‘‘প্রায় অক্ষত অবস্থায় যশোর দুর্গ দখল’’

‘‘প্রায় অক্ষত অবস্থায় যশোর দুর্গ দখল’’

জাতীয় খবর মুক্তিযুদ্ধ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।।
১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় যশোর নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। শিরোনাম ছিল-‘‘প্রায় অক্ষত অবস্থায় যশোর দুর্গ দখল’’। রিপোর্টটি করেছিলেন সাংবাদিক সুখরঞ্জন সেনগুপ্ত।
রিপোর্টটি তিনি পাঠিয়ে ছিলেন ৮ ডিসেম্বর। তিনি মার্চ মাস থেকেই যশোর রণাঙ্গনের খবরাখবর রাখছিলেন। তিনি লেখেন-ভারতীয় বাহিনী যশোর শহরের পুর্ণ কর্তৃত্ব গ্রহন করেছেন এবং অসামরিক জনগণ রাস্তায় রাস্তায় ভারতীয় জয়ানদের হর্ষমুখর অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
যশোর শহর পশ্চিম পাকিস্তানীদের হাত থেকে মুক্ত হওয়ার ঠিক ২৪ ঘন্টা পরে আজ দুপুরে যখন যশোর ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করি তখনও নড়াইল ও রুপদিয়ার সড়কে পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যদের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর যুদ্ধ হচ্ছিল। যশোর সেক্টরে ভারতীয় বাহিনীর জিওসি মেজর জেনারেল দলবীর সিং যশোর শহরে প্রবেশকারী প্রথম ভারতীয় ও বিদেশী সাংবাদিকদের জানান যে, যশোর ক্যান্টনমেন্ট আমি প্রায় বিনা যুদ্ধেই দখল করেছি।
পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনীর ৯ আর্মাড ডিভিশনের সদর দফতর যশোর ক্যান্টনমেন্টের একটি কক্ষে দাড়িয়ে ভারতীয় বাহিনীর ৯ নম্বর ডিভিশনের অধিনায়ক মেজর জেনারেল দলবীর সিং বলেন, আমি প্রায় সব কিছুই অক্ষত অবস্থায় দখল করেছি। আমার সৈন্যরা ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করার আগেই পশ্চিম পাকিস্তানীরা ফরিদপুর, গোয়ালন্দ ও খুলনার দিকে পলায়ন করেছে।
হানাদার মুক্ত হবার পরের দিন যশোরে আসেন মেজর জেনারেল দলবীর সিং
পশ্চিম পাকিস্তান সৈন্যদের দুটি অতিকায় মানচিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে জেনারেল বলেন, সৈনিক হিসাবে আমি বলছি যে, যশোর আসার পথে যে সকল পশ্চিম পাকিস্তানীদের সঙ্গে আমাদের মোকাবিলা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে তারা বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছে এবং ঐ সকল জায়গায় তারা যুদ্ধ করার পর ঘাঁটি ত্যাগ করেছে। তবে ক্যান্টনমেন্টে কেন এমন হলো এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার মনে হয় যে এখানে পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যদের পরিচালনা করার মত উর্ধতন নেতৃত্ব ছিল না। তিনি স্বীকার করেন যে, যশোর ক্যান্টনমেন্টের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী ছিল।
যশোর শহরে প্রকৃত পক্ষে কোন যুদ্ধ না হওয়ার ফলে শহরের প্রধান প্রধান রাস্তার উপরের বাড়ী ঘর গুলো অক্ষত রয়েছে। তবে লোকজনের সংখ্যা খুব বেশি নয়। রবীন্দ্রনাথ রোড, দড়াটানার মোড়, মিউনিসিপ্যাল রোড, মিস্ত্রী খানা রোড়ে লোকের ভীড় দেখেছি। মুক্তিবাহিনীর লোক শহরের শান্তি-শৃঙ্খলার রক্ষা জন্য বন্দুক ও মেশিনগান টহল দিচ্ছে। মেজর জেনারেল দলবীর সিং বলেছেন, গতকাল রাত্রে দুইজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মুক্তিবাহিনীর লোকেরা ওই দুইজনকে হত্যা করেছে বলে কিছু লোক এসে জানিয়েছেন। (সংক্ষিপ্ত) ভিজিট করুন