ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন সাতক্ষীরা যাচ্ছেন?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন সাতক্ষীরা যাচ্ছেন?

কলাম ও ফিচার জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন সাতক্ষীরা যাচ্ছেন?

সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।।  ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন সাতক্ষীরা যাচ্ছেন? এই প্রশ্ন অনেকের। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে অবস্থিত যশোরেশ্বরী কালী মন্দির। যশোরেশ্বরী নামের অর্থ “যশোরের দেবী”। সনাতনীদের জন্য এটি একটি পবিত্র তীর্থস্থান।

তন্ত্রচূড়ামণিতে বলা হয়েছে,

‘যশোরে পানিপদ্ম দেবতা যশোরেশ্বরী,

চন্ডশ্চ ভৈরব যত্র তত্র সিদ্ধ ন সংশয়।’

অর্থাৎ যশোরে সতীর পাণিপদ্ম বা করকমল পড়েছে। দেবীর নাম যশোরেশ্বরী, ভৈরব হলেন চন্ড। এই সতীপীঠে কায়মনোবাক্যে পুজো করলে ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ হয় বলে সর্বসাধারণের বিশ্বাস।

মন্দির-বেদির ওপর প্রতিষ্ঠিত মাতৃমূর্তির শুধু মুখমন্ডলই দৃষ্টিগোচর হয়।

ধারনা করা হয় যে, মন্দিরটি আনারি নামের এক ব্রাহ্মণ কর্তৃক নির্মিত হয়। তিনি এই যশোরেশ্বরী শক্তিপীঠের ১০০টি দরজা নির্মাণ করেন। কিন্তু মন্দিরটি কখন নির্মিত হয় তা জানা যায়নি। পরবর্তীকালে লক্ষ্মণ সেন ও প্রতাপাদিত্য কর্তৃক তাদের রাজত্বকালে এটির সংস্কার করা হয়েছিল। কথায় আছে যে মহারাজা প্রতাপাদিত্যের সেনাপতি এখানকার জঙ্গল থেকে একটি অলৌকিক আলোর রেখা বের হয়ে মানুষের হাতুর তালুর আকারের একটি পাথরখন্ডের উপর পড়তে দেখেন। পরবর্তীতে প্রতাপাদিত্য কালীর পূজা করতে আরম্ভ করেন এবং এই কালী মন্দিরটি নির্মাণ করেন। যশোরেশ্বরী কালী দর্শনের নাম করে সেনাপতি মান সিংহ প্রতাপাদিত্যের দুর্গের নকশা নিয়ে যান। পরে আক্রমণ করে মোগলরা সেটি জয়লাভও করে। কালীর বিগ্রহের সঙ্গে প্রতাপাদিত্য এবং তাঁর সেনাপতি ও পরামশর্দাতা শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়কে বন্দি করেন মান সিংহ। এখন জেনে নেয়া যাক ৫১ পীঠের অবস্থান এবং কোথায় দেবীর কোন অঙ্গ পড়েছিল।

দেবী সতী দক্ষ রাজার অমতে মহাদেবকে বিবাহ করেছিলেন। প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশে একটি যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন দক্ষ রাজা। যজ্ঞের আগুনে আত্মঘাতী হন সতী। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন মহাদেব। পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার ভয়ে ভগবান বিষ্ণু প্রলয় থামাতে, সুদর্শন চক্র পাঠিয়ে দেন। দেবীর দেহ ৫১টি খন্ডে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় পড়ে। এই সব কটি জায়গাকে সতীপীঠ বলা হয়। সতীর ৫১ পীঠ হিন্দু ধর্মে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গাগুলি প্রত্যেক হিন্দুর কাছে পরম পবিত্রের জায়গা। বিভিন্ন জায়গা জুড়ে রয়েছে এই ৫১ পীঠ। ভারতবর্ষ-সহ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায় এই ৫১টি পীঠ অবস্থিত।

এখন দেখে নেওয়া যাক সাতক্ষীরার ঈশ্বরীপুর ছাড়াও এই ৫১ পীঠ-এর বাংলাদেশের কোথায় এবং দেবীর দেহের কোন খন্ড কোন স্থানে পড়েছিল-

১। সুগন্ধা- দেবীর নাসিকা, বরিশাল, বাংলাদেশ।

২। চট্রল/চট্টগ্রাম- সতীর ডান বাহু, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

৩। জয়ন্তী/জয়ন্তাতে- সতীর বাঁ জঙ্ঘা, শ্রীহট্ট, বাংলাদেশ।

৪ । শ্রীশৈল- দেবীর কর্ণকুন্ডল, শ্রীহট্ট, বাংলাদেশ।

৫। পঞ্চসায়র- দেবীর অধোদন্তপংক্তি, সঠিক অবস্থান অজানা।

৬। করতোয়াতট- সতীর তল্প, বগুড়া, বাংলাদেশ।

৭। মিথিলা- দেবীর বাম স্কন্ধ, সঠিক স্থান অজানা।

৮। যশোহর- দেবীর পানিপদ্ম, খুলনা, বাংলাদেশ।