পুলিশ উত্ত্যক্তকারিকে আটক করে ছেড়ে দেয়ায় ওসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

পুলিশ উত্ত্যক্তকারিকে আটক করে ছেড়ে দেয়ায় ওসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পুলিশ উত্ত্যক্তকারিকে আটক করে ছেড়ে দেয়ায় ওসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ৭ নবেম্বর।। কেশবপুরে বখাটের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক ছাত্রীকে জোর পূর্বক অপহরণের চেষ্টা চালানোর ঘটনায় পুলিশ উত্ত্যক্তকারিকে আটকের পর ছেড়ে দেয়ায় ওই ছাত্রী কেশবপুর থানার ওসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন। তবে ওসি জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীর উত্ত্যক্তের প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

কেশবপুর টিটাবাজিতপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন বিভিন্ন সময়ে তাকে কুপ্রস্তাবসহ উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদি হয়ে ৩ জনকে আসামী করে কেশবপুর থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন ৩ নবেম্বর।

তাৎক্ষণিক পুলিশ অভিযান চালিয়ে বখাটে আলমগীর হোসেনকে আটক করে। পরে অজ্ঞাত কারণে রাতেই পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর থেকে ওই বখাটে বেপরোয়া হয়ে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে একের পর এক অত্যাচারে অতিষ্ট করে তুলেছে।

উপায়ন্তর না পেয়ে ৪ নভেম্বর ওই ছাত্রী বাদি হয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), আলমগীর হোসেনসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টিটাবাজিতপুর গ্রামের আবুল কাশেম সরদারের কলেজ পুড়য়া মেয়ে বাগেরহাট প্যারামেডিকেল সেন্টারের একজন নিয়মিত ছাত্রী। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বর্তমান সে বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এ সুযোগে একই গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদারের বখাটে ছেলে আলমগীর হোসেন বিভিন্ন সময়ে তাকে কুপ্রস্তাবসহ উত্ত্যক্ত করে আসছে। বিষয়টি ওই ছাত্রী তার মা-বাবাকে জানান। এতে আলমগীর হোসেন ও তার দুই সহযোগি বায়েজিদ ও আব্দুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩ নভেম্বর বিকেলে ওই ছাত্রীর মা-বাবা বাড়িতে না থাকার সুয়োগে তাকে জোর পূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় তার ডাক চিৎকারে এলাকাবাসি ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী বাদি হয়ে আলমগীর হোসেন, বায়েজিদ ও আব্দুর রহমানকে আসামী করে কেশবপুর থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক থানার উপপরিদর্শক অরূপ কুমার বসু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেনকে আটক করে। অজ্ঞাত কারণে পুলিশ বাদির সাথে কোন আপোষ মিমাংশা না করে ওই রাতেই আলমগীর হোসেনকে ছেড়ে দেয়।

এরপর থেকে আসামীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি দিচ্ছে। বর্তমান বখাটেরা মেয়ের পিতা আবুল কাশেম সরদারকে মাদকসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। ফলে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক রটে যাওয়ায় পরিবারটির সম্মানহানি ঘটেছে। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, কেশবপুর থানার ওসির এহেন কর্মকান্ডে তার আত্নহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক অরূপ কুমার বসু বলেন, আলমগীরাকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরে ওসি স্যারের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার ওসি জসিমউদ্দীন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেনকে আটক করা হয়েছিল। ওই ছাত্রীর উত্ত্যক্তের প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।  ভিজিট করুন

কেশবপুরে কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্তের অভিযোগ

1 thought on “পুলিশ উত্ত্যক্তকারিকে আটক করে ছেড়ে দেয়ায় ওসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

Comments are closed.