ডায়মন্ড ক্লাব

যশোরের ডায়মন্ড ক্লাব

খেলা কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।।  যশোরে ‘ডায়নমন্ড ক্লাব’ ছিল এক সময় অন্যতম নাম। ডায়মন্ড ক্লাবের পূর্বে ‘কুদ্দুস মেমোরিয়াল ক্লাব এর অস্তিত্ব ছিল। ‘ডায়মন্ড ক্লাবের অস্তিত্ব বিকাশে পূর্বেই বিলুপ্ত হয়। মশাল সম্প্রদায় নামে একটা যুব সংগঠন ছিল। কিন্তু ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে দেশে সামরিক আইন জারির ফলে এই সংগঠনটি বিলুপ্ত হয়।

সংগঠনটি প্রধানত: স্থানীয় যুবকদের দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত। এই সংগঠনের সাইনবোর্ডে একটি হাত জ¦লন্ত মশাল ধরে আছে, আঁকা ছিল। সামরিক আইন জারি হওয়ার ফলে ক্লাবের যুবকরা পুলিশী হয়রানির ভয়ে ভীত হয়ে সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলে এবং সংগঠনটির মৃত্যু ঘটে।

এরপর গঠিত হয় ‘ডায়মন্ড ক্লাব’। সৈয়দ মঞ্জুরে আলম একজন জুতার দোকানের কর্মচারি ছিলেন। তিনি মঞ্জু নামেই পরিচিত ছিলেন। শুক্রবার দোকান এবং স্কুল বন্ধ থাকায় স্থানীয় তরুণ, ছাত্র এবং দোকান কর্মচারিদের নিয়ে ফুটবল খেলতেন। কখনও টাউন ক্লাব মাঠে, কখনও নিয়াজ পার্কে, কখনও জলকলের মাঠে (বর্তমান পৌর পার্ক) মঞ্জু মিয়া ছেলেদের নিয়ে সকাল বেলা অনুশীলন করতেন। তিনি বল কেনা থেকে আরম্ভ করে খেলোয়াড়দের যাবতীয় খরচাদি বহন করতেন।

ক্লাবের কর্মকর্তা বলতে তিনিই ছিলেন। অন্যটিমের সাথে খেলতে গেলে দলের একটা নাম দরকার। ছেলেরা সব মঞ্জু মিয়াকে ধরলো টিমের একটা নাম দিতে হবে। মঞ্জু মিয়া যে দোকানে চাকরি করতেন, সে দোকানের মালিকের ডায়মন্ড সু ফ্যাক্টরির সঙ্গে ব্যবসা ছিল। সেজন্য সমস্ত জুতার বাক্্ের ডায়মন্ড সু মার্কা ছিল। যেহেতু মঞ্জু মিয়া জুতার দোকানের কর্মচারি এবং ‘ডায়মন্ড’ নামটা ঘুরে ফিরে আসতে লাগলো। তিনি ছেলেদের বললেন, ‘ আমি আমাদের ক্লাবের নাম ‘ডায়মন্ড ক্লাব’ রাখতে চাই। তোমাদের যদি পছন্দ হয় তবে ওই নামই থাকবে।’ ছেলেরা নামটি লুফে নিল। কারণ মুল্যবান পাথরের মতই তাদের নাম উজ্জ্বল হবে।

মনোময় বানার্জি মোহনগঞ্জ পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। তিনি স্যার নামে পরিচিতি ছিলেন। তিনি ডায়মন্ড ক্লাবের তরুণ ফুটবল খেলোয়াড় এবং স্থানীয় আরও কিছু ছাত্রদের নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। ছেলেরা খুব উৎসাহিত হলো। শুরু হলো মহড়া। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে মোহনগঞ্জ পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডায়মন্ড ক্লাবের ব্যানারে কালী স্যারের পরিচালনায় ‘১৪ আগস্ট’ ও ‘সোনার মেডেল’ নাটক দুটি মঞ্চস্থ হয়।

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত ফুটবল লীগ খুব জাঁকজমকের সঙ্গে পরিচালিত হতো। টাউন ক্লাব, এভারগ্রীন ক্লাব, ইষ্টবেঙ্গল ক্লাব, পুলিশ ক্লাব, এম এম কলেজ, ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব, যশোর কালেক্টরেট ক্লাব প্রভৃতি ক্লাব যশোর ফুটবল লীগে অংশ গ্রহণ করতো। ডায়মন্ড ক্লাবের ফুটবল খেলোয়াড়রা মনে করলো তারা ফুটবল লীগে অংশ গ্রহণ করবে। লীগ খেলতে গেলে ক্লাবের একটি সাংবিধানিক কমিটি থাকতে হবে। ক্লাবের এই সাংবিধানিক রুপ দিতে এগিয়ে আসেন কালীপদ দাস।

তিনি ছিলেন একজন নাট্যকার, সাহিত্যিক এবং অভিনেতা। তিনি যশোর ইন্সটিউিটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি তরুণদের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ৬ আগস্ট একসভা আহবান করেন। ওই সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। স্থানীয় ২২ জন তরুণের উপস্থিতিতে ডায়মন্ড ক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরি করা হয়। ক্রীড়া, সাহিত্য, জণকল্যাণ ও নাট্য চারটি বিভাগ। সৈয়দ মঞ্জুরে আলম মঞ্জু সভাপতি এবং কালীপদ দাসকে প্রধান সম্পাদক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি তৈরি করা হয়। কমিটিতে আরও ছিলেন ওলিয়ার রহমান, হায়দার আলী, সৈয়দ সিদ্দিক হোসেন, সুধাংশু কুমার ঘোষাল, সিরাজুল ইসলাম, নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার, কাজী আতাউল হক, নীলরতন ঘোষ, অধীর কুমার দত্ত, সন্তোষ কুমার দে, নিরঞ্জন মিস্ত্রি, একরামুল হক, রবিউল ইসলাম, মীর ফজলুর রহমান, এই কমিটির ৩/৪ জন ছাড়া বাকী সবাই তরুণ।