মুক্তাগাছার মন্ড খেয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রানি এলিজাবেথ

মুক্তাগাছার মন্ড খেয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রানি এলিজাবেথ

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
মুক্তাগাছার মন্ড খেয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রানি এলিজাবেথ
সাজেদ রহমান।। সিনিয়র সাংবাদিক।। মুক্তাগাছার মন্ড খেয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রানি এলিজাবেথ। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জমিদার আচার্য চৌধুরী পরিবার মুক্তাগাছা শহরের গোড়াপত্তন করেছিলেন। আগে জায়গাটার নাম ছিল বিনোদবাড়ি।
জমিদার শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর চার ছেলে সেখানে বসতি স্থাপনের জন্য গেলে গ্রামের প্রজারা সাধ্যমত উপঢৌকন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। সেগুলির মধ্যে মুক্তারাম কর্মকারের দেওয়া একটি গাছা (পিতলের দীপাধার) সবথেকে মূল্যবান ছিল।মুক্তারামের ‘মুক্তা’ এবং তাঁর দেওয়া ‘গাছা’ একত্রিত করে জমিদারেরা বিনোদবাড়ির নতুন নাম রাখেন মুক্তাগাছা।
মন্ডার জন্য মুক্তাগাছা সুপ্রসিদ্ধ। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবী জুড়ে এই মিষ্টির খ্যাতি। দুধ আর চিনি দিয়ে মন্ডা বানানো হয়। তবে শীতকালে আরও এক ধরনের মন্ডা পাওয়া যায় মুক্তাগাছায়, যেগুলি চিনির বদলে গুড় দিয়ে তৈরি। বাংলাদেশের আর কোথাও এমন সুস্বাদু মন্ডা পাওয়া যায় না। মুক্তাগাছার মন্ডা প্রথম তৈরি করেছিলেন গোপালচন্দ্র পাল। জানা যায়, ১২০৬ বঙ্গাব্দে তিনি মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। নবাবা সিরাজউদদৌলার মৃত্যুর পর তিনি মুক্তাগাছা চলে যান ১২৩০ বঙ্গাব্দ নাগাদ। সেখানে প্রথম মন্ডা তৈরি হয় বাংলা ১২৩১ সন বা ইংরেজি ১৮২৪ সালে।
গোপাল পালের প্রথম মন্ডা তৈরি নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত আছে। তিনি নাকি এক রাতে স্বপ্ন দেখেন, শিয়রে দাঁড়িয়ে এক সন্ন্যাসী তাঁকে মন্ডা তৈরি করতে আদেশ দিচ্ছেন। তারপর কয়েক রাতে সন্ন্যাসী তাঁকে মন্ডা বানানোর পদ্ধতি শিখিয়ে দেন। শেষ নিয়মটি শেখানোর পর আশীর্বাদ করেন, “তুই এই মন্ডার জন্য অনেক খ্যাতি অর্জন করবি। তোর মন্ডার সুখ্যাতি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে।”
গোপাল তাঁর বানানো নতুন মিষ্টি পরিবেশন করেন মুক্তাগাছার জমিদার সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর দরবারে। খেয়ে তো জমিদার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠল গোপাল পালের মন্ডা। এখনও তাঁর বংশধরেরা মন্ডা তৈরি করেন। পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তাগাছার এক সভায় মন্ডা খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন। মন্ডার দোকানের মালিক কেদারনাথ পালকে বলেছিলেন, “পাল মশাই দেশ ছেড়ে যাবেন না, দেশ ভালো হবে।”
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়, পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি, প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আলাউদ্দিন খাঁ, রাশিয়ার কমরেড জোসেফ স্তালিন, চিনের কমরেড মাও সে তুং – অনেকেই মুগ্ধ হয়েছেন মুক্তাগাছার মিষ্টি খেয়ে।

1 thought on “মুক্তাগাছার মন্ড খেয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রানি এলিজাবেথ

Comments are closed.