ভূমিহীন জেলে পরিবারগুলোও কোন ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মধ্য আশ্বিনের মেঘভাঙ্গা ঝাঁঝালো রোদে ঘেমে-নেয়ে একসার হওয়ার মাঝে ধীরলয়ের হিমেল হাওয়ার আঁচ নিতে নিতে আমরা ক’জন এগুচ্ছিলাম। রাস্তার দু’পাশে ধানের ক্ষেতের কচি সবুজ পাতার দুলুনি। ভেসে আসা এক সুগন্ধে মাতোয়ারা হই।

ভাবতে থাকি পাশেই কোথাও যেন অতিথি আপ্যায়নের জন্যে সুগন্ধি চালের ভাত রান্না হচ্ছে। না, আশেপাশে কোথাও বাড়ি-ঘর নেই। কার যেন জিজ্ঞাসার জবাবে মধ্য-বয়সী রমজান আলী বলেন, ধান গাছ থেকে গন্ধ আসছে। – কি বলেন! এতেতো এখনও ধান আসেনি!! -ধান না এলে কি হবে, এটা পোলাও’র চালের ধান। এর গাছেও সুগন্ধ!

বয়সী মানুষ ফরিদ আহমেদ বলেন, এই জমিতে এই সুগন্ধি ধানের চাষ ছাড়াও, আউশ ধান ও তরমুজের চাষ হয়। বছরে তিনটি ফসল ফলে। এই জমি নিয়েছে সরকার। এখানে বিদ্যুত কেন্দ্র হবে; কয়লা রাখার ডিপো হবে। এর জন্যে জমির দাম দিচ্ছে নামেমাত্র। শতকে এক হাজার টাকা। ফসলের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। উপরন্তু মধ্যস্বত্ত্বভোগী, দালাল, অফিসের কর্তাদের বকশিস দিতে হচ্ছে দেয় টাকার চার ভাগের একভাগ। আবার দালালরা কেউ কেউ ভূমি অফিসে অসত্য অভিযোগ দিয়ে মামলা ঠুকেছে। ক্ষতিপূরণ বেশী দাবি করে আন্দোলন করায় বিদ্যুত কোম্পানির লোকেরা মামলা করেছেন গ্রামের মানুষদের নামে। তারা ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছে না। বাঁধের পাড়ে বসবাসকারী ভূমিহীন জেলে পরিবারগুলোও কোন ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না। পুনর্বাসনের নামে একটি জায়গায় ব্যারাকসদৃশ ঘর তৈরি হয়েছে।

রামনাবাদ চ্যানেলে ইলিশ ধরা জেলে মহিউদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, আমার চৌদ্দ পুরুষ রামনাবাদে মাছ ধরেছে, আমিও মাছ ধরি; আমায় কলোনীর সারি সারি ইটের ঘরের এক খুপড়িতে তুলতে চায়। আমার হাঁস-মুরগি, আমার ঘরের বারান্দা, ডোবা পুকুর, লাউ-বেগুনের গাছ কোই পাবো! রামনাবাদ চ্যানেল দিয়ে যখন শত শত বার্জে কয়লা আসবে, আমি তখন কি ইলিশ পাবো? আমি কি করে খাবো?? আমার সবকিছু কেড়ে নিয়ে কালো ধোঁয়ায় মারতে চায়! পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় গড়ে তোলা পায়রা বন্দরকে ঘিরে চারটি বিদ্যুতকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্যে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে হতাশ এলাকাবাসীর এমন আহাজারি গুমড়ে মরছে। গৌরাঙ্গ নন্দী, সিনিয়র সাংবাদিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.