মৃত তরুনীদের ধর্ষণ

মৃত তরুনীদের ধর্ষণ

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজধানী ঢাকার একটি মর্গে মুন্না ভগত (২০) নামের এক যুবক দিনের পর দিন মৃত তরুনীদের ধর্ষণ করত ! আর সে এই জঘন্য কাজটি করে আসছে টানা ৪ বছর ধরে। অবশেষে সিআইডি ডি এন এ পরীক্ষার মাধ্যমে বীভৎস মানুসিকতার মুন্নাকে গ্রেফতার করেছে।

লাশ কথাটি শুনলেই অনেকের মনে এক ধরণের ভীতি ভর করে। সারাজীবন কাছে থাকা মানুষটি মারাগেলে তার কাছেও আর কেউ থাকতে চায়না। একধরনের ভীতি যেন গ্রাস করে। আর মর্গের কথা শুনলেতো, অনেকের পিলে চমকে ওঠে!

কিন্তু এরপরও সত্য, কিছু মানুষ আছে যাদের দিনের বড় একটা সময় কাটে লাশের সাথেই। তারা হলেন ডোম। লাশ কাটা, ছেড়া এবং সেলাই দেয়া থেকে শুরু করে মর্গের আনুষঙ্গিক প্রায় সব কাজই তারাই করেন।

কিন্তু কেউ কী শুনেছেন মর্গে আশা তরুণীদের লাশ কেউ ধর্ষণ করে! অবাস্তব, ভীতিকর এবং বীভৎস হলেও সত্যি এমন ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকার একটি মর্গে। সেখানে লাশের পাহারাদার মুন্না ভগত (২০) নামের এক যুবক দিনের পর দিন তরুদের লাশ ধর্ষণ করেছে ! তাও দীর্ঘ ৪ বছর ধরে !

আত্মহত্যাসহ নানা কারণে মৃত্যুর শিকার যেসব তরুণীদের লাশ মর্গে রাখা হতো, এই মুন্না রাতের বেলায় তাদের ধর্ষণ করতো। সবাই যখন গভীর ঘুমে মগ্নথাকতো, মুন্না ভগত তখন মর্গে থাকা তরুণীদের মৃতদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতো।

কিন্তু অপরাধ করে যে পার পাওয়া যায়না। তাই মুন্না ভগতের বেলায় তার ব্যতিক্রম হয়নি। একেবারে লোকচক্ষুর অন্তরালে মানুষের ধারণার বাইরে অপরাধ করেও রক্ষা পায়নি সে। ধরা পড়েছে সিআইডির হাতে। সেই সাথে বেরিয়ে এসেছে তার ভয়াবহ, বীভৎস ও কদর্য কর্মকাণ্ডের খবর।

সিআইডি জানিয়েছে, রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গের ডোমের সহকারী হিসেবে কাজ করতো এই মুন্না। সে ওই হাসপাতালের মর্গের প্রধান ডোম জতন কুমার লালের ভাগ্নে। সরকারি কর্মচারী না হলেও জতন লালের ভাগ্নে হিসেবে মুন্না  ডোমের কাজে তাকে সহযোগিতা করতো। এক সময় সে রাতের বেলা মর্গে থাকা লাশ পাহারার দায়িত্ব পায় তার মামার কাছ থেকে। থাকতো মর্গের পাশেই একটি কক্ষে। আর সুযোগ বুঝে সে মর্গে আসা তরুণীদের লাশ ধর্ষণ করতে থাকে।

সিআইডি জানায়, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের ডোমের সহকারী হিসেবে ৪ বছর ধরে কাজ করে এই মুন্না। শুরু থেকে সে মর্গেই থাকতো। ময়নাতদন্তের আগে লাশ রাখা হতো মর্গে। রাতে সেই লাশ পাহারা দিত মুন্না। এই সুযোগটাই সে কাজে লাগিয়ে মর্গে আসা তরুণীদের লাশ ধর্ষণ করতো। সিআইডি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না তার জঘন্য অপকর্মের কথা স্বীকারও করেছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম ডিএনএ ল্যাব স্থাপিত হয়। এই ল্যাব স্থাপনের পর থেকে ধর্ষণ ও হত্যাসহ আদালতের নির্দেশে প্রেরিত সব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা ও প্রোফাইল তৈরি করে সিআইডি। গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ কয়েকটি নমুনা পাঠিয়েছিল সিআইডিকে। সেখানে মৃত এক নারীর এইচভিএসে পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিষয়টি অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করার চেষ্টা করেন সিআইডি।

সিআইডির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কোডিস (CODIS) সফটওয়্যার সার্চ দিয়ে দেখি মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনায় প্রাপ্ত ডিএনএ’র প্রোফাইলের সঙ্গে একই ব্যক্তির ডিএনএ বারবার ম্যাচ করছে। যা ছিল অস্বাভাবিক । তখন থেকেই আমারা ধারণা করি, একজন ব্যক্তির কারণেই এসব ধর্ষণ, ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা অথবা ধর্ষণজনিত কারণে আত্মহত্যার ঘটনাগুলো ঘটেছে। কিন্তু মরদেহগুলোতে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ’

সিআইডি সূত্র আরো জানায়, ডোমের সহযোগী মুন্না ভগত দীর্ঘ ৩/৪ বছর ধরে এই কাজ করেছে। রাতে সে মর্গেই ঘুমাতো। রাতে ওই হাসপাতালে আসা লাশ সেই পাহারা দিতো। রাতে কোনো তরুণীর লাশ আসলেই সে মেতে উঠতো বিকৃত যৌনাচারে। আত্মহত্যাকারী ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী মেয়েরাই ছিল এই মুন্নার বিকৃত যৌন লালসা শিকার।

সিআইডির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তখন আমার ভাবতে শুরু করি, কোনও না কোনোভাবে ভিকটিমদের মৃতদেহের সাথে কোনও একই ব্যক্তির বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ হয়েছে। প্রতিটি মৃতদেহ মর্গে আনার পর তার মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। সব লাশই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়। সেখানে বেশ কয়েকজন ডোম নিয়মিত পাহারা দিতো।

কিন্তু এই লাশগুলোর ক্ষেত্রে একজন ডোম সহকারী নিয়মিত ডিউটিতে থাকতো। এজন্য প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে সন্দেহ করি। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়। বাইরে নিয়ে গিয়ে কথা বলার নামে, চা খাওয়ার ছলে তার ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়। সেটা সিআইডি ল্যাবে নিয়ে বিশ্লেষণ করলে ৬ তরুণীর মরদেহের ডিএনএ’র সঙ্গে মিলে যায়। তখন শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। তবে মুন্না বিষয়টি বুঝতে পেরে গাঢাকা দেয়।’

২০ নভেম্বর সিআইডি সদর দফতর থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ৬ মৃত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের ডোম সহকারী মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুন্নার ডিএনএ প্রোফাইল মিলে যাওয়ায় মৃতদেহের ওপর সে যে বিকৃত যৌনাচারের করেছে সেটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণও হয়েছে। ব্রিফিংয়ে সিআইডি আরও জানায়, আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।

মৃতদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা একটি মানসিক রোগ বলে জানিয়েছেন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা। এই ধরনের রোগকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়ে থাকে নেক্রোফিলিয়া। আটক মুন্না এই রোগে আক্রান্তকিনা সেটা এখন দেখার বিষয়। সুত্র-নিউজ৩।  কলকাতা রাজচন্দ্র দাসের ঘাট

1 thought on “মৃত তরুনীদের ধর্ষণ

Comments are closed.