মাথিন-ধীরাজের বিচ্ছেদ ছিল ভবিতব্যের অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ

মাথিন-ধীরাজের বিচ্ছেদ ছিল ভবিতব্যের অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ

কলাম ও ফিচার সাহিত্য
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
মাথিন-ধীরাজের বিচ্ছেদ ছিল ভবিতব্যের অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ

সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।। মাথিন-ধীরাজের বিচ্ছেদ ছিল ভবিতব্যের অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ।

পাঁজিয়া গাঁয়ের সাধারণ মানুষ কখনও দেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের পর্যটন নগরী কক্সবাজারের নাফ নদীর স্পর্শধন্য টেকনাফে যাননি। তবুও টেকনাফ’ তাঁদের কাছে একটি পরিচিত জনপদ। এই পরিচয় ছাপিয়ে তাঁদের হৃদয়ে আরও বেশি করে উজ্জ্বল উপস্থিতি নিয়ে অবস্থান করছে হতভাগী এক তরুনী মাথিনের নামটি।

মাথিনের জীবনের বিয়োগ গাঁথায় তাঁরা আবেগ আপ্লুত হন। অবশ্য তাই বলে মাথিনের সঙ্গে ‘প্রবঞ্চনাকারী’ তাঁদের নিজ গাঁয়ের সন্তান ধীরাজ ভট্রাচার্যকে তারা আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করান না। বরং ধীরাজ তাঁকে ভালবাসেন হৃদয়ের সমস্ত অর্ঘ দিয়ে। মনে করেন মাথিন-ধীরাজের বিচ্ছেদ ছিল ভবিতব্যের অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ।
ধীরাজের পরিবার চাইতেন তিনি হবেন ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু ধীরাজ তা হতে চাননি। তিনি কলকাতা থেকে পুলিশের চাকরি নিয়ে চলে যান অনেক দুরে। এক পর্যায়ে তিনি যোগ দেন টেকনাফ থানায়। সেখানে থাকার সময় থানা চত্ত্বরের একটি বাঁধানো কুয়া থেকে প্রতিদিন পানি নিতেন রাখাইন(মগ) তরুনীরা। এমনই এক তরুনী ছিলেন স্থানীয় বিত্তশালী ওয়াংথিন এর একমাত্র কন্যা মাথিন। তার সাথে গভীর ভালবাসায় জড়িয়ে পড়েন ধীরাজ। সিদ্ধান্ত নেন দু’জন সারা জীবনের সঙ্গী হবেন।
কিন্তু এরমধ্যে ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে ধীরাজের কাছে পত্র যায় তার বাবা শয্যাশায়ী। ধীরাজ মাথিনকে বিয়ে করে কলকাতা ফিরবেন, নাকি একাকী চলে আসবেন তা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্ধে থাকেন। এক পর্যায়ে ধীরাজ একাকী চলে আসেন কলকাতা। মাথিনের কাছে মনে হয়-এটা ধীরাজের তাঁকে ছেড়ে যাবার ছল-চাতুরি।
ধীরাজের প্রস্থান এবং বিয়োগ যন্ত্রণা সহ্য হয়নি মাথিনের। এ দিনের পর দিন খাওয়া থেকে বিরত থাকেন মাথিন। একদিন তার প্রেমের সর্বোচ্চ মুল্য দেন চিরতরে বিদায় নিয়ে। মাথিনকে আর তার প্রেমকে নিয়ে অনেক কাহিনী লেখা হয়েছে।
টেকনাথ থানা চত্ত্বরের সেই কুপটি আজও মাথিনের ব্যর্থ প্রেমের স্মারক হিসাবে রয়ে গেছে, যেটি দেখে অনেকে আজও অজান্তে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।
হতভাগা মাথিনের প্রতি করুনা জাগে তাঁদের। তখন হয়তো ধীরাজ ভট্রাচার্য তাঁদের কাছে এক প্রবঞ্চক প্রেমিক। তবে ধীরাজ নিজেও তাঁর প্রেমকে অস্বীকার করেননি। ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ গ্রন্থে তিনি অমর করে রেখেছেন মাথিনকে।  ভিজিট করুন

1 thought on “মাথিন-ধীরাজের বিচ্ছেদ ছিল ভবিতব্যের অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ

Comments are closed.