ভুল চিকিৎসায় রোগির মৃত্যুর অভিযোগ

ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডাক্তারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ২৫ জুন।
সোামবার সন্ধ্যায় কেশবপুরে হেল্থ কেয়ার হসপিটাল (প্রাঃ) লিমিটেডের ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় সচিন নামের এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগে কেশবপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সুমিত্রা বিশ্বাস ডাক্তার সামসুজ্জামারে বিরুদ্ধে তার স্বামীকে ভুল চিকিৎসায় মেরে ফেলার অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী যশোরের সিভিল সার্জন, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত ক্লিনিক মালিক ও ডাক্তার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন।     
নিহতের স্ত্রী সুমিত্রা বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২১ জুন শনিবার সকাল ৯ টার দিকে পার্শ্ববর্তী কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া (কাশিয়াডাঙ্গা) গ্রামের মৃত অনন্ত বিশ্বাসের ছেলে তার স্বামী মৎস্যজীবী সচিন বিশ্বাসের প্রচন্ড জ্বর ও পেট ব্যথা শুরু হয়। তাকে কেশবপুর শহরের হেল্থ কেয়ার হসপিটাল (প্রাঃ) লিমিটেডে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। এ সময় ভর্তি ফি ১‘শ, ডাক্তার ফি ৩’শ, পরীক্ষা নিরীক্ষা ফি ২ হাজার ও ঔষধ ক্রয় বাবদ ১৪‘শ টাকাসহ মোট ৩ হাজার ৮‘শ টাকা কাউন্টারে জমা দেয়ার পর আমার স্বামীকে ভর্তি করা হয়। তাকে বেডে নিয়ে ডাক্তার সামসুজ্জামান আমার স্বামীর নাকের ভেতরে পাইপ (রাইলস টিউব) ঢুকান। কিছুক্ষণ পর রোগীর নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। আমি বিষয়টি হসপিটালের ডাক্তার সামসুজ্জামানকে জানিয়ে নাকের নল খুলে দিতে অনুরোধ করি। এ সময় ডাক্তার আমাকে জানান টিউব খুলে দিলে যদি রোগী মারা যায় তার দায়িত্ব তোমাদেরই নিতে হবে। আর টিউব পরানোকালে মৃত্যু হলে তার দায়িত্ব আমিই নেব। এরপর প্রায় ৩ ঘন্টা পর সচিন মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর ডাক্তার সামসুজ্জামান তাকে জানান তার স্বামীর যক্ষা ও কিডনি নষ্ট থাকার কারণে সে মারা গেছে। কিন্তু ওই হসপিটালের ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টে সচিনের যক্ষা বা কিডনীর কোন সমস্যা নেই বলে উল্লেখ করা রয়েছে। সঠিকভাবে নাকে নল ঢুকাতে না পারায় রক্ত ক্ষরণের কারনেই আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। আমার স্বামীর যক্ষা ও কিডনি নষ্ট ছিল না। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর ১৫ মিনিটের মধ্যেই ডাক্তার সামসুজ্জামান শহরের কিছু ভাড়াটে মাস্তান এনে ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক এ্যাম্বুলেন্সযোগে আমার স্বামীর লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহতের ভাই অশোক বিশ্বাস বলেন, তিনি ভাইয়ের সৎকারের কাজ সম্পন্ন করে শনিবার বিকেলে ওই হসপিটালে গিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট চান। তখন হসপিটাল কতর্ৃপক্ষ দেবে না বলে তালবাহানা শুরু করে। এ সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে রিপোর্ট নিয়ে চলে যাও এবং সচিনের স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এসো কিছু টাকা দিয়ে দেব। তবে শর্ত রয়েছে, আদালত বা থানায় অভিযোগ করলে আমরা কোন সহযোগিতা করতে পারবো না। তারা জানান, এ ব্যাপারে আমরা কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা ও যশোর সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সচিন বিশ্বাসের মা, শিশু সন্তান, ভাই, ভাইপো প্রমুখ।
অভিযুক্ত ডাক্তার সামসুজ্জামান বলেছেন, ওই রোগির কিডনি ড্যামেজ হওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার দীলিপ রায় বলেন, এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী সুমিত্রা বিশ্বাসের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সাথে সংযুক্ত হেল্থ কেয়ার হসপিটালের প্যাথলজি রিপোর্ট অনুযায়ী সচিন বিশ্বাসের যক্ষা ও কিডনির কোন সমস্যা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানার ওসি মোঃ শাহিন বলেন, তারা লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করার জন্য একজন অফিসারকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
কবির হোসেন
কেশবপুর
০১৭১১-২৫০৩৫৬।

Leave a Reply

Your email address will not be published.