পেপারটি অত্যাধিক গুরুত্বপুর্ন মনে করে এটিকে কার্বন, গ্রাফাইট এবং গ্রাফিন (Advanced Materials) বিভাগে Hot Topic হিসাবে শ্রেণীভুক্ত করেছে।

পাট অর্থকরী কৃষি সম্পদ যা সোনালী আঁশ বলে পরিচিত কিন্তু নানামুখি ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি না হওয়ায়, বর্তমানে তার অতীত ঐতিহ্য কিছুটা হলেও হারাতে বসেছে। এমতাবস্থায় প্রকাশিত পেপারটিতে গবেষকগন পাটের ব্যাপক সম্ভবনার কথা তুলে ধরেছেন। পাট ও পাটখড়ি থেকে তৈরী করা সম্ভব Activated Carbon বা কার্যকারী কার্বন, গ্রাফিন ও অন্যান্য মূল্যবান কার্বন যা ব্যবহার হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে । এই কার্বন তৈরীতে খরচ কম, পদ্ধিতিটা সহজ তাছাড়া পরিবেশ বান্ধব। এছাড়া তৈরীকৃত কার্বনের পৃষ্ঠতলের আয়তন বেশী হওয়ায় কর্মক্ষমতা অনেক বেশী।

ভিজিট করুন

পৃথিবীব্যাপী বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। দূষিত হচ্ছে পরিবেশের মূল্যবান উপাদান পানি, বায়ূ ও মাটি। ব্যহত হচ্ছে প্রকৃতির ভারসাম্য। আর এই দূষিত বায়ু, পানি পরিশোধনে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব Activated Carbon তাছাড়া অধিক মূল্যবান এনার্জি ষ্টোরেজ (শক্তি সঞ্চয় ) ডিভাইসে।

ড. আজিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করে, উচ্চ শিক্ষার জন্য যান দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে পুশান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যানোম্যাটিরিয়াল বেইজড ইলেকট্রো অ্যানালাইটিক্যাল কেমিষ্ট্রিতে পি এইচ ডি, জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল কেমিষ্ট্রি বিভাগের ন্যানোম্যাটরিয়াল ল্যাবরেটিতে ২০১১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২ বছর গবেষণা শেষ করে সৌদি সরকারের আহবানে কিং ফাহাদ বিশ্ববিদ্যালয় যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে কর্মরত আছেন।

ড. কাশেম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিন থেকে এম এস (প্রথম শ্রেণীতে প্রথম ডিসটিনশান সহ) ডিগ্রী অর্জন করে সেখানে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য জাপানে যান। জাপানের তয়মা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি এইচ ডি ইজ্ঞিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোষ্টডক্টরেট সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জাপানে কর্মরত আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.