বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করায় হত্যার শিকার মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুরের পরিবার ভেসে বেড়াচ্ছে

বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করায় হত্যার শিকার মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুরের পরিবার ভেসে বেড়াচ্ছে

মুক্তিযুদ্ধ জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিক্ষোভ মিছিল করার অপরাধে ধরে নিয়ে চরম নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুর রহমানকে। তাঁর বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়ার সেকেন্দারপুর গ্রামে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করায় হত্যার শিকার মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুর রহমানের পরিবার এখন ভেসে বেড়াচ্ছে।

১৯৭৫ সালের ৩০ আগস্ট খাজুরার অজিত পুরির দোকান থেকে সকালে তাঁকে ধরে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। চরম নির্যাতন করে হত্যার পর ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁর লাশ বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখা হয় যশোর শহরের বারান্দিপাড়া ঢাকা ব্্িরজের উত্তর পাশে।

সেই সময় তাঁর যশোর শহরের কাপুড়িয়া পট্রিতে ‘শাড়ি বিতান’ নামের একটি দোকান ছিল। সেটাই ছিল সংসার চালানোর আয়ের উৎস। তাঁর হত্যার পর স্ত্রী হাসিনা বেগম অথৈ সাগরে ভেসে যান। স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসেন হাসিনা বেগম পিত্রালয়ে যশোর সদরের সরুইডাঙ্গা গ্রামে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ৩ কন্যা ও এক পুত্রকে নিয়ে।

বড় আশা নিয়ে ১৯৯৭ সালের ১০ এপ্রিল দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। তিনি তাঁর পুত্রের জন্য একটি চাকরি এবং স্বামী হত্যার বিচার চান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাঁর পুত্রের জন্য একটি চাকরির জন্য শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখে জানান। ১১ বছর আগে গত হয়েছে সাহাবুরের স্ত্রী। তারপরও তাঁর পুত্রের চাকরি হয়নি।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করায় হত্যার শিকার মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুরের পরিবার ভেসে বেড়াচ্ছে

তিন কন্যার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলের সরকারি চাকরি বয়স নেই। ছেলে আসাদুজ্জামান কিছুদিন ধান চালের ব্যবসা করতেন। এখন বেকার।

কেউ তাঁদের পাশে নেই। অথচ একজন মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু যাঁকে বলেছিলেন, তুই ঢাকায় আয়, আমার বাড়ির কাছে তোর বাড়ি দিচ্ছি। কিন্তু সাহাবুর যাননি। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলন, আমি যশোরে রাজনীতি করব। তাঁর পরিবার এখন ভেসে বেড়াচ্ছে। যুবলীগের ইতিহাসেও সাহাবুর অনুপস্থিত। আজ অনেক সময় কথা হলো তাঁর পুত্র আসাদুজ্জানের সাথে।