প্রশাসন খুঁজছে হাতুড়ে কবিরাজকে

প্রশাসন খুঁজছে হাতুড়ে হাড় জোড়া কবিরাজ রাজ্জাককে

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
প্রশাসন খুঁজছে হাতুড়ে কবিরাজকে
প্রশাসনের উপস্থিতির আভাস পেয়ে হাতুড়ী কবিরাজ রাজ্জাকের স্ব-ঘোষিত হাড় জোড়াতালির ১৬ বেডের অবৈধ ক্লিনিক থেকে সব রোগী সরিয়ে দিয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে ওই কবিরাজ নিজেই এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
বুধবার তার অবৈধ আস্তানায় প্রশাসন অভিযান চালাবে এমন ধরনের সংবাদ আগে থেকে আচ করতে পেরে নিজে গা ঢাকা দেয়েছে। কবিরাজকে বাঁচাতে টু-পাইস পাওয়া এলাকার একটি রাজনৈতিক মহল উদ্ধার্তন মহলকে ম্যানেজ করতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।
সামান্য একজন হাতুড়ি কবিরাজ হয়েও স্ব-ঘোষিত ক্লিনিক বানিয়ে সেখানে জটিল হাড় ভাঙ্গা রোগীদের চিকিৎসা ও রোগীদের জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই ধরনের সংবাদ পেয়ে উক্ত ঘটনা উদঘাটনে সোমবার দুপুরে সরেজমিনে কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া-কলাগাছি সড়কের সাতাশকাটি নামক স্থানে গিয়ে দেখতে পাওয়া যায়, আব্দুর রাজ্জাক নামে একজন হাতুড়ে কবিরাজ, যার নেই কোন ডাক্তারী সার্টিফিকেট, নেই কোন নার্স, পরিক্ষা-নিরিক্ষার আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি।
তবুুও নিজের বসতবাড়ীতে হাসপাতালের মত করে রুমে ও বারান্দায় বেড তৈরি করে বহাল তবিয়তে হাড়ভাঙ্গা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি হাড় ব্যান্ডেসের জন্য ১ হাজার, বেড় ভাড়া ২শ, আর ঔষধসহ অনুসাঙ্গিক খরচ তো আছেই। সব মিলিয়ে একটি রোগীর কাছ থেকে ১০ হাজারেরও বেশী টাকা হাতিয়ে নেয় ওই কবিরাজ।
তার পাকা ঘরের ৩টি রুমের একটিতে ওই কবিরাজ থাকেন, অন্য ২টি রুমে ৩ টি করে ৬টি বেড, বারান্দায় ২টি বেড, পাকা ঘরের সাথে টিন শেটের আরো ২টি রুম। সেখানে প্রতি রুমে ৩টি করে মোট ৬টি ও বারান্দায় ২টি সর্বমোট দুটি ঘর ও দুটি বারান্দা মিলে ১৬ টি বেড রয়েছে।

এই কবিরাজের চিকিৎসা ডিগ্রিধারী ডাক্তারদের থেকে ভিন্ন। সে গাছ দিয়ে হাড়ভাঙ্গা রোগীদের জাব বা পিলাষ্টার করে থাকে এবং ইট আর দড়ি দিয়ে টানা দিয়ে থাকে।

কেশবপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাড়ভাঙ্গা রোগীরা এই কবিরাজের আস্তানায় ভীড় করে থাকেন। ঐ সময় ঐ ক্লিনিকে ১২ জন হাড় ভাঙ্গা রোগী ভর্তি ছিল। ভর্তি রোগীরা হলো-যশোরের নজির শংকরপুরের আমজাদ, কেশবপুরের ভালুকঘর গ্রামের সাগর, মেহেরপুর গ্রামের মাগুরাডাঙ্গা গ্রামের সুনিল দাস, আড়ুয়া গ্রামের নুর হোসেন, হয়াতপুর গ্রামের শাহানারা,গবিন্দপুর গ্রামের হালিমা,দেয়াড়া গ্রামের মোমেনা,মালতিয়া গ্রামের সামছের সরদার, বাগেরহাট জেলার বড়বড়ে গ্রামের শিরিনা, বাঘারপাড়া জামালপুর গ্রামের আসলাম ও ঐ উপজেলার পাকের আলী গ্রামের আঃ মামুন।
হাতুড়ে কবিরাজের হাড়ভাঙ্গা রোগীর চিকিৎসার ধরনের ভিডিও ও অবৈধ আস্তনার কিছু ছবি স্থানীয় প্রশাসনসহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও জেলা সিভিল সার্জনের কাছে অবহিত করা হলে তারা অভিযানের স্বার্থে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।
মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর হোসেন নিজে ঐ কবিরাজকে রোগী দেখা বন্ধ করতে নির্দেশ দিলেও ভন্ড ঐ কবিরাজ সেটি উপেক্ষা করে তার ক্লিনিক বানিজ্যের কাজ চালু রাখায় বুধবার প্রশাসনের লোক নিয়ে তাকে আটকের জন্য অভিযান চালায়। অভিযানের খবর আগে থেকেই আচ করতে পেরে ঐ কবিরাজ রোগীদের ভাগিয়ে দিয়ে তিনি নিজেই আত্নগোপনে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, আব্দুর রাজ্জাক নামের এই কবিরাজের গ্রামের বাড়ী বাগেরহাট জেলা সদরের দেপাড়া গ্রাম। সে প্রায় ১৫/১৬ বছর ধরে কেশবপুরের সাতাশকাটি গ্রামে অবস্থান করে হাড়ভাঙ্গা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। সাতাশকাটি গ্রামের জনৈয়েক ব্যক্তির ৮শতক জমি ক্রয় করে তার উপর এই আস্তানা গড়ে তুলেছে।
এছাড়া মাগুরখালি গ্রামেও তার এই ধরনের হাড়ভাঙ্গা রোগী দেখার আস্তানা রয়েছে। এব্যাপারে সরাসরি কবিরাজ আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা হলে বলেন, দূর-দূরান্তের রোগীদের জন্য তার এই বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার কোন ডাক্তারী সনদ না থাকলেও তিনি ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর বিষয়ে অভিজ্ঞ।
কেশবপুর সরকারী হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ডাক্তার কামরুজ্জামান বলেন, হাড়ের কাজই হল জোড়া লাগা। যথা সময়ে হাড় জোড়া লাগবেই। তবে পয়েন্টে জোড়া না লাগলে ভবিষ্যতে হাত ও পায়ের ঐ অংশ বাকা বা অনেক ধরনের অসুবিধা দেখা দেয়। এই ধরনের কবিরাজরা রোগীদের বোকা বানিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ধরনের কবিরাজকে “বোন চিট” বলা হয়ে থাকে। -আজিজুর রহমান। ভিজিট করুন