বরনডালিতে ১১ কৃষককে মারপিটের ঘটনায় মামলার আসামীদের আটকের দাবি

বরনডালিতে ১১ কৃষককে মারপিটের ঘটনায় মামলার আসামীদের আটকের দাবি

দেশের খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বরনডালিতে ১১ কৃষককে মারপিটের ঘটনায় মামলার আসামীদের আটকের দাবি

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর ॥ কেশবপুরের বরনডালিতে বিরোধপূর্ণ জমি জোরপূর্বক দখলে নিতে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রতিপক্ষের ১১ জনকে মারপিট করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় কেশবপুর থানায় মামলা হয়েছে। মামলা হওয়ার প্রায় একমাস পার হলেও অদ্যবধি পুলিশ কোন আসামী আটক করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যে মামলার প্রধান আসামী মহিদুল সানা জামিন নিতে ব্যর্থ হয়ে কৌশলে দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়েছে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি সচল রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে দেশের বাইরে যাাবার চেষ্টায় বর্তমানে বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করছেন। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি ও এলাকাবাসীরা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের বরনডালি সানা পাড়া এলাকার আসাদুজ্জামান সানার সাথে একই গ্রামের মহিদুল সানা গংদের সাথে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধের সুত্র ধরে মহিদুল সানা গংরা প্রায়ই আসাদুজ্জামান গংদের পরিবারের সদস্যদের মারপিট করে আসছে। তারই সুত্র ধরে ১৮ জানুয়ারি মহিদুল সানার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আসাদুজ্জামান সানাসহ তার পরিবারের ১১ সদস্যতে মারপিট করে আহত করে। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের অঘাতে আহতদের অধিকাংশের হাত, পা ও মাথা ফেটে যায়। এলাকাবাসীরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত শহিদুল ইসলাম, মহাসিন হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম, মোক্তাদুল ইসলাম, আমিনুর রহমানের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। তারা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পেয়ে ২০ জানুয়ারি যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার শোয়েব আহমেদ খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলাকারীদের গ্রেফতারের জন্য দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করার পরো কোন আসামী আটক হয়নি।
এঘটনায় ১৮ জানুয়ারি বরনডালি গ্রামের মৃত করিম সানার ছেলে মহিদুল সানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় একটি মামলা করা হয়।

মামলার আসামীরা হলেন, ওই গ্রামের ইমাদুল সানা, রবিউল ইসলাম, রফিক সানা, রশিদুল সানা, মিজানুর রহমান,আব্দুল্লাহ সানা, নজরুল সানা, ইমন সানা, আব্দুল জব্বার, রবিউল ইসলাম,ওজিয়ার মোল্লা, আমির আলী, রাসেল সরদার,রমজান সরদার, মতিয়ার সরদার,ইকবল হোসেন ও আব্দুল ওহাব। মামলার খবর পেয়ে আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে বাদি আসাদুজ্জামানকে হুমকি প্রদান করছে। এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও দীর্ঘ একমাস পার হবার পরো পুলিশ অদ্যবধি কোন আসামী আটক করতে পারেনি। যে কারনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগে মামলার প্রধান আসামী মহিদুল সানা দেশের বাইরে চলে যাবার জন্য বিভিন্ন মহলের সাথে দফায় দফায় দেনদরবার করে চলেছে। ইতিমধ্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়েছে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি সচল রয়েছে। আসামী আটক না হওয়ায় পরিবার নিয়ে মামলার বাদীসহ আহত ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আবারো তাদের উপর হামলা হতে পারে বলে আহতব্যক্তিরা ভয় ভীতির মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। আসামীগের গ্রেফতারের জন্য উর্দ্ধকন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এবিষয়ে ওই হামলায় আহত মাজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ একমাস পার হলেও পুলিশ কোন আসামী আটক করতে পারেনি। মামলার খবর পেয়ে আসামীরা প্রকাশ্যে আমাদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই তাদের ক্ষেত খামারে কাজ করতে দেখা গেলেও পুলিশ তাদের আটক করতে পারেনি। আবারো আমাদের উপর হামলা করার হুমকি দিচ্ছে তারা । পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক ও এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাপস কুমার রায় বলেন, মামলা হবার পর থেকে প্রতিদিনই এলাকায় আসামী গ্রেফতারের অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় আসামীরা পাশ্ববর্তী উপজেলা সীমান্তে পালিয়ে যাচ্ছে। আসামী গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

1 thought on “বরনডালিতে ১১ কৃষককে মারপিটের ঘটনায় মামলার আসামীদের আটকের দাবি

Comments are closed.