মান্দারডাঙ্গা মাজারের ইতিহাস

মান্দারডাঙ্গা মাজারের ইতিহাস

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।।  মাজারে দেওয়ার জন্য কেউ নিয়ে আসছে মুরগীর মাংস, কেউ খাসির, কেউ হাঁসের। ৩টি বড় হাড়ি পাশাপাশি রয়েছে। রান্না মাংস গুলো ওই সব পাত্রে রাখছে। এরপর ওই মাংস গোপনে চলে যাচ্ছে পাশের হোটেলে বিক্রির জন্য। যশোরের কেশবপুর উপজেলায়‘ মান্দারডাঙ্গা’ মাজারে নিজ চোখে দেখা।

মান্দারডাঙ্গা মাজারের ইতিহাস স্থানীয় মানুষের কাছে শুনলাম-‘মান্দার’নামের এক ব্যক্তি ছিলেন জন্মগত ভাবে রোগাটে, পেট মোটা, নানান রোগে আক্রান্ত হলে ওষুধেও ভাল হয়না তার রোগ। একদিন মান্দারের মা স্বপ্নে দেখেন, মাগুরাডাঙ্গায় যে স্থানে থান রয়েছে, সেখানে একটি বটগাছ লাগাতে হবে। সেই সাথে ওই গাছের গোড়ার মাটি নিয়ে মান্দারের গায়ে মাখাতে হবে এবং গাছের ডাল দিয়ে মাদুলি করে মান্দারকে দিলে সে ভাল হয়ে যাবে। সন্তানকে ভাল করার জন্য মান্দারের মা সেটিই করলেন। আর তাতেই নাকি মান্দার ভাল হয়ে যায়।

সেসময় ওই এলাকায় বসবাস করতেন জমিদার দত্ত বংশের লোক। তাদের একটি গাভী বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর মারা যায়। বর্তমানে যে পুকুরটি আছে ওই জায়গার নাম ছিল গো-ভাগাড় (মৃত গবাদি পশু ফেলবার স্থান), সেখানেই মৃত গাভীটি ফেলে আসে। কিন্তু ৩-৪ দিন পার হয়ে গেলেও কোন চিল বা শকুনে সেই মৃত গাভীটি খায় না। সেসময় নবজাতক বাছুরটিকে তার মৃত মায়ের কাছে খেতে যেতে দেখে মান্দার। যখন বাছুরটি ভাগাড়ে তার মায়ের কাছে দুধ খাওয়ার জন্য যায়, তখন মান্দার সেটি দেখে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মরা গাভীর পেটে গুতা দিয়ে বলে “ওঠ, উঠে দেখ তোর বাচ্চা এসেছে, তাকে দুধ খেতে দে।” মরা গাভীটা উঠে বাছুরকে দুধ খাওয়ায় এবং বেঁচে যায়। এই দৃশ্য দেখার পর দত্ত জমিদাররা ঢোল, বাজনা বাজিয়ে বটগাছের চারপাশে সাত পাক দিয়ে আনন্দ উল্লাস করে।

এই ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন মাগুরাডাঙ্গায় আসতে থাকে মান্দার এর কাছে। তখন মান্দার ওই বট গাছের গোড়াতে বসে দোমবন্ধ করে মানুষের যাবতীয় সমস্যার জন্য তেল, পানি, মাটি ও গাছের ডাল দিয়ে মাদুলি দিতে থাকে। দোমবন্ধ করে ফু দেওয়ার কারনে তার নাম হয় যায় “দমের মান্দার”।

মান্দার মারা যাওয়ার পর তার বংশের কেউ না থাকায় এই তদবিরের দায়িত্ব পায় তার ভাগনা হবুউল্লাহ। এই সব ঘটনা আনুমানিক ১০০ বছরে আগের। যা লোক মুখে শুনে এখনো দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন তাদের মনের আশা পূরণ হবে মনে করে মান্দারডাঙ্গার থানের ভক্ত হয়ে ছুটে চলে আসে।

বর্তমানে মাজারে ফকির হিসাবে আছেন জালাল ফকির (৬৩)। তিনি জানান, সপ্তাহে রবিবার ও বৃহস্পতিবার এই ২ দিন থানের বিশেষ দিন। এই ২ দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ভক্ত এই থানে আসেন।